Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

মরহুম কোকোর কাছে পাওনা ১৯কোটি টাকার জিম্মাদার কে ?

মরহুম কোকোর কাছে পাওনা ১৯কোটি টাকার জিম্মাদার কে ?

Closed

 

কামরুজ্জামান রনি16201584267_c068e4b874_b

  সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র লাশ গতকাল দেশে এসে ছিলো এবং যথাযথ ধর্মীয় রিতিনীতি মেনে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমে তাঁর নামাজের জানাজও অনুষ্ঠিত হয় । এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি দলীয় পক্ষ থেকে গায়েবানা জানাজাও অনুষ্ঠিত হয় । মরহুমের লাশ গতকালই রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে । দেশের প্রায় সব টিভি চ্যানেলই লাশ বিমান বন্দর থেকে অবতরণ থেকে দাফন পর্যন্ত সকল কিছু সরাসরি সম্প্রচার করেছিলো।
একজন মুসলিম হিসেবে মুসলমানের নামাজের জানাজার একটি উল্লেখ যোগ্য কিছু বিষয় আমরা দেখে এসেছি এবং সেটা বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর প্রায় সর্বত্র প্রচলিত আছে । জানাজার শুরুতে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ একজন জানাজাতে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্যেশে জানান যে, মরহুমের কাছে কারো কোন টাকা পাওনা থাকলে সেটা মরহুমের পরিবারের কোন সদস্য বা পরিবারের পক্ষে কোন ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিগণ সেই ঋণ শোধে জিম্মা নিলেন । মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পরিষ্কার ভাবেই বলেছেন, ”যদি কো বান্দা তাঁর হক (পাওনা) মাফ না করেন তাহলে আল্লাহও সেই হক মাফ করবেন না” । এই জন্য মরহুম ব্যাক্তির লাশ দাফনের পূর্বে নামাজের জানাজার আগেই মরহুমের নিকট কারো কোন পাওনা দেনা সংক্রান্ত বিষয়ে একজন জিম্মাদার সকল দ্বায় দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। জানাজার পর তিন তিন বার করে জানাজাতে উপস্থিত মুসল্লিদের প্রশ্ন করা হয় মরহুম মানুষটি কেমন ছিলেন ? তখন মানবিক কারণেই কারো মধ্যে কোন রাগ,ক্ষোভ,দুঃখ, কষ্ট থেকে থাকলেও তাঁরা সে সব ভূলে তিন তিন বারই ”ভালো ছিলেন” মর্মে উত্তর দেন । আর যদি কোন পাওনাদার থেকে থাকলে সে সংশ্লিষ্ট জিম্মাদারে কাছে যথাযথ প্রমান স্বাপেক্ষে তার বা তাদের নিজ নিজ পাওনা বুঝে নিয়ে থাকেন ।
আমরা সকলেই জানি মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ১/১১ সরকারের দায়ের করা ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি টাকা অবৈধ অর্থ গ্রহণ ও পাচার মামলার বিচারে দোষি প্রমাণিত হন । এবং সেই বিচারের রায়ে মরহুম কোকোর ৬ বছরের কারাদন্ড এবং ১৯০ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় । যেহেতু ১/১১ সরকারের আমলেই মরহুম আরাফাত রহমান কোকো চিকিত্‍সার জন্য প্যারোলে জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশে চলে যান এবং পরবর্তিতে প্যারোল বাতিল হলেও তিনি আর দেশে ফিরে আসেননি । পলাতক অবস্থাতেই তাঁর বিরুদ্ধে ঐ বিচারের