Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

নোয়াখালীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের দায় চাপানো হচ্ছে গ্রাহকদের ওপর ভুতুড়ে বিলের কাছে গ্রাহকেরা পণবন্দী

নোয়াখালীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের দায় চাপানো হচ্ছে গ্রাহকদের ওপর ভুতুড়ে বিলের কাছে গ্রাহকেরা পণবন্দী

Closed

222
প্রতিবেদক : নোয়াখালী জেলার বিদ্যুৎ বিভাগে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। বিদ্যুতের লাগামহীন ভুতুড়ে বিলে পণবন্দী হয়ে পড়েছে বৈধ গ্রাহকেরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১ হাজার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের দায় চাপানো হচ্ছে বৈধ গ্রাহকদের ওপর। এনিয়ে বিক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা বার বার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। গ্রাহকদের অভিযোগে জানা যায়, সিস্টেম লস দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল ও গড়বিলের নাম করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিলের দায় চাপানো হচ্ছে বৈধ গ্রাহকদের ওপর। একই সাথে এসব অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দালালদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের মাসোয়ারা। আর এ সব হচ্ছে মিটার রিডারদের মাধ্যমে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল বিষয়ে অভিযোগ করলে ডিজিটাল মিটার না লাগানোর কারণে বেশি বিল আসছে অথবা এটা গড়বিল বলেই পাশ কাটিয়ে যান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎের বিল বিতরণের ক্ষেত্রেও অনিয়ম রয়েছে। নিদিষ্ঠি সময়ের মধ্যে বিল গ্রাহকের কাছে পৌছানোর কথা থাকলেও তা যথা সময়ে বিতরণ করছে না। অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী মিটার পরিদর্শকরা গ্রাহকদের বাসা-বাড়ি ঘুরে ঘুরে মিটার দেখে বিল করার বিধান থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। ঘরে বসেই তারা তৈরী করছেন অতিরিক্ত বিল ও গড় বিল। ফলে বিলের সাথে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোন সামঞ্জস্য নেই। মাইজদীর ফকরুল ইসলাম লিটন,আবদুল হালিম মিলন ও বাহাদুর পুর গ্রামের মহিউদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক ,হাফিজ উল্যা অসংখ্যা গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাদের বিদ্যুৎ ব্যাবহারের চাইতে অনেক বেশী বিল করা হচ্ছে। প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় বিল করেছেন। বিদ্যুৎ গ্রাহক নোয়াখালী পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ মিয়া (মিটার নং-২৭৮৪৭) অভিযোগন করে বলেন, গত জলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল হয়েছে ৬ হাজার ৯শ৯১ টাকা, কিন্তু আগষ্ট মাসে বিল হয়েছে ৪৪হাজার ২শ ৪৩ টাকা। ফকিরপুর গ্রামের কবির আহাম্মেদ (মিটার নং- ২৩৪০৭৩) জানান, জুলাই মাসে তার বিল হয়েছে ২ হাজার ৭৬ টাকা কিন্তু আগষ্ট মাসে বিল হয়েছে দ্বিগুন। একই অভিযোগ করেন সোনাপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন, আবদুল্যাপুর গ্রামের বদিউল আলম, গৃহীনি সুমী আক্তার, পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, গত মে, জুন, জুলাই ও আগষ্ট মাস থেকে পিডিবির মিটার রিডারগন অভার রিডিং (ভূতুড়ে বিল করে) তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে করে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ গ্রাহক নুরুল ইসলাম (মিটার নং ৪০৩২৪) অভিযোগ করে বলেন, তিনি গত জুলাই মাসে বিল পরিশোধ করলেও আগষ্ট মাসের বিলের সঙ্গে ওই বিল যোগ করে জালিয়াতির রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন পিডিবির কর্মীরা। এছাড়াও কোন গ্রাহক মিটার পরিবর্তন করতে চাইলে কোন কাজ হয় না। নতুন সংযোগ নিতে মিটার ক্রয়সহ নিয়ম অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা লাগলেও ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার নিচে কোন গ্রাহককে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পিডিবির কর্মীদের দাবীকৃত টাকা না দিলে গ্রাহকদেরকে চরম হয়রানি করে বিদ্যুৎকর্মীরা। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা বিদ্যৎ সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সংযোগ অনুমোদনের পূর্বেই বাজার থেকে মিটার ক্রয় করে তাতে সংযোগ দিয়ে দেন। পরবর্তীতে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর পুর্ববর্তী মিটার ফেলে দিয়ে নতুন মিটারে সংযোগ প্রদান করে অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই গ্রাহকের ব্যবহৃত হাজার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সিস্টেম লসের মাধ্যমে চুরি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীতে পিডিবির অধীনে প্রায় ৫০হাজর গ্রাহক রয়েছে । এদের মধ্যে ৪০ হাজার আবাসিক ও ৮হাজার বানিজ্যিক ও ২ হাজার লিল্পকারখানার গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ নোয়াখালী শাখার সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ বাবুল অভিযোগ করে বলেন, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমানের নির্দেশে পিডিবির মিটার রিডারগন গ্রাহকদের মিটার থেকে দ্বিগুন পরিমাণ বিল করছেন। এ ব্যাপারে পিডিবির কয়েকজন মিটার রিডারের সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে কথা বললে, তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পিডিবির ৫০ হাজার গ্রাহকের জন্য নিয়ম অনুযায়ী ৪০ জন মিটার রিডার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। তাই ৫০ হাজার গ্রাহকের সবগুলো মিটার দেখে বিল করা সম্ভব নয়। এই জন্য গ্রাহকদের সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।

Previous
Next