Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

দাগনভূঞায় আসামী পক্ষের হুমকিতে নিরাপত্তাহীন নিহত বাদশার পরিবার

Closed
by December 9, 2014 ফেণী

দাগনভূঞা সংবাদদাতা : দাগনভূঞায় আসামী পক্ষের অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতার ভূগছে নিহত একরামুল হক বাদশার পরিবার।
নিহতের পরিবার ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের নন্দীরগাঁও গ্রামের মৃত এবাদুল হকের ছেলে একরামুল হক বাদশা গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে কুমিল্লার গৌরিপুরে যান। পরদিন মহিপাল থেকে সিএনজি যোগে রওয়ান দিলে ফেনী সদর উপজেলার তেমুহনী মসজিদ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছা মাত্রই তার সঙ্গীয় ও আসামীদ্বয় সিএনজি থামিয়ে একরামুল হক বাদশাকে ধামা দিয়ে মাথায় কোপ মারে এবং চুরি দিয়ে ঘাই মেরে বাম চোখ বাহির করে ফেলে পাশ্ববর্তী জঙ্গঁলে নিয়ে জবাই করার চেষ্টা করে। নিহতের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে আসামীরা চিৎকার দিয়ে বলে সিএনজি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এ সময় বাদশার সঙ্গে থাকা ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায় আসামীরা। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ফেনী সরকারী হাতপাতালে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় বাদশাকে পান। এসময় কর্তব্যরত ডাক্তার আশংকাজনক অবস্থায় একরামুল হক বাদশাকে ফেনী থেকে চট্রগ্রামে প্রেরণ করেন। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ভোর সাড়ে ৪টায় মৃত্যুবরণ করে। আসামীরা হত্যা মামলাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য বাদিনী ও তার অত্মীয় স্বজনকে ভুল বুঝিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই নিহতের লাশ পারিবারিক করবস্থানে দাফন করে।
নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার আড়াই মাস ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্টেট ১নং আমলী আদালতে লতিফপুর গ্রামের মৌলভী আবদুস সোবহানের ছেলে লাসির উদ্দিন, নন্দীরগাঁও গ্রামের আবুল কালামের চেলে মনসুর, শরীফপুর গ্রামের ইলিয়াছ, খুশীপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে মমিন ও ফেনী সদর উপজেলার মাথিহারা গ্রামে আবদুল মতিনের ছেলে সিনএনজি চালক শহীদ কে আসামী করে একটি মামলা করেন গত ১৭ জুন। আদালত বাদীর মামলাটি রেকর্ড করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ফেনী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করে। পুলিশ আদালতের নির্দেশে থানায় হত্যা মামলা রুজু করে মামলার প্রধান আসামী নাসির উদ্দিন ও মনসুরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন বলে তদন্তকারী অফিসার এস.আই কামরুল ইসলাম খান জানান। গত ১৮ জুলাই নিহত একরামুল হক বাদশার লাশ করব থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাতপাতালে নেয়া হলে হাড় ও মাথায় খুলি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রফেসর অব ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। আঘাত জনিত কারণে নিহত হয়েছে বাদশা এমন রিপোর্ট পুলিশের হাতে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে করিম বক্স মিয়াজীর নতুন বাড়ীতে নিহত বাদশা স্ব-পরিবারের বসবাস করতেন। গাছ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা ছাড়া ও তিনি যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘ দিন যাবত তিনি নাসির ও মনসুরের সাথে গাছের ব্যবসা করেন। নিহতের মৃত্যুর আগে ও ঘাতক চক্রের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। সামাজিকভাবে বিষয়গুলো সমাধা করা হলেও বাদশাকে চিরতরে শেষ করার পরিকল্পনা করে ঘাতক চক্র। শেষ পর্যন্ত সফল হয়। কিন্তু সারাজীবনের জন্য শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিল নিহতের পরিবারকে। নিহতের বাড়ীতে এ প্রতিবেদক পৌঁছলে এলাকার লোকজন ও পরিবারের লোকজন আতংক গ্রস্থ হয়ে পড়ে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ঘরে বসার জন্য বলেন নিহতের বৃদ্ধা মা বরকতের নেছা। এসময় নিহতের বিধবা স্ত্রী আসমা আক্তার বার বার মুর্চ্ছা যান। এতিম দুই সন্তান আশ্রাফুল ইসলাম (০৬) ও ফাহমিদা আক্তারের (৪) কান্না আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের বড় ছেলে কে হারিয়ে বৃদ্ধ মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। উপস্থিত সকলেই এসময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি। এলাকাবাসী জানায়, বাদশা খুব শান্ত ও ভদ্র মেজাজের লোক ছিল। মৃত্যুর পূর্বে রাজাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। কখনও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না। এ নিষ্ঠুর ও নির্মম হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবী করেন।
নিহতের স্বজনেরা জানায়, আসামী পক্ষ মামলা তুলে নেয়ার জন্য অব্যাহতভাবে হুমকী প্রদান করছে বাদী পরিবার কে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার ভূগছে নিহতের পরিবার।
দাগনভূঞার থানার (ওসি) আবুল ফয়সল জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নয়। তবে অভিযোগ ফেলে হুমকী দাতাদের সনাক্ত করে আইন আমলে নেয়া হবে।

Previous
Next