Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ড্রাইভিং লাইসেন্স!

মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ড্রাইভিং লাইসেন্স!

Closed

 ৩১,০৮,১৫ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, যার সময় লাগে তিন থেকে চার মাস। কিন্তু এতো সময় কোথায়? আবেদনকারীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে21029346201_828ee27611_b মাত্র দুইদিন অর্থাৎ ৪৮ঘণ্টার মধ্যেই লাইসেন্স করে দিচ্ছে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সকারী চক্র!
আর এ ধরনের তৎপরতা চলছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয় এলাকায়। সম্প্রতি ওই এলাকায় ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বিআরটিএ এর আঞ্চলিক কার্যালয়কে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে একাধিক জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স চক্র।জাল লাইসেন্সের পাশাপাশি বিআরটিএ-এর অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে মূল লাইসেন্স দেওয়ার জন্যও রয়েছে দালাল। এক্ষেত্রে টাকার অংকটা বেশি লাগে।অনুসন্ধানে জানা যায়, সাধারণত ছোট যানের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জাল লাইসেন্স প্রস্তুত করে দেয় চক্রটি। এজন্য দেড় হাজার থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয় তারা। আর আসল লাইসেন্স পেতে হলে দালালদের দিতে হবে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।বুধবার বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স করতে এসেছেন চালক আব্দুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, গত চারমাস আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য মোশারফ নামে এক ব্যক্তিকে ছয় হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত লাইসেন্স পাইনি। কবে পাবো তাও জানিনা।
শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়াগামী এক ব্যক্তি বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পার্ট টাইম কাজ পেতে সুবিধা হয়। তাই মাত্র দুইদিনের মধ্যে দালালের দিয়ে লাইসেন্স করিয়ে নিলাম।’
যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএ এর ঢাকা মহানগরের (উত্তর) উপ-পরিচালক মাসুদুল আলম বলেন,‘তিনদিনের মধ্যে কোনোভাবেই লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব না। এটা নকল লাইসেন্স।’
এ প্রসেঙ্গে বিআরটিএ কর্মকর্তা মাসুদ‍ুল আলম বলেন, প্রতিদিনই এখানে শতশত মানুষ বিভিন্ন কাজে আসেন। এরমধ্যে কে দালাল আর কে প্রকৃত আবেদনকারী তা বোঝা কঠিন।
‘তবে অফিস এলাকায় কাউকে সন্দেহজনক চলাচল করতে দেখলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়। আর কোনো প্রমাণ মিললে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ অথবা বিআরটিএ-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়ে থাকেন,’ বলেন তিনি।
সূত্রমতে, জাল লাইসেন্স চক্রের দালালদের সঙ্গে বিআরটিএ-এর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কিছু অসাধু কর্মচারীও রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল বৃহস্পতিবার জানান, বিআরটিএ’র এসব কর্মচারীদের মাধ্যমেই বেশির ভাগ লাইসেন্স করিয়ে দেন। এরমধ্যে রজব আলী ও শহীদুল নামে দুইজনের নামও বলেন তিনি।
তিনি জানান, মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের পাশেই আছে রিপনের দোকান। যেখান থেকে রিপন তার চক্রের সদস্যদের দিয়ে জাল লাইসেন্স প্রস্তুত করে দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (মিডিয়া) উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, জাল লাইসেন্স চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময়ই কঠোর অবস্থানে আছে। তাদের ধরতে নিয়মিত‍ অভিযান চালানো হয়।
গত মাসেও দুজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিআরটিএ এলাকায় আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে

Previous
Next