Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

এ অভিযান যেন ব্যর্থ না হয়

Closed

 

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরযান ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে গতকাল থেকে আবার অভিযান শুরু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে গত ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। সর্বশেষ নেয়া হয় ২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে। তখন খুব বড় ধরনের অভিযান চালানো হয় ঢাকায়। তবে তা ছিল জরিমানা করা পর্যন্ত। বিগত আমলের অভিযানে খুব যে একটা সাফল্য এসেছে, তা বলা যাবে না। সারাদেশের এবং বিশেষ করে রাজধানীর বুকে চলাচলকারী মোটরযানের দুর্দশার চিত্র দেখলেই তা বলা যায়।
ফিটনেস পরীক্ষা কার্যক্রমের বড় অংশই কারিগরি। বিআরটিএ যে প্রক্রিয়ায় যানবাহনের ফিটনেস দেয় সেটা অবৈজ্ঞানিক। একজন পরিদর্শক খালি চোখেই মোটরযানের নানা ত্র“টি পরীক্ষা করেন। তাই ফিটনেস থাকা না থাকার মধ্যে আসলে কোন পার্থক্য নেই।
মোটরযান আইনের ফিটনেস সনদহীন যানবাহন রাস্তায় নামানোই নিষেধ। ধরা পড়লে সোজা জব্দ করার নিয়ম।
কিন্তু গোটা দেশে ৩ লাখ ১৩ হাজার যানবাহন চলাচল যোগ্যতা বা ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই ফিটনেস সনদহীন যানবাহনের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৬০৪। শতকরা হিসাবে প্রায় ৩৩ ভাগ যানবাহনেরই ফিটনেস নেই।
আরেকটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মোটরযান আইনে ফিটনেস পেতে অন্তত ৩০ ধরনের কারিগরি ও বাহ্যিক বিষয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আইন আছে। কিন্তু বিআরটিএ পরীক্ষায় কোন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে না। চোখে দেখে ফিটনেস দেয়। এমনও অভিযোগ আছে বাস, ট্রাকসহ অধিকাংশ গণপরিবহন বিআরটিএ কার্যালয়ে না গিয়েই ফিটনেস সনদ পেয়ে যায় অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে।
গোটা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাই মালিক পক্ষের শক্তিশালী মাফিয়া চক্রের নিয়ন্ত্রণে। এক্ষেত্রে বিগত সময়ে দেখা গেছে ফিটনেসহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলেই বিভিন্ন মোটরযানের মালিকরা একজোট হয়ে প্রতিরোধ শুরু করে। গাড়ি ভাঙচুর করাসহ নানাভাবে অভিযান ব্যর্থ করতে এই মাফিয়া চক্র তৎপর হয়ে ওঠে। এদের পিছনে রাজনৈতিক শক্তিরও মদত থাকে। সুতরাং এবারের অভিযানকালেও এই অশুভ বাঁধা যে আসবে না তার নিশ্চয়তা নেই। এই মাফিয়া চক্রকে প্রতিহত করার যাবতীয় প্রস্তুতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এবার থাকতে হবে।
এছাড়াও ফিটনেসবিহীন গাড়ি হওয়ার পরেও দুর্নীতির মাধ্যমে যারা সনদ পেয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই অভিযান কতটুকু কার্যকর হবে সেটাও প্রশ্ন। কারণ গাড়ির ফিটনেস যান্ত্রিকভাবে পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা বিআরটিএ’র নেই।
উল্লিখিত এই বিষয়গুলো এবার সর্বপ্রথম বিবেচনায় আনতে হবে অভিযানকে সফল করতে হলে। না হলে এই অভিযান অতীতের মতোই ব্যর্থ হবে।

Previous
Next