Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

ছেঁড়া কূটনীতিতে তালি দিচ্ছে বিএনপি!

ছেঁড়া কূটনীতিতে তালি দিচ্ছে বিএনপি!

Closed

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে প্রথম দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে বহির্বিশ্বে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে ‘সাড়া ফেললেও’ আন্দোলনে সফল হতে পারেনি বিএনপি। যদিও ওই সময়ে কূটনৈতিক লবিংয়ে দলটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করা শাখাটির ‘সাফল্যে’ মোটামুটি খুশিই ছিল দলের হাইকমান্ড।

 

কিন্তু একপর্যায়ে বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতায় বেশ দৈন্য অবস্থা তৈরি হয়। বর্তমানে তা একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। এখন সেই ছেঁড়া কূটনীতিতে তালি দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে বিএনপি!

 

বিএনপি নেতারা বলছেন, আপাতত কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে মনে করা হলেও দলটির নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়ে গেলে এতে আবারও গতি আসবে। নতুনরা নতুনভাবে কাজ করতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে নতুন কমিটি গঠনের পর যারা বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব পাবেন, তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে সফল হতে চাইবেন। সে ক্ষেত্রে তা দলের জন্য ইতিবাচকই হবে।

 

জানতে চাইলে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মূলত বিএনপির কমিটি গঠনের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই দলের সব শাখাতেই কিছুটা আগোছালো ভাব এসেছে। এর অংশ হিসেবে দলের কূটনৈতিক উইংয়ে হয়তো কিছুটা এলোমেলো অবস্থা আছে। তবে বিএনপির চেয়ারপারসন কমিটি গঠনের জন্য কাজ করছেন। কমিটি গঠন হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন কূটনৈতিক উইং আরো জোরদার কার্যকলাপ করতে পারবে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাদের ওপর সরকারের হুমকি-ধমকি রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতেও সার্বিক দলীয় রাজনীতিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে এবং কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।’

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি। ওই সফরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এতে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দেন নিশা। অভ্যন্তরীণভাবে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় কী কী সামর্থ্য রয়েছে, তা যাচাই করে নিয়েই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়। তবে নিশার সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো বৈঠক না হওয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। যদিও এর আগে নিশা বিসওয়ালের প্রায় সবগুলো সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এবার নিশা বিসওয়ালের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের আয়োজন করতে না পারায় দলের কূটনৈতিক উইং দলীয় পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

 

দলের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের প্রথম ধাক্কাটি আসে গত বছর সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে। ওই সময়ে গুলশানে হামলার শিকার হন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, যিনি দলের কূটনৈতিক উইংয়ের একজন দায়িত্বশীল সদস্য। এখন আর আগের মতো সক্রিয় নেই তিনি। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা আরেক সদস্য সাবিহ উদ্দিনের ‘ধরি মাছ না ছুুঁই পানি’ অবস্থা। সাবিহ উদ্দিন বিশেষ কারিশমা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন দলীয় অনেক নেতা। উল্টো বিগত সময় তার ভূমিকার জন্য প্রভাবশালী একটি দেশ বিএনপির ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়।

 

বিএনপির কূটনৈতিক উইং সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে দলটির প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সমশের মবিন চৌধুরী পদত্যাগ করায়। আকস্মিকভাবে তার পদত্যাগে বিশাল হোঁচট খায় বিএনপি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

 

এদিকে খালেদা জিয়ার পরামর্শক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক শফিক রেহমানও বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার চেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী দলীয় আরেক নেতা ড. ওসমান ফারুকও আছেন অস্থিরতার মধ্যে। মানবতাবিরোধী অপরাধে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখতে দেখা যাচ্ছে না।

 

দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নিস্তেজ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে গত মঙ্গলবার বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বৈঠক করেন। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন এমন নেতাদের মধ্যে একমাত্র সাবিহ উদ্দিন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তবে বিএনপির হাইপ্রোফাইল একটি প্রতিনিধিদল ছিল। যেখানে অংশ নেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

 

ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, জার্মানি, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, পাকিস্তান, নরওয়ের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভারতীয় হাইকমিশনের কোনো প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেননি।

 

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত অনেক দিন কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির কোনো ক্লোজড ডোর বৈঠক না হওয়ায় এর আয়োজন করা হয়। যেখানে চলমান সন্ত্রাস ও জঙ্গি হামলা, এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে নেওয়া জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ এবং তা নিয়ে সরকারের নেতিবাচক আচরণের বিষয়টি তুল ধরা হয়। এ ছাড়া বলা হয়, সরকার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাজা দিয়ে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজনের অপচেষ্টা করছে। অর্থ পাচার মামলায় নিম্ন আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে তারেক রহমানের সাজা হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

 

বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কূটনৈতিক উইংয়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে – এ কথাটি বলা যাবে না। একটি দলের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যতটুকু যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন বিএনপি তা করছে। তবে সরকার মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে সব ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে। এ জন্য সব ক্ষেত্রে একটু বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকতে পারে।’

Previous
Next