Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

পতাকা বিধিমালা সঠিকভাবে মেনে চলার নির্দেশ

পতাকা বিধিমালা সঠিকভাবে মেনে চলার নির্দেশ

Closed

ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক এবং বিভিন্ন দিবসে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধিমালা সঠিকভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নির্দেশ করে। সকল সরকারি ভবন, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত ভবনে সকল কর্মদিবসে পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ঈদে মিলাদুন্নবী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও সরকার ঘোষিত অন্য যে কোনো দিবসে বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন এবং কনস্যুলার অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক।

তা ছাড়া শহীদ দিবস ও জাতীয় শোক দিবসে বা সরকার ঘোষিত অন্যান্য দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি না মেনে একেকজন একেকভাবে পতাকা উড়াচ্ছেন বা অর্ধনমিত রাখছেন। এক্ষেত্রে পতাকার রং, আকার-আকৃতি বা উত্তোলনের ধরনের মধ্যেও গরমিল দেখা যায়। এই গরমিল রোধ করার জন্যে সরকার জাতীয় পতাকা বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালে প্রণীত ‘জাতীয় পতাকা বিধিমালা’য় জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের অবশ্য কর্তব্য।

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(১) অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের ওপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।’ অন্যদিকে পতাকা বিধিতে বলা হয়েছে, পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং সবুজের ভিতরে একটি লাল বৃত্ত থাকবে।

জাতীয় পতাকার মাপ হবে ১০ ফুট বাই ৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তাকার ক্ষেত্রের গাঢ় সবুজ রঙের মাঝে লাল বৃত্ত এবং বৃত্তটি দৈর্ঘ্যরে এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট হবে। ভবনে পতাকা ব্যবহারের তিন ধরনের মাপ হচ্ছে ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট। তবে অনুমতি সাপেক্ষে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ঠিক রেখে ভবনের আয়তন অনুযায়ী বড় আয়তনের পতাকা প্রদর্শন করা যাবে। গাড়িতে ব্যবহারের মাপ হচ্ছে বড় গাড়ির জন্য ১৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি এবং ছোট গাড়ির জন্য ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।

জাতীয় পতাকা কোনো অবস্থায়ই সমতল বা সমান্তরালভাবে বহন করা যাবে না এবং উত্তোলনের সময় সুষ্ঠু ও দ্রুতলয়ে উত্তোলন করতে হবে এবং সসম্মানে অবনমিত করতে হবে। মোটরগাড়ি, নৌযান, উড়োজাহাজ ও বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যতিত অন্যান্য সময় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর কোনো মতেই পতাকা উড্ডীন অবস্থায় থাকবে না।

কোনো কারণে পতাকার অবস্থা ব্যবহারযোগ্য না হলে তা মর্যাদাপূর্ণভাবে সমাধিস্থ করতে হবে। ২০১০ সালে প্রণীত সংশোধিত পতাকা বিধি অনুসারে জাতীয় পতাকার ব্যবহার বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড প্রদানের বিধান রয়েছে।

সরকারি এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট সমগ্রজাতি শ্রদ্ধাভরে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহাপ্রয়াণ তথা জাতীয় শোক দিবস পালন করবে। তাই দেশ ও জাতির পিতার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই জাতীয় শোক দিবসসহ সকল দিবসেই সরকার নির্ধারিত পতাকা বিধি অনুসরণ বাঞ্জনীয়।

Previous
Next