Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

পাথরে পরিণত হচ্ছে মেহেদি!

পাথরে পরিণত হচ্ছে মেহেদি!

Closed

 ডেস্ক রিপোর্ট

কোনো চিকিৎসকই রোগ সনাক্ত করতে পারেননি। তারা সবাই বলেন, সে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। কিন্তু কেউ সারিয়ে তুলতে পারেননি। আমার কাছে আর কোনো টাকা নেই। ভ্যান চালিয়ে যতটুকু আয় করতে পারি তার সবই ওর চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। আমার সব সঞ্চয় আর রোজগার ওর চিকিৎসায় পেছনে গেছে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। হতাশ হয়ে ওকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কথা ছেলেকে নিয়ে নিজের কষ্টের এভাবেই বলেছেন ত্বকের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আট বছরের শিশু মেহেদি হাসানের বাবা আবুল কালাম আজাদ।

ত্বকের দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে পাথরে পরিণত হয়ে যাচ্ছে আট বছরের শিশু মেহেদি হাসান। পুরো শরীর পাতলা ও আঁশযুক্ত চামড়ায় আবৃত হয়ে গেছে। এর কারণে তীব্র ব্যথায় সে কোনোকিছু ধরতে কিংবা হাঁটতে পারে না।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার দোনা গ্রামের ভ্যানচালক আবুল কালাম আজাদের তৃতীয় সন্তান মেহেদি জন্মের সময় স্বাভাবিক থাকলেও ১২ দিনের মাথায় তার শরীরে প্রথম ফুসকুড়ি দেখা যায়। এক সময় সেটা বাড়তে বাড়তে এখন মুখ ছাড়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেইল অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদির পুরো শরীর পাতলা ও আঁশযুক্ত চামড়ায় আবৃত হয়ে গেছে। যার ব্যথায় সে কোনোকিছু ধরতে কিংবা হাঁটতে পারে না। এমনকি ত্বকের সঙ্গে হাল্কা ঘষা লাগলেও তীব্র যন্ত্রনা হয়। সেকারণে নিজের কাপড়ও পরতে পারে না মেহেদি। আর গ্রামের অন্য শিশুদের ভয়ের কারণে তাকে সারাদিন বাড়িতে ঘরে বসে থাকতে হয়।

মেহেদির মা জাহানারা বেগম বলেন, সে আট বছর ধরে বাড়িতে রয়েছে। কারণ, সে বের হলেই গ্রামবাসী ভয় পায় এবং খারাপ কথা বলে। আমার শাশুড়িও ওকে পছন্দ করেন না। সে সব সময় যন্ত্রণায় কাঁদে। ওর এই যন্ত্রণা দেখাও অনেক কষ্টের।

তিনি নিজের ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন।

মেহেদির বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “কোনো চিকিৎসকই রোগ সনাক্ত করতে পারেননি। তারা সবাই বলেন, সে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। কিন্তু কেউ সারিয়ে তুলতে পারেননি। আমার কাছে আর কোনো টাকা নেই। ভ্যান চালিয়ে যতটুকু আয় করতে পারি তার সবই ওর চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। আমার সব সঞ্চয় আর রোজগার ওর চিকিৎসায় পেছনে গেছে, কিন্তু কোনো ফল আসেনি। হতাশ হয়ে ওকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি।”

মেহেদির অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকেরা এখনও রোগটির প্রকৃতি, কারণ এবং তা নিরাময় করা যাবে কিনা সে সম্পর্কে কোনো ধারণা পাননি।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. এমদাদুল হক বলেন, “চিকিৎসার জন্য ওকে আমাদের কাছে আনা হয়েছিল। রোগী এক ধরনের বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। সাধারণত এ ধরনের ঘটনা আমরা পাই না। রোগটির কারণ বলা কঠিন। আমরা তাকে আরও উন্নত চর্ম বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করেছি।”

এখন মেহেদির বাবা-মায়ের একমাত্র চাওয়া, সরকার যাতে তাদের সন্তানের চিকিৎসায় এগিয়ে আসে। যেন সে স্কুলে যাওয়াসহ একজন স্বাভাবিক শিশুর মতোই বাঁচতে পারে।

Previous
Next