Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

আতাউর রহমান ভূইয়া মানিক ২য় বারের মত সেরা করদাতা হলেন

আতাউর রহমান ভূইয়া মানিক ২য় বারের মত সেরা করদাতা হলেন

Closed

 

বিশেষ প্রতিবেদক ; জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্য থেকে সেরা করদাতাদের চিহ্নিত করে গত রবিবার গেজেট জারি করেছে । ব্যক্তিপর্যায়ে বিশেষ শ্রেণিতে ২৩ জনসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের মোট ৭৬ জন এবং কম্পানি পর্যায়ে ৫৭টি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য আটটিসহ মোট ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্সকার্ড দেবে এনবিআর।এবারেও ২য় বারের মত সেরা করদাতার তালিকায় অন্যান্য ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিলেন তমা কন্সট্রাকশন । প্রতিষ্ঠান টির কর্ণধার নোয়াখালীর কৃতিসন্তান আতাউর রহমান ভূইয়া মানিক আগামীকাল ট্যাক্সকার্ড গ্রহন করবেন ।

এদিকে সেখানে সেরা করদাতাদের ট্যাক্সকার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। পেশার বাইরে বিশেষ শ্রেণি ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা প্রতিষ্ঠানও জায়গা পেয়েছে তাতে। এভাবে সুনির্দিষ্টভাবে সেরা করদাতা চিহ্নিত করে তাঁদের ট্যাক্সকার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

অন্যদিকে,বাংলাদেশে অন্যতম কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী বেশ আনন্দ প্রকাশ করেছেন। কারণ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে যে তিনজনকে সেরা করদাতার স্বীকৃতি দিয়েছে, তার মধ্যে তাঁর নামটিও রয়েছে। টাকার অঙ্কে খুব বেশি কর যে তিনি দিয়েছেন তা নয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে আয়কর পরিশোধ করে আসছেন এই শিল্পী। রাষ্ট্রের কাছ থেকে সেরা করদাতার সম্মাননা পাওয়ায় তৃপ্তির অহংকারে ভরে উঠছে এই শিল্পীর মন।

একই অবস্থা প্রথিতযশা চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণগোপাল দত্তেরও। সঠিকভাবে আয়কর দেওয়াকে নিজের দায়িত্ব বলে মানেন এই চিকিৎসক। তার স্বীকৃতিও পাচ্ছেন গত ১০-১৫ বছর ধরে। প্রায়ই সেরা করদাতাদের মধ্যে উঠে আসে তাঁর নাম। এবার তিনি পেয়েছেন চিকিৎসকদের মধ্যে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা।

এছাড়া জেলাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও দীর্ঘসময় আয়কর দেওয়া করদাতাদের পুরস্কার প্রদান নীতিমালা, ২০০৮ এর বিধান অনুযায়ী আরও ৫১৭ জন করদাতার নাম প্রকাশ করেছে এনবিআর। এরমধ্যে ৩৭০ জন সর্বোচ্চ করদাতা এবং ১৪৭ জন দীর্ঘসময় ধরে আয়কর দেন।

এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি বিকাশের অংশ হিসেবে এনবিআর কাজ করছে। আমরা সব সময়ই প্রকৃত করদাতাদের উৎসাহী করছি। বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যাতে কর দিতে আরো আগ্রহী হয়, সে জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

চিকিৎসকদের মধ্যে সেরা করদাতা প্রাণগোপাল দত্ত বলেন, ‘গত ১০-১৫ বছর ধরেই আমি সেরা করদাতা হচ্ছি। আমি চেষ্টা করি সঠিকভাবে আমার আয়কর পরিশোধ করতে। সরকার তার স্বীকৃতি দিয়েছে।’

চিকিৎসকদের মধ্যে অন্য সেরা করদাতারা হলেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান ও ডা. সৈয়দ সাইদ আহমেদ। গুলশানের চিকিৎসক ডা. নিয়াজ আব্দুর রহমানও আছেন এ তালিকায়।

খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় অবস্থানে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তৃতীয় সর্বোচ্চ করদাতা। কর প্রদান প্রসঙ্গে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, ‘সবারই কর্তব্য সঠিকভাবে কর দেওয়া। আমি একজন নাগরিক হিসেবে সঠিকভাবে কর দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেকেই নিয়ম মেনে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি কর দেন, যাঁদের আয় অনেক বেশি।’

অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা সুবর্ণা মুস্তাফা, আফজাল হোসেন ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমি নাগরিকবোধ থেকে নিয়ম-কানুন মেনে কর দেই। আমি মনে করি, কর দেওয়া আমার দায়িত্ব।’

গায়ক-গায়িকা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সুবীর নন্দী ও শাহিন সামাদ। সুবীর নন্দী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে কর দেই। পরিমাণে যে খুব বেশি দেই, তা নয়। তবুও এবার যে স্বীকৃতি পেয়েছি, তা বড়ই সম্মানের, অহংকারের। এটি আমার জন্য বিশাল পাওয়া।’

আইনজীবীদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ ছাড়া আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, কাজী মোহা. তানজীবুল আলম ও ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আছেন সেরা করদাতা আইনজীবীদের মধ্যে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে সবারই কর দেওয়া উচিত। দেশ ভালোভাবে চললে আমরাও ভালো থাকব। আর দেশকে ভালো রাখার মূল চালিকাশক্তি অর্থ দিতে হবে নাগরিকদেরই।’

