Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিদেশীদের সাথে এমওইউ সই করতে যাচ্ছে সরকার

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিদেশীদের সাথে এমওইউ সই করতে যাচ্ছে সরকার

Closed

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশ থেকে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিচ্ছে সরকার। একই সাথে দেশে সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানিলন্ডারিং রোধে বিদ্যমান নীতিমালা আরো কঠোর করা হচ্ছে। কঠোর নজরদারিতে আনা হচ্ছে দেশের প্রভাবশালীদের ব্যাংক একাউন্ট ও ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। এ লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে তদন্ত ও বিচার প্রক্রয়া সংশোধন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নীতিমালায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে কোনো ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির বিধান করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মানিলন্ডারিং নীতিমালার আওতায় দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তির হিসাব খোলা ও হিসাব পরিচালনার বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল এন্টেলিজেন্স ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ তদারকি করা হবে। একই সাথে সেকেন্ড হোম হিসাবে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যারা গেছেন তাদের অপরাধের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়ার হবে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও বিত্তশালীরা দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ অন্তত ৭-৮টি দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ এদেশ থেকে পাচারের তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে। পাচারকৃত অর্থ দিয়ে পাচারকারীরা ওimagesসব দেশে ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা ছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ ব্যাংক হিসাবও পরিচালনা করছে। অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় দ্বৈত নাগরিকরা বেশি এগিয়ে। এর পরেই রয়েছে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মহল।
সূত্র জানায়, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে বিশেষ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ঋণ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা দেশের বাইওে চলে যাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের কোনো লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে জঙ্গিরা পুঁজিবাজাওে বিনিয়োগ করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। সরকার জঙ্গি অর্থায়নের উৎস ও জঙ্গি অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। একই সাথে সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে থেকে আসা রেমিট্যান্স ইসলামী সংগঠনের মাধ্যমে জঙ্গিদের হাতে যাচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তে চলাচল ও লেনদেনের ক্ষেত্রেও জোর নরজারি চালাবে সরকার। জঙ্গি সংগঠনগুলো যাতে হুন্ডি, কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান করতে না তার নজরদারি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো লেনদেন সন্দেহজনক হলেই তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় আর্থিক বিষয় জড়িত থাকায় আসামিদেও ধরতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সমন্বয় করে কাজ করছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সব ব্যাংকের কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সন্দেহজনক লেনদেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হার্ডলাইনে রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে অর্থ পাচারের সাথে জড়িত সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Previous
Next