Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

ফেনী সদর-২ নিজাম হাজারী নির্ভার, ভিপি জয়নালের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জে

ফেনী সদর-২ নিজাম হাজারী নির্ভার, ভিপি জয়নালের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জে

Closed
by September 2, 2017 ফেণী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভেতরে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। তবে দলের বিভিন্ন স্তরে আলাপ করে ধারণা করা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ নিজাম হাজারীর প্রার্থিতা অনেকটা নিশ্চিত। আর অন্য প্রধান দল বিএনপির সাবেক সাংসদ ভিপি জয়নালের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর‌্যন্ত এই আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত বলে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। ভোট ছাড়াই এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন নিজাম হাজারী। এবার সে রকম হওয়ার সম্ভাবনা কম। দুই দলেই রয়েছেন একাধিক মনোনয়প্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগ

সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-২ (সদর) আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও জেলা সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী দলীয় সাংগঠনিক শক্তি অনেক জোরালো করেছেন বিএনপি অধ্যুষিত এ জেলায়। গত কয়েক বছরে ৬ উপজেলা, ৫ পৌরসভা, ৪৪টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সব কটি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। তাই এবার প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে কোনো ব্যতিক্রম না ঘটলে ফেনী সদর আসনে এবারও নিজাম উদ্দিন হাজারী দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যম উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ আরও দু-একজন দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেলেও তারা প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেননি। ইকবাল সোবহান চৌধুরী গত ২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে হেরে যান বিএনপিদলীয় প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপির কাছে।

নিজাম হাজারীর রাজনৈতিক উত্থান খুব বেশি দিনের নয়্। ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে তিনি ২০১০ সালে ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আবসারকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে জেলার রাজনীতিতে নিজের ভিত গড়েন।

আগামী নির্বাচনে সরকারি দলটির মনোনয়নের ক্ষেত্রে এই দুজনকে নিয়ে জল্পনা থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য ফেনী-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর প্রতি ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে বলে জোর আলোচনা চলছে।

জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় হানিফ বলেন, ‘নমিনেশন নিয়ে টেনশন করবেন না। নমিনেশন তারাই পাবে যারা জনগণের জন্য কাজ করেন, আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করেন। নিজাম উদ্দিন হাজারী ফেনী জেলা আওয়ামী লীগকে যতটা সুসংগঠিত করেছেন, তা আমি বাংলাদেশের কোনো জেলায় দেখিনি।’

জেলা নেতাদের মধ্যেও অনেকে নিজাম হাজারীর প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানান। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্রামুজ্জামান বলেন, ‘নিজাম উদ্দিন হাজারীর ত্যাগ আর প্রত্যক্ষ সংগ্রামে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির ভিত তৈরি হয়েছে। যাদের ত্যাগ-তিতিক্ষায় তৃণমূলে দল দাঁড়িয়ে আছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হোক। অতিথি পাখি দেখতে চাই না আমরা। জনগণের সঙ্গে আত্মিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হলে ফেনীর তিনটি আসনই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়া সম্ভব।’

বিএনপি জোট

বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মামলা-হামলায় কোণঠাসা বিএনপি। ফলে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে অনেক জায়গায় প্রার্থী দিতে পারেনি স্থানীয় বিএনপি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল অংশ নেবে এমনটা ধরে নিয়ে এই আসনে বিএনপি থেকে মূলত প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া শরিক দলসহ আছেন আরো অন্তত তিনজন। তারা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি, কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিষ্টার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা। জেলার অন্য কোনো আসন পেলে এটি ছেড়ে দেবে জামায়াত।

এ আসনে ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির এই প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীও।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় জেলার তিনটি আসনই চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে সব কটি আসন পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকেই দলমত-নির্বিশেষে বিজয়ী করা হবে বলে নিজেদের আস্থার কথা জানান তারা।

Previous
Next