Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

আমরা ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছি ?

Closed

দার্শনিক প্লেটো তার বিখ্যাত সৃষ্টি ‘ঞযব জবঢ়ঁনষরপ’ গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্রের রূপ রেখার বর্ণনা দিয়েছেন । সে বর্ণনার এক পর্যায়ে তিনি আদর্শ রাষ্ট্রের নারী-পুরুষের সম্পর্ক নির্ধারণ করে তিনি বলেছেন, নারী-পুরুষ পরস্পরকে আপনি বলে সম্বোধন করবে । তার প্রণীত তত্ত্বের আরও বিভিন্ন কারণে যদিও সমালোচকরা তার আদর্শ রাষ্ট্র বিষয়ক ধারণার ব্যাপক সমালোচনা করেছে এবং আদর্শ রাষ্ট্র বিষয়ক তার সমগ্র চিন্তাকে কাল্পনিক বলে হাসির খোরাকি বানিয়েছে । প্লেটো তার সমালোচকদের সমালোচনা বন্ধ করতে পারেনি কেননা তিনি দু’বার চেষ্টা করেও আদর্শ রাষ্ট্রের ভিত্তি দাঁড় করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন । চরম সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও আদর্শ রাষ্ট্রের যে নীতিমালা তিনি সুপারিশ করেছিলেন তার মধ্যে নারী-পুরুষের পারিস্পারিক সম্মান-শ্রদ্ধা বিষয়ক আদর্শের চরম অনুপস্থিতি আজকের এই সমাজে । পারস্পরিক সম্মান তো দূরের কথা ন্যূণতম সদাচারণের ক্ষেত্রটিও দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে । পরস্পরের দিকে ছুঁড়ে দেয়া অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য বাক্যগুলো আমাদের নীচতার প্রমান দিচ্ছে । পারস্পরিক সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে পুরুষের দায়টা অনেক বেশি তবে নারীর কিছু আচরণ একেবারে উপেক্ষা করার মত নয় ।
সমস্যা হচ্ছে মানুষের বিবেচনা বোধে । বাস্তব জগতে নিয়ন্ত্রন করছে ভার্চুয়াল জগৎ এবং সবচেয়ে বেশি নৈতিক অধঃপতনের শুরুটাও এখান থেকে । ইন্টারনেটে রক্ত সম্পর্কীয় বন্ধন বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে যা প্রদর্শিত হয় তার অধিকাংশ দেখে বিবেকবান ও রুচি সম্পর্কীয় মানুষ মাটির নিচে লুকিয়ে যেত যদি মানুষের সে ক্ষমতা থাকত । পুরুষদের মধ্যে এক শ্রেণীর এমন অধঃপতন ঘটেছে যাতে তারা নারীকূলের প্রায় সবাই স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা মনে করে । পথে ঘাটে তাদের বাক্য শুনলে নতুন করে ভাবতে হয় কোন সমাজে বাস করছি ! নারীদের একাংশ যখন পুরুষের এমন মৌখিক অশ্লীলতার প্রতিবাদ না করে আরও প্রশ্রয় দেয় তখন দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না । তবে কি আমাদের সমাজের সুসভ্যতা অসভ্যতা কিংবা কুসভ্যতার দিকে ধাবিত হচ্ছে । অবশ্য মানুষের আচরণ দেখলে বিশ্বকোষে সুসভ্যতার সংজ্ঞা নতুন করে তালাশ করতে ইচ্ছা জাগে ।
আমরা মানুষ এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব । আমাদের আচরণের কারণে যদি আমরা একবার শ্রেষ্ঠত্ব হারাই তবে সে শ্রেষ্ঠত্ব আর উদ্ধার করার ক্ষমতা বোধহয় আমাদের থাকবে না । বর্তমান সময়ে আমরা ভালো কাজের প্রতিযোগীতা বাদ দিয়ে উল্টোভাবে কতটা হীনমন্যতা দেখাতে পারি তার প্রতিযোগিতা করছি । রাস্তায় আমাদের মা-বোনরা ভদ্রভাবে চলাচল করতে পারছে না । অভদ্রদের ভীড় কেবল বেড়েই চলছে । এদের দমনে আইন প্রয়োগকারীরা এবং সমাজের চালকেরা কেবল ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে । আমরা না পারছি অভদ্র হয়ে অন্য অভদ্রদের দমন করতে আবার না পারছি সুন্দরভাবে চলতে । যে পুরুষের হাতগুলো ভীড়ের মধ্যে নারীর দেহ তালাশ করে সেই পুরুষদের শাস্তি এই সমাজে প্রচলিত কোন আইন দিতে পারবে বলে মনে হয়না কিন্তু এদেরেকে নৈতিক চিকিৎসা কোন পদ্ধতিতে দিলে তাতে সমাজ উপকৃত হবে তাও জানা নাই । পারিবারিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে আজ আমরা যুগের এমন এক সন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়েছে যেখানে উঁহু বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছি । প্রতিবাদ করলেই আঘাত পেতে হয় । নেশাজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতা মানুষকে অমানুষ করে দিচ্ছে এবং এর কারণে দিন দিন বিশ্ঙ্খৃলতা বেড়েই চলছে । বিশৃঙ্খলার বর্ধিত পরিমান আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে, এ সমাজ ক্রমাগত সভ্যদের বাস অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে । সংস্কৃতির নামে যে অপসংস্কৃতির চর্চায় মগ্ন হয়েছি তা আমাদেরকে অশ্লীলতা ও অসভ্যতায় গুরু পদাধিকারী বানাচ্ছে । আধুনিকতার নামে আমরা বেহায়পনার গভীর সাগরে ডুবে ডুবে মরছি আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের মা-বোনদেরকে । কেউ কোথাও নিরাপদে নাই । সুক্ষ্ম বিশ্লেষণে হয়ত দায়টা সমভাবেই বর্তাবে কিন্তু আপাতত পুরুষের দায়টা অনেক বেশি । আমাদের আচরণ আমাদের এতটা নিচে নামিয়ে দিচ্ছে যাতে মনে হচ্ছে আমরা দিন দিন ক্ষদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছি । জৈববৃত্তি যখন মানবৃত্তির শ্রেষ্ঠত্ব দখলে প্রতিযোগীতায় নেমেছে তখন অধঃপতন ঠেকাতে পারবে এমন সাধ্য কার ? ভদ্রভাবে বেঁচে থাকার কিংবা বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে । অসভ্যদের ভীড়ে সভ্যদের শেষ সম্বলটুকুও খড়কুটোর মত ভেসে যাচ্ছে দূর-বহুদূর ।

Previous
Next