Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

এডিসি ও ইউএনওকে হাইকোর্টে তলব লক্ষ্মীপুরে ২৪ ঘন্টায় কারামুক্ত হলেন সাবেক সিভিল সার্জন

এডিসি ও ইউএনওকে হাইকোর্টে তলব লক্ষ্মীপুরে ২৪ ঘন্টায় কারামুক্ত হলেন সাবেক সিভিল সার্জন

Closed

 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুরশিদুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামানকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর তাদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময় ডাঃ সালাউদ্দিন শরীফকেও আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এসময় লক্ষ্মীপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ সালাউদ্দিন শরীফকে ভ্রাম্যমান আদালতে দেওয়া সাজা কেন বাতিল করা হবেনা সে মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চে সুপ্রিম কোটের দুই আইনজীবি কামাল হোসেন মিয়াজি ও আশফাকুর রহমানের করা একটি রীটের শুনানী শেষে বিচারপতিদ্বয় এই নির্দেশ প্রদান করেছেন। রীটটি শুনানী করেন ব্যারিষ্টার এম এ আজিম। এ সংবাদ জেলায় পৌছানোর পর চিকিৎসক ও সুশীল সমাজের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ভ্রাম্যামাণ আদালতে ৩ মাসের সাজা আদেশের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিন ও কারামুক্ত হলেন সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন শরীফ। একই দিন বেলা ১১ টায় লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক মীর শওকত হোসেন ৫ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে কারাগার থেকে স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে আসেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছালে ডাঃ সালাউদ্দিন শরীফকে লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ সময় বিএম এ সভাপতি ডাঃ আশফাকুর রহমান ও স্বাচিপ সভাপতি ডাঃ জাকির হোসেন সহ চিকিৎসক নেতারা তাকে জেল গেইটে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় সাবেক সিভিল সার্জন তার প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনার পূন:রাবৃত্তি না হয় এবং সিনিয়র চিকিৎসক যেন অসম্মানিত ও অপমানিত না হন এ জন্য জোর দাবী জানান।
একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের নামে যে তৎপরতা চালানো হচ্ছে অবশ্যই এটি বন্ধ করাসহ যারা এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শান্তির দাবী জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, ডা. নিজাম উদ্দিন, ডা. জাকির হোসেন, ডা. নুরুল ইসলাম, ডা. হামিদ প্রমুখ।
ভ্রাম্যমান আদালতের কারাদন্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সদর হাসপাতালে কর্মবিরতী পালন করছে চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।
তাদের দাবী, একটি অনাকাংকিত বিষয়ে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সালাউদ্দিন শরীফকে তিনমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যামান আদালত। মামলা প্রত্যাহার ও সাজা বাতিল করা না হবে ততক্ষন পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন। এত করে চিকিৎসা নিতে আশা রোগীরা পড়েছেন চরম দূর্ভোগে। এদিকে সকাল থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান নেন জেলায় কর্মরত চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলোজিস্টরা।
সালাউদ্দিনের আইনজীবি রাসেল মাহমুদ মান্না জানান. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ডা. সালাউদ্দিন শরীফের জামিন আবেদন করলে আদালত ৫ হাজার টাকার মুচলেকা দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য সোমবার সকালে কাকলী শিশু অঙ্গনের ভিতরে যাওয়ার সময় গেইটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুর্শিদুল ইসলামের সাথে সাবেক জেলা সিভিল সার্জন ডা. সালাউদ্দিনের ধাক্কা লেগে যায়। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুর্শিদুল ইসলামকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে উঠে ডা. সালাউদ্দিন শরীফকে ঘটনাস্থল আটক করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তড়িঘড়ি করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ডা. সালাউদ্দিন শরীফকে তিনমাসের বিনাশ্রম করাদন্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তাৎক্ষনিক এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা। একইদিন বিকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে কারাদন্ডপ্রাপ্ত ডা. সালাউদ্দিন শরীফের জামিন আবেদন করলে তা না মঞ্জুর করা হয় । এরপর সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জনের অফিসে এক জরুরী সভা ডাকে বিএমএ ও স্বাচিবের নেতারা। এসময় মঙ্গলবার বেলা বারোটার মধ্যে ডা. সালাউদ্দিন শরীফকে মুক্তি না দিলে সকল চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধসহ বিভিন্ন কর্মসুচির ঘোষনা দেন।

Previous
Next