Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

রিজার্ভ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

Closed

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে যার মধ্যে অর্থনৈতিক খাত অন্যতম। আমরা মনে করি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও অগ্রগতির এই ধারা অত্যন্ত ইতিবাচক। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে তা যে ধারাবাহিক অগ্রগতিকে আরো ত্বরান্বিত করবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। সম্প্রতি জানা যাচ্ছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, এ রিজার্ভ গত বুধবার পর্যন্ত ২১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। বৃহস্পতিবার যা ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াল ২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, এ পরিমাণ রিজার্ভ দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করা যাবে। উল্লেখ্য, এর আগে এই বছরের ২৯ এপ্রিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।
আমরা মনে করি, এই পরিমাণ ডলারের রিজার্ভ যেমন ইতিবাচক তেমনিভাবে রিজার্ভের সদ্ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। কেননা ডলারের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে তা সামগ্রিকভাবে প্রত্যেকটি খাতের উন্নয়নকেই আরো বেগবান করবে। আর এ লক্ষ্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকেই। যদিও ইতোমধ্যে বিনিয়োগ ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ নেয়া হবে বৈদেশিক মুদ্রার সেই রিজার্ভ থেকে; এ ছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও ব্যয় করা হবে উৎপাদনমুখী খাতে। লক্ষ্যণীয় যে, অভ্যন্তরীণ সম্পদের অপ্রতুলতাসহ নানা কারণে অবকাঠামো উন্নয়নে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদেশি ঋণের ওপর সরকারকে নির্ভর করতে হয়। ফলে রিজার্ভকে বিনিয়োগে আনার সিদ্ধান্ত যদি সঠিক বাস্তবায়ন হয় তবে উন্নয়ন অর্থায়নে বৈদেশিক নির্ভরতাও কমবে একই সঙ্গে বিনিয়োগ ঘাটতিও পূরণ করা যাবে, যা অত্যন্ত জরুরিও।
আমরা স্পষ্টত বলতে চাই, রিজার্ভ পরিস্থিতি ইতিবাচক হলে স্বভাবতই তা পুরো অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, এর আগেও রিজার্ভ বৃদ্ধির পরে এমনও লক্ষ্য করা গেছে যে, টাকার মূল্যমান বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা কিছু বাড়তি সুবিধা পেলেও বাজারে তথা ভোক্তা পর্যায়ে এর যথাযথ সুফল নিশ্চিত হয়নি। দেখা গেছে টাকার মূল্যমান বৃদ্ধি পেলে আমদানি করা পণ্যের দাম কমে যাওয়ার কথা, অথচ সেখানে দাম তো কমেইনি, বরং অনেক পণ্যের দাম বেড়েও গিয়েছিল। সঙ্গত কারণেই এবারের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার পাশাপাশি তার যথাযথ সুফল নিশ্চিত করতে যেকোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার উদ্যোগী হবে এমনটি আমরা প্রত্যাশা করতে চাই।
এটা নিশ্চিত যে, রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ করার মধ্যদিয়ে একদিকে বৈদেশিক ঋণের নির্ভরতা কমে যাবে, অন্যদিকে উৎপাদনমুখী খাতে এই অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির খাতগুলো চাঙ্গা রাখা যাবে। আর অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার অর্থই হলো তার সুফল পাবে পুরো দেশের মানুষ। এ ছাড়া জীবনমান উন্নয়নসহ সার্বিক অগ্রগতি তখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যখন রিজার্ভের সঠিক ব্যবহার হবে। এটা অত্যন্ত আশার কথা যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দিক থেকে এখন বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়। এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারত।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, যেকোনো ধরনের অর্জনকে ফলপ্রসূ করতে হলে এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রাজনীতিক স্থিতিশীলতাও জরুরি। মনে রাখা দরকার, এর আগে দেশে যে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা অত্যন্ত ভয়াবহ। যার পরিপ্রেক্ষিতে থমকে গিয়েছিল প্রায় প্রত্যেকটি খাত। ফলে সেই পরিস্থিতির যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে দেশের রাজনীতিক দলগুলোকে। জনজীবন স্বাভাবিক রাখাসহ উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে যার কোনো বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করি, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক এবং একই সঙ্গে ২৫ বিলিয়ন ডলারের যে রিজার্ভ অর্জিত হয়েছে তার এমন ব্যবহার নিশ্চিত হোকথ যেন এর সুফল পায় দেশের মানুষ।

Previous
Next