Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

অপপ্রচারে কোটি টাকার মিশন ॥ দুষ্ট চক্র সক্রিয় আনিসুল হকের বাবা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না

অপপ্রচারে কোটি টাকার মিশন ॥ দুষ্ট চক্র সক্রিয় আনিসুল হকের বাবা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না

Closed

0020230
প্রতিবেদক : আনিসুল হককে হঠাতে হবে, যেভাবেই হোক। এ যেন রাজনীতির দুষ্ট চক্রের একমাত্র এজেন্ডা। শুরু হয়েছে নানাবিধ ষড়যন্ত্র। খোদ আওয়ামীলীগের একটি অংশ, সাথে বিরোধী দলতো রয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে যে ব্যক্তিটির চরিত্রে বিন্দুমাত্র কালিমাও ছিল না আজ জনগণের সুখ দুঃখের সাথী হতে এসে আনিসুল হকের পিতৃ পরিচয় নিয়েও টানা হেঁছড়া চলছে। গতকাল জাতির কাছে রাজাকারনামা হিসেবে পরিচিত ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদে দেশবাসীর সাথে নোয়াখালীবাসীও স্তম্ভিত। পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে “আনিসুল হকের বাবা একেএম জহিরুল হক যুদ্ধাপরাধী এবং শীর্ষ রাজাকার”। এ সংবাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সারা দেশে। আনিসুল হকের নিজ উপজেলা কবিরহাটে সর্বস্তরের জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কবিরহাট পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হানের নেতৃত্বে অগ্নি সংযোগ করা হয় ইনকিলাব পত্রিকায়। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, একেএম জহিরুল হক নামে কেউ আনিসুল হকের বাবাতো দূরের কথা চৌদ্দগোষ্ঠিতেও নেই। তার বাবার নাম শরীফুল হক। ইনকিলাব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করে। উল্লেখিত দু’কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থে এমন কোন কথা বলেছেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। তবে ইনকিলাবের প্রকাশিত সংবাদ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে যারা আনিসুল হকের বাবাকে নিয়ে তদন্ত করেছেন তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সচেতন মহল মনে করে আন্তর্জাতিক মানের একটি তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রাক্কালে একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর পিতৃ পরিচয় নিয়ে টানাটানি করবে কেন? একে এম জহিরুল হক আনিসুল হকের বাবা নয়। তাহলে ট্রামকার্ডের এই জহিরুল হক কে? কবিরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক ও কবিরহাট পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হান প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, আনিসুল হকের বাবা শরীফুল হক। তিনি পৌরসভার একজন তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা। যারা মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দা একেএম জহিরুল হককে আনিসুল হকের বাবা হিসাবে চিহ্নিত করে তাহলে বুঝতে হবে এটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ। একই অভিমত প্রকাশ করেন কবিরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমি। তিনি বলেন, কোন দেশে আছি আমরা। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে যারা রাজাকারের সন্তান বানানোর মিশনে নেমেছে তাদের উদ্দেশ্য যে সৎ নয় তা দিবালোকের মত পরিষ্কার। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামীকাল হয়ত দেখবেন পত্রিকাটি লিখে বসবে আনিসুল হকের বাবা পাকিস্তানী। সেই সুবাধে আনিসুল হক বাংলাদেশেরই নাগরিকই না। কবিরহাট উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী নোয়াখালী প্রতিদিনকে বলেন, আনিসুল হক সাহেবের পিতা শরীফুল হক একজন সমাজসেবক। তিনি রাজাকার কিংবা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না। এসব অপপ্রচার মাত্র। কবিরহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জসিম চৌধুরী বলেন, আনিসুল হকের বাবা শরীফুল হক ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা এসব অপপ্রচার চালায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন ও কবিরহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ওবাদুল হক নোয়াখালী প্রতিদিনকে বলেন, আনিসুল হকের বাবা শরীফুল হক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জনপ্রিয় সমাজসেবক। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এরকম ডাহা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন বিশেষ মহলের উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। কবিরহাট পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন, আনিসুল হকের বাবা শরীফুল হক। তিনি রাজাকার ছিলেন এমন তথ্য আমার জানা নাই।
বিজ্ঞজনের মতে, এটা দিবালোকের মত সত্য যে আনিসুল হককে নিয়ে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে একটি বিশেষ মহল কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ রেখেছে অপপ্রচার প্রপাকন্ডা চালাতে। এমন অভিযোগ আনিসুল হকের ঘনিষ্টজনদের।

Previous
Next