Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

গর্ভের সন্তানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ !

গর্ভের সন্তানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ !

Closed

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসীরা অন্তঃস্বত্বা রৌশন বেগমকে পিটিয়ে তার গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গর্ভের সন্তান হারিয়ে এখন পাগল প্রায় রৌশন বেগম। গত শনিবার সকালে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে রৌশন বেগম, তার বোন হোসনেয়ারা বেগম, লিলি আক্তারসহ ৬জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে।

সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্যরা আহত হলেও ৮মাসের অন্তঃস্বত্বা রৌশনের তলপেটে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে জ্ঞান হারায় রৌশন। পরের দিন হাসপাতালে সে একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। জ্ঞান ফিরে পেয়ে মৃত সন্তান দেখে পাগলের পলাপ বকছে রৌশন বেগম। বর্তমানে হামলায় আহত রৌশন বেগমসহ অন্যরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় রৌশন বেগমের পিতা বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে ৮জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার ৬ দিন পরে এখনো কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তাদের পরিবার। এছাড়া আসামীরা রৌশন বেগমমের পরিবা
রকে মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কালিচর এলাকায় মমিন উল্যার সাথে চরভূতা গ্রামের নুর নবীর সাথে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারী নুর নবী ভবানীগঞ্জ এলাকার মাকছুদ আলম, মোতাহের আলীসহ ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী নিয়ে মমিন উল্যার বসত ঘর ও দোকানে হামলা চালিয়ে ঘরে ও দোকানে থাকা মালামাল একটি পিক-আপে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় ঘরে থাকা মমিন উল্যার ৩ মেয়ে ১ ছেলে তাদের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় মমিন উল্যার মেয়ে ৮ মাসের অন্তঃস্বত্বা রৌশন বেগম আহত হয়ে জ্ঞান হারায়। পরে স’ানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ত্রাসীরা হামলার সময় রৌশন বেগমের তল পেটে লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় পরের দিন ৪ ফেব্রুয়ারী রৌশন বেগম হাসপাতালে একটি মৃত সন্তান প্রসব করে।

রবিবার সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গেলে এক হৃদয় বিধারক দৃশের সৃষ্টি হয়। গর্ভের সন্তান হারিয়ে রৌশন বেগম এখন পাগল প্রায়। সন্তানের কথা মনে করে বার-বার পাগলের পলাপ বকছেন তিনি। এ দিক ও দিক হাতরিয়ে নিজের সন্তানকে খুঁজে বেড়ান সারাদিন।

মমিন উল্যা জানান, ২৮ বছর আগে আমি তাদের কাছে জমি বিক্রি করে দখল বুজিয়ে দিয়েছি। জমি বিক্রির এতো দিন পরে তারা আবার পুনঃরায় আমার দখলীয় জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আমার বসত ঘরে ও দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। এতে বাধাদিতে গেলে তারা আমার ছেলে-মেয়েদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার ৮ মাসের অন্তঃস্বত্বা মেয়ে রৌশন বেগম তার গর্ভের সন্তানকে হারায়। আমি এই ঘটনার বিচার দাবী করছি।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোযার হোসেন জানান, তলপেটে ও শরীরের বিভিন্ন স’ানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় রৌশন বেগম। পরে সে একটি মৃত সন্তান প্রসব করে। ৮মাসের অন্তঃস্বত্বা একজন মহিলাকে এই ভাবে আঘাত করা চরম মানবিকতার লঙ্গন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। তার অবস’া এখনো আশংকাজনক।

Previous
Next