Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

বাংলাদেশ-ভারত অমীমাংসিত ইস্যুগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হোক

Closed

ভারতের ৬৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির আয়োজনে শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্ডিয়া রিপাবলিক ডে অ্যান্ড কনটেমপোরারি সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক সেমিনার। উপস্থিত বক্তাদের মতামতে এটা স্পষ্ট যে, এরইমধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতিসহ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত খবরাখবরও ছাপা হয়েছে গতকালের বণিক বার্তাসহ পত্রপত্রিকায়। নিঃসন্দেহে উভয় দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় ভালো এবং তা সুখবর। তবে এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো, বিদ্যমান মৈত্রীকে কার্যকর করে তোলা তথা দু’দেশের উন্নয়নে সুসম্পর্কের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত. এ সুসম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কারো কারো ধারণা, যেহেতু বাংলাদেশ-ভারতের অবস্থান স্থির, এ ক্ষেত্রে সাময়িক নীতি গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তৃতীয় বিষয় হলো, অন্তত উপ-আঞ্চলিক ইস্যুতে এবং বিশেষভাবে অর্থনীতির বেলায় পারস্পরিক সহযোগিতার আওতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওই তিন দিক আবার বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সংযুক্ত। ফলে এ ক্ষেত্রে একটি ফেলে অন্যটিকে বেশি গুরুত্ব প্রদানের সুযোগ নেই। বরং সম্ভাবনা বিচারে প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে উভয়ের সমৃদ্ধির স্বার্থে।
খেয়াল করার মতো বিষয়, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দৃঢ়তর রয়েছে মূলত জিটুজি (সরকারি) পর্যায়ে। এ ক্ষেত্রে বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) কিংবা পিপল টু পিপল (পিটুপি) স্তরে সম্পর্কোন্নয়ন আশানুরূপ হয়নি বলে অনেকের ধারণা। অবশ্য এরইমধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবু কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগ, শুল্ক ছাড় মিললেও এখনো নানা রকম অশুল্ক বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিভিন্ন বাংলাদেশী পণ্যকে। এমন ‘কাজীর গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই’ অবস্থা একেবারে কাম্য নয়। সেজন্য ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে আর সমন্বয় বৃদ্ধির প্রতি অধিক দৃষ্টি দিতে হবে আমাদের ব্যবসায়ীদের। তার সঙ্গে কেউ কেউ মনে করেন, গোটা ভারতকে আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে না দেখে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের উচিত অধিক সম্ভাবনাময় বাজার চিহ্নিত করে অগ্রসর হওয়া। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট ইস্যুর দূরদর্শী সমাধানও দরকার। অন্যদিকে উভয় দেশের জনগণের সম্পর্কোন্নয়নের বড় দুটি ক্ষেত্রÑ স্থলসীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও আন্তঃসীমানা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন। আর সেখানে ভারতের ভূমিকাই বৃহৎ বলে প্রতীয়মান। এ অবস্থায় দু’দেশই পারস্পরিক স্বার্থের তাগিদে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও তা কার্যকরে যতœবান হবে বলে সবার প্রত্যাশা।

Previous
Next