Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন প্রকল্প কবে শেষ হবে?

Closed

 

বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরেও শেষ হচ্ছে না। নতুন করে সময় ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এতদিন সাড়া না দিলেও এবং মন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সময় বাড়ানো হবে না বলে জানালেও পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, সময় ও ব্যয় দুই-ই বাড়ানো হচ্ছে। সময় বাড়বে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ব্যয় বাড়বে ৬০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই সময়ে ও ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, তা নিশ্চয় করে বলার উপায় নেই। নেই এ কারণে যে, এর আগে দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, কাজ শেষ হয়নি। যতদূর জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭১ শতাংশ। অবশিষ্ট কাজ কবে শেষ হবে তা কেবল ভবিষ্যৎই বলতে পারে। কর্তৃপক্ষীয় তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, এই ডিসেম্বরেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বাকি এক বছর লায়াবিলিটিজ পিরিয়ড রাখা হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন-অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে যখন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় তখন কথা ছিল, ২০১২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। সেই শেষ এখনো হয়নি। প্রকল্পটির অনুমোদনের সময় ব্যয় ধারা ছিল ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কাজ শুরুর আগেই ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ব্যয় সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৩৮২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।সেই থেকে সময় ও ব্যয় বাড়ছেই। নির্ধারিত আড়াই বছরে কাজ শেষ না হওয়ায় দেড় বছর বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এই সময়সীমায় কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এই সময়েও কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়। অন্যদিকে ২০১০ সালের ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ব্যয় বাড়িয়ে সাকুল্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৪১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে ব্যয় বাড়ানো হয় ৭৮০ কোটি টাকা এবং সাকুল্য ব্যয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৯০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত মে মাসে বাড়ানো আরও ১৫১ কোটি টাকা এবং তাতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এবারে ৬০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা যুক্ত হলে প্রকল্পের মোট ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে ৩ হাজার ৯৪৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, যদি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত হয় তবে আড়াই বছরের জায়গায় কাজ শেষ করতে সময় দাঁড়াবে ৬ বছর। এই সঙ্গে ব্যয় ২ হাজার ৩৮২ কোটি ১৭ লাখ থেকে বেড়ে হবে ৩ হাজার ৯৪৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আমাদের দেশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রকল্পই যে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না এবং ব্যয়ও যে ঠিক থাকে না, ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন প্রকল্প তার একটি উল্লেখযোগ্য নজির।অনিবার্য কারণে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বেশি লাগতে পারে, ব্যয়ও বাড়তে পারে। এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন প্রকল্প নিয়ে যা হয়েছে বা হচ্ছে তাকে ‘অতিরিক্ত’ বললেও কম বলা হয়। প্রশ্ন হলো : প্রকল্প বাস্তবায়নে এই ধীরগতি এবং বাড়তি অর্থব্যয়ের দায় কে বা কারা নেবে? দায় শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকার এই অপচয় কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু কি অপচয়? এই কয়েক বছর ধরে এই মহাসড়কটিতে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের অশেষ দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। সময়ের সঙ্গে আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির মতে, প্রকল্পের কাজে বিলম্ব হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের অজানা নেই, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বলে অভিহিত করা হয়। দেশের আমদানি-রফতানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য এই মহাসড়কের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। অতি প্রয়োজনবোধেই এই মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় ও জরুরি কাজটি আর শেষ হচ্ছে না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তো বটেই উন্নয়নশীল বহু দেশে এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই যে, শত শত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার-সম্প্রসারণ করা হয়েছে অত্যন্ত স্বল্প সময়। সুতরাং বলতেই হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এবং ঠিকাদাররা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ার কারণে তাদের কারো কারো লাভ হলেও ক্ষতি হয়েছে দেশ ও জনগণের। এই ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা জরুরি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। এই সঙ্গে আমরা আশা করতে চাই, প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে এবং কাজের মান যাতে যথাযথ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ইতিমধ্যেই খবর পাওয়া গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিটুমিন উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দকের। কেন এমনটি হয়েছে, সেটাও খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Previous
Next