Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

বসুরহাট থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ২

বসুরহাট থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ২

Closed

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এরইমধ্যে ওই দুই ছাত্রকে ঢাকায় আনা হয়েছে। তবে দুই ছাত্রের পরিবার দাবি করছে— তারা কেউই জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নয়। জঙ্গি সন্দেহে যাদের আটক করা হয়েছে তারা দুইজনই ছাত্র।  এদের একজন আমজাদুল ইসলাম রাসেল (২৩) ওই উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের নাছির উদ্দিনের ছেলে ও আবু আবদুল্লা ইসতিয়াক (১৭) ওই উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের চরকাকড়া গ্রামের সারোওয়ার হোসেন লিটনের ছেলে।

আমজাদুল ইসলাম রাসেল ঢাকা উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র ও আবু আবদুল্লা ইসতিয়াক এবার বসুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

আবু আবদুল্লা ইসতিয়াকের বাবা সারোওয়ার হোসেন লিটন বলেন, আমার ছেলে ফেসবুকে কী এক স্ট্যাটাস দিয়েছে। এ কারণে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের লোকজন তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে জঙ্গিবাদে যুক্ত হবে কী করে? ও তো আমাদের সঙ্গে থেকেই পড়ালেখা করে। আমার ছেলে বসুরহাট হাইস্কুল থেকে ক্লাস অষ্টম শ্রেনীতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

ইসতিয়াকের বড় বোন সৈয়দা সায়মা বলেন, ‘আমার ভাই প্রাপ্ত বয়স্ক না। না বুঝেশুনে সে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। স্ট্যাটাসটি ছিল হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে। সে না বুঝে স্ট্যাটাস দেয়—জার্মানিতে হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি দিয়ে চা খাওয়ানো হয়েছিল।’

‘আমার ভাই না বুঝেই স্ট্যাটাস দিয়েছে। এর জন্য সে সরি বলবে। ওর তো বয়সই হয়নি ফেসবুকের কোন স্ট্যাটাস অপরাধ আর কোনটি অপরাধ নয়।’

‘কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের লোকজন বলেছিল থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে পরিবারের লোকজনকে না জানিয়েই আমার  ভাইকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে’ বলেন সায়মা।

অপরদিকে আমজাদুল ইসলাম রাসেল এর বড় ভাই তাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমার ভাই ঢাকায় পড়াশোনা করে। ধর্ম বিষয়ে তার আগ্রহ আছে। কিন্তু সে কোনো রাজনীতি করে না, নামাজ-কালাম পড়ে।’

‘জঙ্গিবাদ বিষয়ে তার সঙ্গে নানা সময় আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। সে আমাকে বলেছে এরকম কোনো কর্মকাণ্ডকে সে সমর্থন করে না। আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত আমাদের ভাই আইনবিরোধী কোনো কাজে সম্পৃক্ত নয়।’

‘পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে ঢাকায় নিয়ে গেছে’— বলেন তাজুল ইসলাম।

এদিকে ওই দুই ছাত্রের আটকের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে। ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা পুলিশ সপ্তাহ উদযাপনের ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Previous
Next