Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

গ্রাহক দাবির টাকা দিচ্ছে না বায়রা লাইফ

গ্রাহক দাবির টাকা দিচ্ছে না বায়রা লাইফ

Closed

ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চট্টগ্রামের বাসিন্দা গীতাশ্রী চক্রবর্ত্তী ২০০৭ সালে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চৌধুরী হাট প্রজেক্ট অফিস থেকে একটি বীমা পলিসি (নম্বর- ২২৩-০০০০০৫) ক্রয় করেন। ১০ বছর মেয়াদের বীমা পলিসিটির মেয়াদ পূর্ণ হয় ২০১৭ সালে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছর পার হলেও দাবির টাকা পাননি গীতাশ্রী।

বীমা দাবির টাকা পেতে প্রতিষ্ঠানটিতে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও লাভ হয়নি। দাবির অর্থ পরিশোধে নানা টালবাহানা করছে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অথচা বীমা করার সময় বায়রা লাইফের প্রতিনিধি বলেছিলেন, মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যাবে। জাগো নিউজকে এমন তথ্যই জানান বায়রা লাইফ থেকে বীমা দাবির টাকা না পেয়ে হয়রানির শিকার গীতাশ্রী চক্রবর্ত্তী।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বীমা করার সময় বায়রা লাইফের প্রতিনিধি বলেছিলেন, মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও মুনাফা তো দূরের কথা এখন আসল টাকাও ফেরত দেয়া হচ্ছে না। কোম্পানিতে বীমা দাবির টাকা চাইতে গেলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কষ্টের সংসার। তারপরও নিয়মিত বীমার প্রিমিয়ামের টাকা জমা দিয়েছি। প্রতি মাসে প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হয়েছে ১০০ টাকা। যতদিন প্রিমিয়ামের টাকা জমা দিয়েছি, ততদিন কোনো সমস্যা হয়নি। পলিসির মেয়াদ শেষে বীমা দাবির টাকা চাইলে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সব কাগজপত্র নিয়ে নেয়। কিন্তু মাস গড়িয়ে বছর চলে গেলেও বীমা দাবির টাকা দিচ্ছে না।’

গীতাশ্রীর মতো চৌধুরী হাট প্রজেক্ট অফিস থেকে একটি বীমা পলিসি (নম্বর-২২৩-০০০০১৯) কেনেন ইন্দ্রিরা সিকদার। তিনিও ২০০৭ সালে ১০ বছর মেয়াদের বীমা পলিসি কেনেন। পলিসির বীমার অংক ১২ হাজার টাকা। বীমা পলিসি বিক্রির সময় তাকেও বায়রা লাইফের প্রতিনিধি বলেছিলেন যে, মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ দ্বিগুণ টাকা পাবেন। কিন্তু পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর পরও তাকে কোনো টাকা দেয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী এই বীমাগ্রাহক জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বায়রা লাইফ থেকে বীমা করেছিলাম। বীমা করার সময় কোম্পানির লোক ভালো ভালো কথা বলে। এখন বীমার টাকা চাইতে গেলে কেউ কোনো কথা বলতে চায় না। কোথায় গেলে বীমার টাকা পাওয়া যাবে তা বুঝতে পারছি না। একজন বলেছেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করতে। এখন সেই চেষ্টায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘পলিসি করার সময় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে, আর মেয়াদ শেষে টাকা চাইতে গেলে হয়রানি করবে- এটা কেমন নিয়ম? এমন হলে তো কেউ বীমা করতে চাইবে না।’

শুধু গীতাশ্রী চক্রবর্ত্তী বা ইন্দ্রিরা সিকদার নয়, চট্টগ্রামের অনেক গ্রাহক বায়রা লাইফ থেকে বীমা পলিসি ক্রয় করে মেয়াদ শেষে দাবির টাকা পাচ্ছেন না। দাবির টাকা চাইতে গেলে বয়রা লাইফের কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানি করছেন।

দাবির টাকা না পেয়ে হয়রানির শিকার বায়রা লাইফের অপর গ্রাহক বেবী সিকদার। তিনি জীবন বীমা কোম্পানিটির ছড়ার কুল প্রজেক্ট অফিস থেকে ১০ বছর মেয়াদের বীমা পলিসি (২৪০-০০০০২৬) কেনেন। ২০০৭ সালে কেনা বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালে। মেয়াদ শেষে বছর পেরিয়ে গেছে, এখন দিনের পর দিন বায়রা লাইফে ধরনা দিয়েও বীমার টাকা পাননি।

বেবী সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বায়লা লাইফের প্রজেক্ট ম্যানেজার আনজুমান’র মাধ্যমে ২০০৭ সালে মাসিক ১০০ টাকা কিস্তির একটি বীমা পলিসি কিনি। ১০ বছর ধরে বীমার কিস্তি পরিশোধ করি। কিন্তু মেয়াদ শেষে এক বছর পার হলেও বীমার টাকা পাচ্ছি না। বীমা দাবির টাকা দেয়ার নাম করে কোম্পানির লোকজন এ কাগজ, সে কাগজ বলে কতো কিছু নিয়ে গেছে, কিন্তু টাকা পরিশোধ করছে না। এখন বলছে ঢাকার অফিসে যোগাযোগ করতে।’

গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বায়রা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা দিচ্ছি না— এমন অভিযোগ ঠিক নয়। হয় তো দাবির টাকা দিতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু আমরা গ্রাহকের দাবির টাকা পরিশোধ করছি। যদি কেউ বীমা দাবির টাকা না পান, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আমরা টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করবো।’

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, ‘গ্রাহকরা যাতে বীমা দাবির টাকা পায় সেজন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। সবকিছু ঠিক থাকলে কোম্পানি গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা দিতে বাধ্য। যদি কোনো গ্রাহক বীমার টাকা না পান তাহলে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

Previous
Next