Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

দক্ষতা হ্রাস উদ্বেগের বিষয়

Closed

বিদ্যুৎ খাতের যেমন অগ্রগতি রয়েছে, তেমনি আছে হতাশাও। সংকট মেটানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাঁড়া ও দ্রুত ভাঁড়াভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করতে পারলেও বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতেই প্রতীয়মান হয়, খাতেটিতে দক্ষতা বাড়েনি। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত বলে মনে হয়। এ কারণে তিনি প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। গত্বকাল বণিক বার্তায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতোা বেড়ে দ্বিগুণ হলেও দক্ষতা কমেছে। ২০০৮ সালে উৎপাদন সক্ষমতোার ৭৯ দশমীক ৪১ শতাংশ ব্যবহার হলেও চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমীক ৫২ শতাংশ। বিষয়টি দুশ্চিন্তার এবং এর পেছনের কাস্মরণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সন্দেহ নেই, গত কয়েক বছরে উৎপাদন সক্ষমতোা বাড়লেও আর্থিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক জরিপেও বিদ্যুৎ খাতকে অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও সরকারি মহল অসত্য তথ্য দিচ্ছে। স্থাপিত সক্ষমতোাঁকে উৎপাদনের ক্ষমতোা হিসেবে প্রচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সক্ষমতোার ২০-২৫ শতাংশ কম উৎপাদন হওয়া আন্তর্জাত্বিক মানদে গ্রহণযোগ্য। তবে বাংলাদেশের ৩৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ উৎপাদন অবশ্যই উদ্বেগজনক। এজন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করছেন। এর মধ্যে গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ ও পুরোনো যন্ত্রপাতি উল্লেখযোগ্য। গ্যাসস্বল্পতার কারণে বড় বিদ্যুেকন্দ্র পুরোদমে চালু রাখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে কম। এতে গেল কয়েক বছরে ভাঁড়া ও দ্রুত ভাঁড়াভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের ওপর নিভর্রতা বেড়েছে, যা আবার ব্যয়বহুল। প্রথম দিকে উচ্চ ভর্তুকিতে জনগণকে বিদ্যুৎ জোগালেও দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে এখন সমন্বয় করা হচ্ছে। অথচ সক্ষমতোা বাড়িয়েও সরকার ভর্তুকি কমিয়ে আনতে পারত। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিকল্পনা কমিশনের সাধাস্মরণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমের মন্তব্যটি আমলে নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘মূলত সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি না করায় সক্ষমতোা থাকার পরও উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। আগে সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে কারো নজ্বর ছিলো না। উৎপাদনের বিষয়টিতে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বর্তমানে কয়েকটি বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে সক্ষমতোার পুরোটা ব্যবহার সম্ভব হবে।’
বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে চিত্র আমরা দেখতে পাই, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সরকার যে এ খাতে গুরুত্ব দিয়েছে, স্বেজন্য সাধুবাদ জানাতে হবে। কিন্তু শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই হবে না, সেসঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন এবং রক্ষণাবেক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। কোনো কিছু শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট কাজগুলোও একই সঙ্গে করতে হয়। নইলে সে কাজে পুরোপুরি সাফল্য আসে না। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঞ্চালন সক্ষমতোা না বাড়ালে বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে না। আবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিগত বছরগুলোয় মহাজোট সরকার উৎপাদনেই জোর দিয়েছে, সঞ্চালন সক্ষমতোা বৃদ্ধি বা রক্ষণাবেক্ষণে সমান নজ্বর দিয়েছে, সেটা বলা যাবে না। সঞ্চালন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে যেকোনো লাভ নেই, সেটা সংশ্লিষ্টদের অজানা নয়।
উৎপাদনের সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনাটি সরকারের প্রথমেই নেয়া উচিত ছিল। আর নেয়া হয়নি বলেই ব্ল্যাকআউটের মতো ঘটনা ঘটেছে। যেহেতু উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে, সেহেতু বিদ্যুৎ সঞ্চালনও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণটাও করতে হবে বিরামহীনভাবে। তা না হলে দেশ ও দেশের জনগণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো সুফলই পাবে না। যে উদ্যম নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে, তার পুরোটাই বৃথা যাবে।

Previous
Next