Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি

Closed

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট নিয়ে প্রতিবছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে। এর আগেও দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষ আগাম টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেয়ায় টিকিট প্রত্যাশীরা রাত জেগে টিকিটের জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ টিকিট প্রত্যাশীকে বিফল হয়ে ফিরতে হয়। এবারো সেই একই চিত্র দেখা গেছে, যা তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এবারো লাইনে অপেক্ষা করেও প্রত্যাশী টিকিট পাননি। অথচ কালোবাজারিদের কাছে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। একশ্রেণির অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র আগাম টিকিট হাতিয়ে নিয়ে তা বাড়তি মূল্যে বাইরে বিক্রি করছে ফলে নিরুপায় হয়েই কালোবাজারিদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীরা। অথচ বাস্তব পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে যেন কোনো কিছুই করণীয় নেই। ঈদের টিকিট সংগ্রহ নিয়ে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। বাস্তবতা হলো, সংশ্লিষ্টরা টিকিট কালোবাজারি রোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বললেও তা মূলত কোনো কাজেই আসছে না। পরিতাপের বিষয় যে, আগে শুধু কমলাপুর রেলস্টেশনের আশপাশে টিকিট বিক্রি হলেও এবার তারা একাধিক স্পটে ঘাটি গেড়েছে। আবার টিকিট কালোবাজারিদের সঙ্গে রেল কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। প্রতিবছর ঈদ উৎসবে যাত্রী টিকিটের জন্য হাহাকার করবে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আমরা লক্ষ্য করে আসছি, বিগত কয়েক বছর ধরেই ঈদ উৎসব কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় উৎসবে যাত্রীদের চাপ বাড়লেই কালোবাজারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় টিকিট বিপণন ব্যবস্থা। রেলপথ, নৌপথ ও সড়ক পথের একই অবস্থা। কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না অবৈধ টিকিট সিন্ডিকেট ব্যবসা। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনী এদের সহযোগিতা করে, এ অভিযোগও পুরনো। টিকিট কালোবাজারির তালিকায় এবার শুধু সাধারণ টিকিটই নয়, ভিআইপি, রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এসএমএস ও ই-টিকিটের জন্য কোটাবন্দি টিকিটও কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। রেলের রিজার্ভেশনের কর্মচারীরা এ টিকিটের একটি বড় অংশ আগেভাগেই বুক করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আমরা মনে করি, টিকিট নিয়ে এই যদি হয় বাস্তব অবস্থা, তা হলে ঈদে ঘরেফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসন হবে কিভাবে? আমরা এমন নৈমিত্তিক ও গতানুগতিক চিত্র দেখতে চাই না।

Previous
Next