ব্যবসায়ী : সেরা করদাতা হয়েছেন জর্দা ব্যবসায়ী হাজি মো. কাউছ মিয়া। এ ছাড়া রয়েছেন কামরুল আশরাফ খান, সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, নরসিংদীর ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির মোল্লা ও সাভারের আসলাম সেরনিয়াবাত।

বেতনভোগী চাকরিজীবী : ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের খাজা তাজমহল, ঢাকার কলাবাগানের এম এ হায়দার হোসেন, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মোহাম্মদ ইউসুফ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন ও গুলশানের আব্দুল মুক্তাদির।

সাংবাদিক : সাংবাদিকদের মধ্যে সেরা করদাতা দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ভোলার মো. আব্দুল আহাদ চৌধুরী তুহিন ও সাভারের মো. জাহিদুর রহমান।

প্রকৌশলী : ধানমণ্ডির মো. আব্দুল ওদুদ, গুলশানের মো. আব্দুল মোক্তাদির ও তেজগাঁওয়ের মো. কবির আহমেদ ভূঞা।

স্থপতি : ধানমণ্ডির মো. রফিক আজম, তেজগাঁওয়ের মো. ইকবাল হাবিব ও লালমাটিয়ার মো. হাসান শামস উদ্দিন।

অ্যাকাউন্ট্যান্ট : গুলশানের ফেরদৌস আহমেদ খান, উত্তরার জাকের আহমেদ ও বনানী ডিওএইচএসের নিয়াম মোহাম্মদ।

নতুন করদাতা : নতুন করদাতাদের মধ্যে সেরা করদাতা হলেন ঢাকার দক্ষিণখানের সুলতান মাহমুদ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বশির উদ্দিন, উত্তরার মোহাম্মদ আরমান, ঢাকার মোল্লারটেকের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ইসহাক, কোটবাড়ী ফায়দাবাদের মোহাম্মদ উল্লাহ, সিলেটের শাহজালাল উপশহরের আব্দুল কাইয়ুম (পিনু) ও ঢাকার মিরপুর মাজার রোডের রাফাত কায়সার।

অন্যান্য ক্যাটাগরি : ঢাকার ওল্ড ডিওএইচএসের সাহাবুদ্দিন আহমেদ, গুলশানের নাজমুল হক ও পশ্চিম ধানমণ্ডির আনোয়ার হোসেন।

বিশেষ শ্রেণি : বিশেষ শ্রেণির মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৩ জন ট্যাক্সকার্ড পাবেন। এদের মধ্যে সিনিয়র সিটিজেন (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে) হিসেবে ট্রান্সকম গ্রুপের মালিক লতিফুর রহমান, চট্টগ্রামের সদরউদ্দিন খান, গুলশানের অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম, গেণ্ডারিয়ার ফজলুর রহমান এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রয়েছেন।

ব্যাংকিং : স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি), জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

অ-ব্যাংকিং আর্থিক : ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেড (ইডকল), আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

টেলিকমিউনিকেশন : সর্বোচ্চ করদাতা  গ্রামীণফোন লিমিটেড।

প্রকৌশলী খাত : পিএইচপি কোল্ড রোলিং মিলস, বিএসআরএম স্টিলস ও আবুল খায়ের স্টিল প্রোডাক্টস।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত : নেসলে বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ট্রান্সকম বেভারেজ।

জ্বালানি খাত : তিতাস গ্যাস (টিঅ্যান্ডডি) কম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস ও বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানি।

পাটশিল্প : জনতা জুট মিলস, রাজবাড়ী জুট মিলস ও আইয়ান জুট মিলস।

স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাত : স্কয়ার টেক্সটাইলস, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস, কোটস বাংলাদেশ, বাদশা টেক্সটাইলস, জিএমএস কম্পোজিট নিটি ইন্ডাস্ট্রিজ ও সায়হাম কটন মিলস।

ওষুধ ও রসায়ন খাত : ইউনিলিভার বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া : মিডিয়া স্টার লিমিটেড, ট্রান্সক্রাফট লিমিটেড, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড ও মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লিমিটেড।

রিয়েল এস্টেট খাত : বে ডেভেলপমেন্টস্, এসএস বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপারস, স্পেস জিরো লিমিটেড।

তৈরি পোশাক : ইয়াংওয়ান হাইটেক স্পোর্টস্ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ, রিফাত গার্মেন্টস, প্যাসিফিক জিন্স, রিং সাইন টেক্সটাইলস, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ, দ্যাটস ইট স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেড ও সিম ফেব্রিক্স লিমিটেড।

চামড়া শিল্প : লালমাই ফুটওয়্যার, এপেক্স ট্যানারি ও এটলাস ফুটওয়্যার।

অন্যান্য খাত : ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে ঢাকা দিলকুশার মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, মহাখালীর নিউ ডিওএইচএসের লে. জে. (অব.) এ এস এম নাসিম, জামালপুর সদরের মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ, রাজশাহীর মতিহার থানার ডা. এম শামসুল আলম ও কুষ্টিয়ার এনএস রোডের মো. মতিউর রহমান। ৪০ বছর বয়সের নিচে তরুণ করদাতাদের মধ্যে রয়েছেন গুলশানের মো. নাফিজ সিকদার, কদমতলীর গাজী গোলাম মর্তুজা, গুলশানের আব্দুল মোসাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রামের গোলাম মোস্তফা হায়দার ও সিলেটের এ কে এম আতাউল করিম

Previous
Next