Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

দেশের আইসিটি খাতে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা প্রয়োজন

Closed

আইসিটি খাতে ব্যাপক সম্ভাবনাময় এ দেশের জন্য আয়োজনটি গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। সফল হলে এটি ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বড় ধাপ হিসেবেও বিবেচিত হবে বৈকি। খেয়াল করার মতো বিষয়, অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), অ্যাকসেঞ্চার ও টেলিনর গ্রুপ। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নাকি গুগলসহ একাধিক বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। সেদিক থেকে দেখলে আইসিটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের এমন সুযোগ কমই মেলে। ফলে আমরা সম্মেলনটির সাফল্য কামনা করি এবং প্রত্যাশা করি, এটি আমাদের আইসিটি খাতে নতুন প্রেরণা সঞ্চার করবে।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আজ। বাংলাদেশকে কীভাবে আইসিটি কেন্দ্রে পরিণত করা যাবে, সেটিই ওই আলোচনার মুখ্য ইস্যু থাকবে বলেও জানা গেল পত্রপত্রিকা মারফত।
গোটা খাতের প্রায় অর্ধেক নিয়োজিত বিভিন্ন তথ্য প্রাযুক্তিক সেবায় এবং তাদের চেয়ে কিছু সংখ্যক কম প্রতিষ্ঠান প্রদান করে ওয়েব সার্ভিস ও ই-কমার্স সেবা। দেখা যাচ্ছে, সিংহভাগ কোম্পানির দৃষ্টিই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় বাজারে। এদিকে প্রতিবছর হাজার হাজার স্বাধীন ফ্রিল্যান্সার নামছেন আউটসোর্সিংয়ে; পাশাপাশি আইসিটি শিক্ষায় শত শত শিক্ষিত ব্যক্তি কর্ম চাইছেন শ্রমবাজারে। না বললেই নয়, এখান থেকে রফতানিকৃত আইসিটি পণ্য ও সেবার মূল গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডস। এ ক্ষেত্রে রফতানি আরো বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বটে, কিন্তু তা সদ্ব্যবহারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই বলে মনে করেন অনেকে। সরকারের উচিত হবে এসব দিকে নজর দেয়া।
তারা আইসিটি খাতের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সত্য, কিন্তু সেটি নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ কম। বরং এ খাতের উন্নয়ন কীভাবে টেকসই ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বড় বিনিয়োগকারীদের কীভাবে আকৃষ্ট করা যায়, তার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। সেজন্য এখন বেশি দরকার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ দেশী-বিদেশী উভয় বিনিয়োগকারীর জন্য।সম্ভাবনার উপযুক্ত বিকাশ চাইলে খাতটির চলৎ বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না কোনোভাবেই। সেখানে কিন্তু প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ কম নেই। লক্ষণীয়, বর্ধিষ্ণু তরুণ ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের (যেখানে জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে) দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি রয়েছে এখনো।
তা সত্ত্বেও এখানে বিনিয়োগের ব্যাপারে অনেকের আগ্রহের বড় তিন কারণÑ এক. এর তরুণ সম্প্রদায়ের ইতিবাচক মনোভাব, দুই. সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং তিন. উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। আইসিটি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইলে প্রাসঙ্গিক প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতি বজায় রাখতে হবে। খাতটির প্রতি বাংলাদেশের মনোযোগ খুব বেশি দিনের নয়। এর মধ্যে কিছুদিন অবহেলিতও থেকেছে বিষয়টি। বর্তমান শাসনামলে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। তবু কিছু ইস্যুতে অসন্তুষ্টি রয়েছে অনেকের। সেটি একেবারে ভিত্তিহীন বলা যাবে না। বরং জানা যাচ্ছে, আমাদের আইসিটি খাতের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয় এবং তার বার্ষিক আয়ও ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নিবন্ধনকৃত বেশিরভাগ আইসিটি প্রতিষ্ঠানই কাস্টমাইজড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও তার রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত।

Previous
Next