Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

খালেদার জেলায় আন্দোলনের চেয়ে সহিংসতাই বেশী

খালেদার জেলায় আন্দোলনের চেয়ে সহিংসতাই বেশী

Closed
by January 25, 2015 ফেণী

Feni Kamon Assi pic
ফেনী সংবাদদাতা : মিনহাজুল ইসলাম অনিক ও শাহরিয়ার হৃদয়। দু’জনই সহপাঠি, আবার ভাল বন্ধুও। ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুলের অদম্য মেধাবী। চোখে মুখে স্বপ্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোর। কারও স্বপ্ন বিজ্ঞানী আর কারওবা ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। আগামী ২ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাধ্যমিক পার হবে। সে ব্রত নিয়ে হরতাল-অবরোধ তাদের স্বপ্ন বাঁধতে পারেনি। ৫ জানুয়ারী সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে পাল্টাপাল্টি সভা আয়োজন নিয়ে ফেনীতে সরকারী দল ও ২০ দলীয় জোট যখন মুখোমুখি তখন তারা প্রাইভেট শেষে বাসায় ফিরছিলেন। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামীলীগের সমাবেশের কাছে খেজুর চত্ত্বরে দূর্বৃত্তদের ছোঁড়া বোমা বিষ্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হয় অনিক ও হৃদয়ের শরীর। গুরুতর আঘাত পায় চোখে। নির্মম এ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা জানলে হয়ত বাসা থেকে বের হত না? আবার হয়ত শংকা কাটিয়ে দুরু দুরু বুকে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছে। ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার পর তাদের পাঠানো হয় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে। অর্থাভাবে চিকিৎসা সেবা যখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম তখন পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের দুইজনের চিকিৎসা সেবার দায়িত্ব নেয়ার পর অনিককে ইতিমধ্যে ভারতের চেন্নাই শংকর নেত্রালয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শুধু অনিক-হৃদয়ই নন, হরতাল-অবরোধে সহিংসতার শিকার হয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ট্রাক চালক থেকে ম্যাজিষ্ট্রেটও। একের পর এক এসব ঘটনায় ফের সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছে এক সময়ের সন্ত্রাস-সহিংসতার ভয়াল জনপদ ফেনী।
অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালে দিনে ভাংচুর ও রাতে অগ্নিসংযোাগ সহ নাশকতা চলছে নিয়মিতই। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা গ্রেফতার হলেও সহিংসতায় জড়িতরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি শহর ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে আওয়ামীলীগ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিন-রাত পালাক্রমে পাহারা দিলেও কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ‘নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার’ ঘোষনার পরও এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। সবকটি ঘটনায় মামলা হওয়ায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। অবরোধের প্রথমদিকে ছাত্রদল-যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক এবং শিবির নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করলেও তারা গা ঢাকা দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিজ জেলায় দলীয় কার্যক্রমও স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বরাবরের মত দেশ-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে ফেনী।
গত ৯ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে শহরের মহিপালের বাসায় ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল কাদির মিয়া, রায়হানুল হারুন ও শিহাব উদ্দিনকে বহনকারী মাইক্রোবাস এসএসকে সড়কের এফ.রহমান এসি মার্কেট পার হলে বোমা নিক্ষেপ করে অবরোধ সমর্থকরা। এসময় গুরুতর আহত হন আবদুল কাদির মিয়া। তাঁর চোখেও স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয়। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী। তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ২১ জানুয়ারি বুধবার ভারত পাঠানো হয়েছে।
২০ জানুয়ারি রাত ৯ টার দিকে দাগনভূঞায় উপজেলার দুধমুখা বাজার সংলগ্ন কুমারপুল নামক স্থানে সিএনজি ট্যাক্সি লক্ষ্য করে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে দূর্বৃত্তরা। এতে শাহরিয়ার শিপন (৩১) ও সাদ্দাম হোসেন (২৬) নামের দুই যাত্রী দ্বগ্ধ এবং চালক শাহজাহান পিন্টু আহত হয়। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে শিপন ও সাদ্দামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে।
উপার্জনের তাগিদে ১৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ট্রাক চালক মিনহাজুল ইসলাম। পুলিশ-বিজিবি পাহারায় থেমে থেমে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন ঠিকই। মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশের বাখরাবাদ গ্যাস অফিস সংলগ্ন বিএডিসি রাস্তার মাথায় পৌছলে রাত ৯ টার দিকে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে দূর্বৃত্তরা। এসময় মিরাজ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিদ্বগ্ধ চালককে উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
৯ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশের লেমুয়ায় পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। এতে গাড়ী চালক মো: মোস্তফা অগ্নিদ্বগ্ধ হয়। তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের গ্রামের বাড়ী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদপুরে অগ্নিসংযোগ করে দূর্বৃত্তরা।
১৪ জানুয়ারি বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের সুজাপুরে দূর্বৃত্তদের হাতে খুন হন ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন।
এর আগে ৬ জানুয়ারি শহর পুলিশ ফাঁড়ির সদ্য বিদায়ী ইনচার্জ এস আই কামাল হোসেনকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে দূর্বৃত্তরা। এসময় অপরাপররা পালিয়ে গেলেও পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সাব্বির নামের এক যুবককে আটক করে। ওই যুবক পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ২শ টাকার বিনিময়ে বোমাবাজি সহ সহিংস কর্মকান্ড করে।
আওয়ামীলীগের দাবী, এসব সহিংসতার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতা জড়িত। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে সহিংসতা কমে যাবে।
অন্যদিকে অবরোধে আতংক ছড়াতে সরকার দলীয় নেতারাই সহিংসতা করছে বলে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমানের অভিযোগ। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা মামলা-হামলায় বাড়ী ঘর ছাড়া। নতুন নতুন মামলা সাজাতে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা পাহারার নামে গাড়ীতে আগুন লাগিয়ে নিজেরাই সহিংসতা ছড়াচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা সভাপতি কবি মাহবুব আলতমাসের মতে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলে হরতাল-অবরোধের নামে সহিংসতা কোনভাবেই কাম্য নয়। সেই সাথে দুই দলকে নমনীয় হয়ে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, হরতাল-অবরোধে এক শ্রেনীর দূর্বৃত্তরা সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করলে সহিংসতা কমে আসবে।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সাইফুল হক বলেন, সহিংসতাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তার দাবী।

Previous
Next