Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

‘প্রযুক্তি জ্ঞান না থাকায় দেশকে পিছিয়েছে বিএনপি’

‘প্রযুক্তি জ্ঞান না থাকায় দেশকে পিছিয়েছে বিএনপি’

Closed

সুযোগ থাকা সত্বেও প্রযুক্তির জ্ঞান না থাকায় বিএনপি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা দেশ চালাবে তাদের যদি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা না থাকে, স্বপ্ন না থাকে এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে, তবে দেশ যে কত পিছিয়ে যায় তা নিশ্চয়ই দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে।

আজ রবিবার সকাল ১০টায় গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সাবমেরিন ক্যাবলটির ল্যান্ডিস্টেশন পটুয়াখালী উপজেলার কলাপাড়া উপজেলায়। এটি চালু হওয়ায় বাংলাদেশ নতুন করে ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইটের (জিবি) বেশি ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছে। নতুন এ সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর।

শেখ হাসিনা বলেন, সাবমেরিন কেবলের সংযোগটা যখন দক্ষিণ এশিয়ায় আসে তখন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকার বিনা পয়সার এই ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। এজন্য প্রস্তাবও বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া বলে দিয়েছিল এটা নাকি সংযু্ক্ত করা যাবে না। কারণ এটা সংযুক্ত করলে বাংলাদেশের সকল তথ্য বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। তখন বিএনপির সকল মন্ত্রী ও এমপিরাও এই সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। ফলে সেই প্রস্তাব নাকোচ হয়ে গেল। আমরা বিনাপয়সায় সংযোগটা পেলাম না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুইবার বিনা পয়সায় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু প্রযুক্তির জ্ঞান না থাকায় তা নাকচ করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে বিএনপি।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিলাম, কিছু পদক্ষেপ নিলাম, কিছু কার্যক্রম করেও গেলাম। পরবর্তীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসলো তখন তখন সীতাকুন্ড থেকে এটা নিয়ে যাওয়া হলো কক্সবাজার। সেখানে বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হলো। একটা ক্যাবল দিয়ে যেহেতু এটা কক্সবাজারে তাই এটা দিয়ে বাংলাদেশকে কভার করা কিংবা গতিটা ধরে রাখা বেশ কঠিন কাজ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। আজ আমাদের সৌভাগ্য যে সেটা উদ্বোধন করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সবসময় অবহেলিত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া কোনো সরকারই এই এলাকার উন্নয়নের দিকে ফিরেই তাকায়নি। এটা একদম বাস্তব সত্য। যাইহোক আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান আছে। এর মধ্যে আছে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ ভবন, প্রশাসনিক ভবন। তিনি বলেন, কুয়াকাটার সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন আজ আমরা উদ্বোধন করছি। এই কুয়াকাটা অনেকতো তো চিনতই না। এখানে আমাদের দেশের এমন একটা যায়গা যেখানে দাঁড়ালে দেখা যায় সাগরের ভেতর থেকে সূর্য উদিত হচ্ছে এবং সাগরের মধ্যে সূর্য অস্তমিত হচ্ছে। এমন একটা চমৎকার জায়গা এখন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাইটভাঙ্গা গ্রামে ২০১৩ সালের শেষের দিকে ১০ একর জমির ওপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার পর ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার পরীক্ষামূলক শুরু হয়। সাগরের নিচ দিয়ে ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল লাইন বঙ্গোপসাগরের উপকূলে কুয়াকাটার স্টেশন থেকে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে তা সংযোগ স্থাপন করা হয়।

জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনইসি বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় গত দুই বছর ধরে কাজ করে। ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে সমুদ্র তটে আসা সঞ্চালন লাইন বিচ ম্যানহোল, হ্যানহোল, জয়েন্ট ম্যানহোল হয়ে কুয়াকাটার গোড়াআমখোলা পাড়ায় দ্বিতীয় ল্যাংন্ডিং স্টেশনে সংযুক্ত হয়েছে।

Previous
Next