Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

ভ্যাট প্রত্যাহার: এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক

Closed

টানা কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সামগ্রিক অর্থেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবি রাখে। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার কোনোমতেই শিক্ষাঙ্গনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায় না এবং জনজীবনে অসুবিধাও সৃষ্টি করতে চায় না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সরকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর যে সাড়ে ৭ শতাংশ মূসক আরোপিত হয় সেটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে দাবি তুলে আন্দোলন করছিল তা সরকার মেনে নেয়ার বিষয়টি শিক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন দাবি আদায়ের ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে বলে বিশ্বাস করি। যদিও সরকার একটু বিলম্বে হলেও ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তবুও বিষয়টি শুরুতেই যদি বিষয়টি বিবেচনা করা যেত তা হতো আরো বেশি সুখকর। কেননা শিক্ষার্থীদের গত কয়েক দিনের আন্দোলন তথা সড়ক অবরোধ করার ফলে নাগরিক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটাও সত্য যে, বড় ধরনের কোনো সংকট বা সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির আগেই ভ্যাট নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুরাহা হয়েছে। ভ্যাট আরোপ, শিক্ষার্থীদের ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে বলতে চাই, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই চিত্র স্পষ্ট যে, শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে শিক্ষা গ্রহণের প্রায় প্রতিটি স্তরেই উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে শিক্ষাসেবা! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, কোচিংয়ের দৌরাত্ম্যসহ স্কুল-কলেজের ক্লাস নিয়েও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যেথ শিক্ষার্থীদের ক্লাসের চেয়ে কোচিং নির্ভরতা বাড়ছে বেশি। এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিও অনেক বেশি। এমনটি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়েই ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়, মেধার বালাই নেইথ এমন অভিযোগও আছে। ফলে আমরা মনে করি, শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, ফলে শিক্ষার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তবেই তা দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার ভ্যাটের আওতায় আসতে পারে কিনা। আমরাও চাই, সরকার এই বিষয়টিকে বিবেচনা করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত যেন গ্রহণ না করে যা শিক্ষা অর্জনের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করি, ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে এটাও আমলে নিতে হবে যে, অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পাঠপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন আছে। সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে এর মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার নামে বাণিজ্য বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিকল্প নেই। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ এমনিতেই বেশি। তার ওপর উচ্চ টিউশন ফির ওপর ভ্যাট আরোপ মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘাড় মতোই বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন ভ্যাট প্রত্যাহারের পর সার্বিক বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে সরকারের উচিত হবে দেশে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। ভ্যাট নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি দিলে এটা স্পষ্ট যে, সরকারের ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত দেশের একটি মহলকে সংক্ষুব্ধ করেছিল। যার ফলে শিক্ষার্থীদের অবরোধ এবং জনভোগান্তি চরমে উঠেছিল। সঙ্গত কারণেই যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা উচিত, তা কতটা যুক্তিযুক্ত। যে ধরনের পদক্ষেপ ক্ষোভের সৃষ্টি করে, সার্বিক উন্নয়নের পথে বাধার সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার মতো একটি মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেথ এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সমীচীন নয়। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা অর্জনের পথকে আরো প্রশস্ত করতে সরকার যেকোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধা করবে না এমনটি প্রত্যাশিত।

Previous
Next