Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যেসব কৌশল নিচ্ছে জামায়াত

জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যেসব কৌশল নিচ্ছে জামায়াত

Closed

নুরেআলম জিকু।।

দীর্ঘদিন ধরেই  প্রকাশ্যে  রাজনীতির মাঠে নেই বাংলাদেশ  জামায়াত ইসলামী। প্রকাশ্যে মাঠে না থাকায় অনেকেই মনে করছে রাজনীতিতে নীরবতা পালন করছে দলটি। একদিকে নিবন্ধন বাতিলের চেষ্টা অন্যদিকে রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে নীরবতা দেখাচ্ছে দলটি।  তবে বাস্তবে জামায়াত ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সাংগঠনিক শক্তিতে দলকে শক্তিশালী করে তুলছে।

রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা না গেলেও গোপনে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে দলটির শীর্ষ নেতা ও কর্মীরা।  সারাদেশেই  গোপনে সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয়সহ আগামী নির্বাচনে জন্য কাজ করছে দলটি।

সূ্ত্র জানায়, ভেতরে ভেতরে চলছে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি। নিবন্ধন বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরও থেমে নেই দলটি। একদিকে নিজেদের দীর্ঘদিনের সাজানো-গোছানো  বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দলের ব্যানারে নির্বাচন করার চেষ্টা অন্যদিকে নতুন কোনো রাজনীতিক দলের সাথে হাত মিলিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটির নেতারা। এছাড়াও বিকল্প পথ হিসেবে দেখছে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকে তাকিয়ে আছে দলটির শীর্ষ নেতারা। নিষিদ্ধ হলে কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দলটি রাজনীতির মাঠে থাকবে সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা অনেকটা চূড়ান্ত করা হয়েছে জামায়াত ইসলামী দল হিসেবে নিষিদ্ধ হলে  তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে নতুন নামে রাজনীতির মাঠে নামার চিন্তা করছে তারা।

জানা যায়, আগামী ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম অন্তত ৪০টি আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। প্রকাশ্যে রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও জামায়াত আগামী নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জামায়াতের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বিএনপির ব্যানারে তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। আবার তারা  নিজেদের দলীয় প্রতীকে ও দলীয় ব্যানারেও অংশ নিতে পারছে না। তারা নির্বাচনে না থাকলেও নিজেদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। মূলত দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা আলাদা করে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছে। জামায়াত নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে না পেরে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছে। তাদের প্রতীকও আলাদা আলাদা ছিল।

জামায়াতের নেতারা বিএনপির সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে কোনো দেন-দরবার করেনি। তারা নিজেদের মতো প্রার্থী বাছাই করেছে। কোনো কোনো পৌরসভায় বিএনপি ও জামায়াতের দুই দলেরই প্রার্থী রয়েছে। জামায়াত এটাকে কোনো অন্তরায় মনে করছে না। জামায়াতের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাও প্রার্থী হয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়,  আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির রূপরেখা প্রণয়নে তারা বসবেন। গত বছর থেকে জামায়াত তৃণমূল পর্যায়ে দল গড়ে তোলা শুরু করে। আগামী নির্বাচনে জামায়াত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলটি নির্বাচনে কৌশল নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, আনুষাঙ্গিক কি প্রয়োজন হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করছে। কি পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন হবে তাও যাচাই করে দেখছে দলটি।

গ্রামীণ এলাকা, সীমান্ত বিশেষ করে যেসব এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান চলেছে সেসব এলাকায় ভোটারদের কাছে টানতে চাচ্ছে জামায়াত। জামায়তের শীর্ষ সদস্য যারা রোকন হিসেবে পরিচিত তারা প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোট চেয়ে রাখছেন। রোকনদের মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দলের তহবিল বৃদ্ধি করতে পৃষ্ঠপোষকদের আর্থিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দলটির  নিয়মিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মতো সাংগঠনিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন। এ জন্য স্থানীয় ও জাতীয় সব নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত কাজ করে দলটি। এরই অংশ হিসেবে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী এলাকায় নীরব তত্পরতা চালানো হচ্ছে।

Previous
Next