তাঁকে দোষি প্রমাণিত পেলে বিচারক ঐ শাস্তি ও জরিমানার রায় প্রদান করেন । উল্লেখ্য পলাতক থাকায় সেই রায়ের বিরুদ্ধে মরহুম কোকো আপিলের সুযোগ না পাওয়ায় মৃত্যূ কালে তিনি ঘোষিত রায়ের ৬বছরের কারাদন্ড এবং ১৯ কোটি টাকার জরিমানার পলাতক আসামি ছিলেন । যেহেতু তিনি বিদেশে ইন্তেকাল করেন এবং লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন সে ক্ষেত্রে মৃত ব্যাক্তির সাজা ভোগের কোন নিয়ম থাকার প্রশ্নই উঠেনা । কিন্তু দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পাচারের বিচারের রায়ের জরিমানার ১৯ কোটি টাকা এখনো রাষ্ট্র মরহুম কোকোর কাছে পাওনা থেকেই গেছে । যেহেতু রাষ্ট্রের কোষাগারে ঐ অর্থ জমা দেয়ার নির্দেশ ছিলো এবং ঐ অর্থের মালিক ছিলো রাষ্ট্র । আর আমরা জানি রাষ্ট্রের মালিক দেশের ১৬ কোটি জনগন তাহলে দেশের ১৬কোটি জনগন ঐ ১৯ কোটি টাকার পাওনাদার হবেন । গতকালের জানাজাতে মরহুম কোকোর পরিবারের পক্ষে সরাসরি কোন সদস্য উপস্থিত ছিলেন না কারণ তার বড় ভাই তারেক রহমান লন্ডনেই স্বপরিবারে অবস্থান করছেন । দেশে অবস্থান করছেন কেবল তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া । তাঁর পক্ষে জানাজাতে উপস্থিত হয়ে মরহুম সন্তানের পক্ষে জিম্মাদারি নেয়াটা সম্ভব ছিলো না এবং সেটা অমানবিকও বটে । তিনি এমনিতেই পুত্রের অকাল মৃত্যূতে শোকে মুজ্জোমান হয়ে ডাক্তারের চিকিত্‍সাধীন আছেন । যদিও দেশ থেকে মালয়শিয়া গিয়ে সেখান থেকে মরহুম কোকো’র লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা ও লাশ দাফন পর্যন্ত সকল আনুষ্ঠানিকতাতে বেগম জিয়ার সাবেক ব্যাক্তিগত সচীব মোসাদ্দেক আলী ফালু গুরুত্ব পূর্ণ অংশ গ্রহণ ও শোকাহত পরিবারের কাছা কাছি দেখা গেলেও মরহুম কোকোর পাওনা-দেনা সম্পর্কিত কোন ঘোষনাতে তাঁকে দেখা যায়নি । এমনকি এই সংক্রান্ত কোন সুনির্দ্দিষ্ট ঘোষনার কথাও কোথাও শোনা যায়নি। যদিও বিএনপি ও জোটের অনেক শীর্ষ নেতাদের কালো ব্যাজ পড়ে জানাজা সহ নানান আনুষ্ঠানিকতাতে অংশ নিতে দেখা গেছে কিন্তু মরহুম কোকোর পরপারের শান্তির জন্য যা বেশী দরকারী এবং যে রিতি সারা বাংলাদেশ সহ মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত আছে সেই জিম্মাদারের দায়িত্ব কেউ নেয়নি।
এখন একজন মা হিসেবে পুত্রের পরপারের শান্তি ও বেহেস্ত প্রাপ্তির পথকে সুগম করতে বেগম জিয়াকেই উদ্যেগ নিয়ে রাষ্ট্রের কোষাগারে ঐ ১৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে । অন্যথা জনগনের পক্ষে যারা রাষ্ট্রের কোষাগারের দ্বায়িত্বে আছেন তাঁদের কাছ থেকে সুসম্পষ্ট ক্ষমা গ্রহণ করে মরহুম সন্তানকে দায় মুক্ত করতে হবে । তবে একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সন্তানের প্রশ্নেও কোন আপোষ করবেন না বলেই বিশ্বাস । তিনি নিশ্চয় চাইবেন না ঐ সামান্য ১৯ কোটি টাকার জন্য তাঁর পুত্র পরপারে কোন দ্বায়ের কারণে বেহেস্ত লাভে বিলম্বের শিকার হন। দেশবাসিও বেগম জিয়ার সেই মাতৃরুপ এবং জিম্মাদারি দেখতে চায় ।

Previous
Next