Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

বিএনপি অধ্যুষিত ফেনী-৩ আসনে বিএনপি কে হারাতে আওয়ামীলীগের প্রয়োজন প্রভাবশালী প্রার্থীর

বিএনপি অধ্যুষিত ফেনী-৩ আসনে বিএনপি কে হারাতে আওয়ামীলীগের প্রয়োজন প্রভাবশালী প্রার্থীর

Closed

বিশেষ প্রতিদেক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সারাদেশে সবকয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ থেকে বাদ যায়নি ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঁইয়া) আসন। এ আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক তৎপর রয়েছেন। এদের কয়েকজনকে আগে নির্বাচনি এলাকায় দেখা না গেলেও বর্তমানে তারা খেলাধুলা, ক্লাব উদ্বোধন, দলীয় কর্মসুচি, ব্যাক্তিগত উদ্যোগে উঠান বৈঠক, ত্রাণ বিতরণ, দুস্থ্যদের সহযোগিতাসহ নানা আয়োজনে এলাকায় উপস্থিত হচ্ছেন। আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন এবং জাতীয় পার্টির ১জন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রকাশ্যে মাঠে থাকলেও বিএনপি নীরব । ফেনী-৩ নির্বাচনি আসন সোনাগাজী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও দাগনভূঁইয়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৮ জন। আওয়ামীলীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের এলাকায় আনাগোনা রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার। তিনি নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নেত্রী রোকেয়া প্রাচী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও দাগনভুঁইঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন। বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বিগত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মহাজোটের প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে দলের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সাবেকসেনা কর্মকর্তা এবং ১/১১ এর সময়কার গুরুতর অপরাধ দমন ট্্রাইব্যুনালের প্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নাম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কোন প্রচার প্রচারনা না চালালেও নোয়াখালী প্রতিদিনের কাছে এলাকার সেবা করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সোনাগাজিকে ঘিরে কয়েক হাজার কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অর্থনৈতিক জোন। যার কারনে এই নির্বাচনি এলাকাটি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। কয়েক দশক ফেনির রাজনীতিতে চলে আাসা আধিপত্যবাদের বিস্তার যাতে অর্থনৈতিক জোনের উপর পড়তে না পারে তা মাথায় রেখে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এমন একজন প্রার্থী খুজছেন যিনি আধিপত্য রুখতে পারেন। এক্ষেত্রে বারাবার উঠে আসছে কিংবা আলোচিত হচ্ছে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নাম। পেশাগত জীবনে সফল এবং সৎ এই লোকটিকে ঘিরে উদারপন্থিরা চাচ্ছে ফেনির রাজনীতিতে বড় মাপের একটি পরিবর্তন আনতে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এখনও প্রকাশ্যে প্রার্থী হচ্ছেন কিনা তার স্পষ্ট ধারনা না দিলেও আকাশের চাঁদ উঠলে সবাই দেখবেন- বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে প্রদত্ত তার এই বক্তব্যে মনোনয়ন দৌড়ে যে তিনি আছেন তা জানান দিচ্ছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন করতে চাইলে দল তাকে মনোনয়ন প্রদান করবে। নোয়াখালী প্রতিদিনকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পরিষ্কার ভাষায় বলেন, যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই এলাকার মাটি ও মানুষের খেদমত করেছি। যে কোন পর্যায়ে সুযোগ পেলে বা থাকলে ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর সেবা করব।
এদিকে দলীয় কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি স্থানীয়ভাবে নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে। বিএনপি থেকে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ¦ সোলাইমান ভূঞা, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, বিএনপি নেতা ড.নিজাম উদ্দিন , বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাছির উদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমদ এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।এদিকে, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা এনামুল হক মুসার নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবদুর রাজ্জাকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে ফেনী-৩ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ারকে এ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে মাঠে সরব রয়েছেন রিন্টু আনোয়ার। তিনি গতবার মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহর কাছে পরাজিত হন। জাসদের (রব) কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ফেনী-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে এ এলাকা থেকে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তারা কোনো জোটের সঙ্গে না থাকলেও এককভাবে নির্বাচন করবেন বলে জানান দলের এক নেতা।এ আসনে ১৯৯০ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহবুবুল আলম তারা মিয়া। ১৯৯৬ ,২০০১ ও ২০০৮ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরপর চারবার বিএনপির সংসদ সদস্য থাকায় আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত এই আসনটি বিএনপির দুর্গে পরিণত হয়। বিএনপি অধ্যুষিত এই নির্বাচনি এলাকায় সরাসরি যে কোন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে হারানো মুশকিল হবে। আওয়ামীলীগের মার্কা নির্ভর প্রার্থী হলে জয়লাভ করা মোটোও সহজ হবে না। এক্ষেত্রে প্রচন্ড প্রভাব ও প্রতাবশালী প্রার্থী মনোনয়ন প্রদান করতে হবে আওয়ামীলীগকে।

Previous
Next