Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

একই চেম্বারে ৪ ভুয়া ডাক্তার

একই চেম্বারে ৪ ভুয়া ডাক্তার

Closed

Doctor copy
প্রতিবেদক
একই চেম্বারে বসেন ৪ জন ডাক্তার। তারা সবাই ভুয়া ডাক্তার। দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ জনগনকে ধোকা দিয়ে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন তারা। প্রতিদিনই তাদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কোন না কোন নিরীহ মানুষ। কিন্তুু তিনি তো জানেন না। এরা যে ডাক্তার নয়। চটকদারি সাইনবোর্ড, সুদৃশ্য চেম্বার আর বিভিন্ন ডিগ্রিতে লেখা ভিজিটিং কার্ড দেখে সাধারণ মানুষতো দুরের কথা সচেতনরাও চিনতে পারবেন না। আর এদের প্রতারণার কারণে প্রকৃত পেশাদারিরাও পড়ছেন পেশাদারিত্বের সংকটে। অনুসন্ধানে এমন বহু ভুয়া ডাক্তারের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সরে জমিনে বেগমগঞ্জের একলাশপুর বাজারের দক্ষিণ মাথার পূর্ব দিকে ভিআইপি রোডের মান্নান সুপার মার্কেটের নিচতলায় রাহাত হোমিও হল। বেশ আড়ম্বর ও সুদৃশ্য একটি চেম্বার। এ চেম্বারে নিয়মিত বসেন ডা. মো. শাহেদুল ইসলাম শাহেদ-ডি.এইচ.এম.এস (বি.এইচ.বি) ঢাকা। তিনি ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক, টিউমার ইত্যাদিসহ মা ও শিশুদের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। এই চেম্বারেই প্রতি শুক্রবার বসেন তার বড় ভাই ডাক্তার মোহাম্মদ জাবের। তিনিও ডি.এইচ.এম.এস,ঢাকা, বি.এইচ. বি, ঢাকা থেকে পাশ করা। শুক্রবার ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ডা. জাবের নিয়মিত বসেন বেগমগঞ্জের চৌরাস্তায় জেলা পরিষদ মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত রাহাত হোমিও হলের আরেকটি শাখা চেম্বারে। এ চেম্বারে নিয়মিয় বসেন ডা. তানজিনা সুলতানা। তিনিও বিএসসি, ডি.এইচ.এম.এস,ঢাকা, বিএইচবি ঢাকা পাশ করেছেন। ডা. জাবের ও শাহেদের আরেক ভাই ডি.এইচ.এম.এস,ঢাকা, বিএইচবি ঢাকা পাশ করা ডা. ফারুকও বিভিন্ন সময়ে চেম্বার করেন। কিন্তু তারা কেউ ডাক্তার নয় এবং উল্লিখিত ডিগ্রিগুলো ভুয়া। তারা কেবল মাত্র হোমিওপ্যাথিকে পড়াশুনা করছেন। সূত্র জানায়, ডা.জাবের, ডা.শাহেদ ও ডা. ফারুক আপন তিন ভাই। তারা তিনজনই চৌমুহনীস্থ নোয়াখালী এম.এ রমহান হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এ ছাড়া তানজিনা সুলতানা তিনি চতুর্থবর্ষ শেষ করলেও এখনও সনদ পাননি। অথচ চারজনই দীর্ঘদিন থেকে ডাক্তার সেজে বসে আছেন।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষাথীর্কে ৪ বছরের ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি (ডি.এইচ.এম.এম) পরীক্ষা পাশ করার পর সনদ এবং ৬ মাসের ইর্ন্টানি সম্পন্ন করার পর সনদ দেয়া হয়। উক্ত সনদগুলো ও নির্দিষ্ট ফি জমা দেয়ার পর বাংলাদেশ হোমিও প্যাথিক বোর্ড (বি.এইচ.বি) বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেজিস্ট্রেশন সনদ দেয়া হয়। রেজি.নম্বরসহ উক্ত সনদ পাওয়ার পর চিকিৎসা করার বা ডাক্তার পদবী ব্যবহার করার যোগ্যতা লাভ করেন। এরপর কেউ চেম্বার দিতে হলে তাকে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশান সনদের অনুকূলে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু এসব নিয়মনীতিরি তোয়াক্কা না করে তারা দীর্ঘদিন থেকে প্রতারণ করে আসছেন। জেলা ড্রাগ সুপারের অফিস সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীতে রাহাত হোমিও হল নামে কোন ড্রাগ লাইসেন্স নেই। লক্ষীপুর আর.এন.হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. মো. বনী আমীন শরীফ জানান, পড়ালেখা ছাড়া যত্রতত্র চেম্বার দিয়ে নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করে এবং ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে মানুষের সাথে একদিকে যেমনি প্রতারণা করছে অন্যদিকে পেশাদার ডাক্তারদের পেশাকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এরা। তাই এদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। নোয়াখালী জেনারেল হাসতাপালের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তালেব জানান, হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ডি.এইচ.এম.এস পাশ করার পর, ইর্ন্টানি পাশ কওে রেজি. সনদ পাওয়ার পর ডাক্তার পদবিটি ব্যবহার করতে পারবেন। এরপূর্বে কেউ ব্যবহার করলে সেটি প্রতারণা। দিনদিন এই প্রতারণার হার বেড়েই চলছে। সরকারের সুর্নিদিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তার বাস্তবায়ন না থাকায় দেদারছে প্রতারণা করে যাচ্ছে এর। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেয়া জরুরী বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগের সসদস্য ডা. মো. মোস্তফা হাসান জানান, এইসব প্রতারকদেও বিরুদ্ধে তারা বহুবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হোমিওপ্যাথিক বোর্ড, সিভিল সার্জন অফিসকে জানালেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় দিনদিন প্রতারকদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তিনি আরো বলেন, অনেকে আবার প্রফেসার কিংবা অধ্যক্ষ লিখেও প্রতারণা করে যাচ্ছেন। পাশ না করে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করার আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে এডভোকেট মো. হানিফ বলেন, এটি ৪২০ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদ- ও জরিমানা যোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার জাবের ও ডা. শাহেদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা এখনও পাশ করেন নি। তবে অনেকে এভাবে করছেন বিধায় তারাও করছেন।

Previous
Next