Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

বৈশাখী রঙে রাঙানো হল সরকারি মুজিব কলেজ,সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

বৈশাখী রঙে রাঙানো হল সরকারি মুজিব কলেজ,সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

Closed

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাঙালি ঐহিত্যের চিরন্তন সাংস্কৃতিকে ধারণ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে বৈশাখী ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে আগমনে স্বাগত জানানোর আয়োজনে আগামীকাল মেতে উঠবে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের অবস্থানরত বাঙালিরা। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালী মিলিত হবে তার সর্বজনীন এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশব্যাপী থাকবে নানা আয়োজন। পথে- ঘাটে ,মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রানের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা। রাজধানীর রমনা বটমূল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম্য মেলায় প্রাণের উৎসবে । তারই ধারাবাহিকতায় বর্ণিল সাজে সাজবে কোম্পানীগঞ্জের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি মুজিব কলেজ।
প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারি মুজিব কলেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আয়োজনটিকে বর্ণিল করে তুলতে ব্যস্ত শিক্ষক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
পান্তা ইলিশ আর বর্ণিল আয়োজন রয়েছে বর্ষবরনে। বৈশাখী রঙ্গে রাঙিয়ে তুলতে পুরো ক্যাম্পাসকে রাঙানো হচ্ছে আলপনায়।
সরকারি মুজিব কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ জানান, কলেজে বর্ষবরণকে মাথায় রেখে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচী রয়েছে। পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানানোর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে । ছাত্রছাত্রীদের ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন ইভেন্ট।
সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সরকারি মুজিব কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জিয়া উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ আমাদের অস্তিতকে নতুনরুপে আবিষ্কার করে। বাংলার প্রতিটি সংস্কৃতিমনা মানুষের কাছে পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হয়ে ধরা দেয়। তাই আমরা নতুন বছরকে সাদরে বরণ করে নিতে নানা উৎসব ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। এ সময় প্রকৃতির বুকেও এক চিরচিরায়িত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমনটি মানব হৃদয়ে বৈশাখের উচ্ছল অভিব্যক্তি ঘটে। বর্ষবরণের আয়োজনে বাঙালির সংস্কৃতিকে শতভাগ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা থাকে আমাদের। ইতমধ্যে আয়োজনকে সাফল্য মন্ডিত করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে আয়োজক কমিটি। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছে আমাদের শিক্ষার্থীরা।
আয়োজক কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক মো ফারুকুল ইসলামকে এবং আয়োজক কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মাদ ফজলুল্লাহ ফারুকী রায়হান ও অধ্যাপক মোস্তফা হামদে তালুকদার । তারা জানান , আগামীকাল এক ভিন্ন আঙ্গিকের অনুষ্ঠান উপহার দেবে তারা।
ব্যস্ত থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় পহেলা বৈশাখকে বরণ করার জন্য রাতদিন কাজ করলেও কোন ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারেনি তাদের । লোকগান, বাউল গান, আবৃত্তির পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও বিশেষ আয়োজন। আগামীকাল পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবো।
প্রতিটি বাঙালীর বছরের নতুন জীবন। এ দিনে আমরা নতুন চেতনায় উদ্দীপিত হই যেন এমনটাই প্রত্যাশা। এ চেতনা যেন নিছক একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় হারিয়ে না যায়। সবার জীবনে সাফল্য ও আনন্দ বয়ে আসুক। বিদূরিত হোক সব ধরনের অশুভ শক্তির অপচ্ছায়া। পুরানো বছর প্রেরণা যোগাক নতুন বছরে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে। প্রতিটি বৈশাখের আমেজ যেন আমাদের জাতীয় ঐক্যের সন্ধান দেয় ও দেশপ্রেমী হতে অনপ্রেরণা যোগায়।
একটি বছরের নিরাশা আর বেদনাকে ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে আকাশের দিকে ছুড়ে দিতে চায় বৈশাখের ঝড়ে দূরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায়। নববর্ষ মানুষকে দেয় আশা আর পরিতৃপ্তির কামনা, মন বারবার বলে ওঠে
‘ছাড়ো ডাক, হে রুদ্র বৈশাখ
ভাঙিয়া মধ্যাহ্ন তন্দ্রা জাগি উঠে বাহির ধারে।

Previous
Next