Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

যক্ষ্মা রোগী বাড়ছেযথাযথ পদক্ষেপ জরুরিযক্ষ্মা রোগী বাড়ছেযথাযথ পদক্ষেপ জরুরি

Closed

 
বহু ওষুধ প্রতিরোধী বা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এমডিআর) এবং ‘লুক্কায়িত’ যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সন্দেহ নেই এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যাবহুল একটি দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আর দেখা যাচ্ছে যে, যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়মিত ও চাহিদামতো ওষুধ সেবন না করা, রোগীর অসচেতনতা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়াতেই মূলত অনেকে এমডিআর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া অনেকে আবার কিছু দিন ওষুধ সেবন করে সুস্থ মনে করে বিষয়টিকে আর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতিতে যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব করলে তা আরো আশঙ্কাজনক চিত্রই তৈরি করবে।
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে উঠে এসেছে যে, যক্ষ্মা আক্রান্তদের সেবা দেয়ার সময়ও সচেতন না থাকার ঘটনা ঘটছে, এ ছাড়া মুখোশ ব্যবহার না করা এবং হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা ও জীবাণুযুক্ত থাকায় সেবিকা-সেবক, কর্মচারী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে লুক্কায়িত যক্ষ্মার প্রকোপও দেখা দিচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন। আরো উৎকণ্ঠার বিষয় হলো, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে যক্ষ্মা রোগীদের সংস্পর্শে থাকার মাধ্যমেও এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। ফলে আমরা মনে করি, এ বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণসাপেক্ষে এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমতগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। কেননা এখন যদি সচেতনতা কিংবা অবহেলার কারণে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যায় তবে তা নির্মূল করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, যা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
তথ্যমতে জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত বৈশ্বিক যক্ষ্মা প্রতিবেদনে বহু ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি এমন ২৭টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে নতুন শনাক্ত করা রোগীর মধ্যে শতকরা ১ দশমিক ৪ ভাগ এমডিআর-যক্ষ্মা রোগী। এমনকি এ প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং দ্বিতীয় ঘাতক ব্যাধি হলো যক্ষ্মা। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশের একদিকে যেমন অত্যধিক জনসংখ্যা অন্যদিকে অভাব-অনটনও নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে রয়েছে যথাযথ সচেতনতারও অভাব। ফলে দ্বিতীয় ঘাতক ব্যাধি হিসেবে যক্ষ্মা যখন বাংলাদেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তখন তার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ গ্রহণে অনীহার কোনো সুযোগ নেই। আর তা হলে এর খেসারত দিতে হবে পুরো জাতিকেই, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের বিভিন্ন শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে লুক্কায়িত যক্ষ্মার প্রকোপ বাড়ছে। এমডিআর এবং লুক্কায়িত যক্ষ্মায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা কত, এ বিষয়ে সরকারি সঠিক কোনো পরিসংখ্যানও নেই। আর যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াকে নতুন সমস্যা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, তখন এ রোগটি নিয়ন্ত্রণের জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাও জরুরি। এ ছাড়া এও সত্য যে, বাংলাদেশে যক্ষ্মার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকেও এগিয়ে আসা অপরিহার্য। সে ক্ষেত্রে উৎসাহ ও প্রণোদনা জোগাতে হবে সরকারকেই।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশে যেন যক্ষ্মা একটি সমস্যা হয়ে না দেখা দেয় তার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ জারি রাখতে হবে। যদিও এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকে। এ লক্ষ্যে হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা ও জীবাণু মুক্ত করতে হবে, তেমনিভাবে সেবিকা-সেবক, কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে লুক্কায়িত যক্ষ্মার প্রকোপ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকেও করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। দেশ যক্ষ্মামুক্ত হোক এমন প্রত্যাশা সবার।

Previous
Next