Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে ফেরি সংকটে যাত্রীদের ভোগান্তি

লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে ফেরি সংকটে যাত্রীদের ভোগান্তি

Closed

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা Lakshmipur-pic-07: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ-রুট।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ রুটটি এখন ‘ভোগান্তির’ রুটে পরিনত হয়েছে। এ রুটে চলাচলকারীদের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই।

ফেরি ও সি-ট্রাক সংকট, অবৈধভাবে ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার, ভোলার ইলিশা ঘাট ভেঙে যাওয়া, জোয়ারে লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাট ডুবে থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ রুট।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে কিষানী ও কনকচাঁপা নামে দু’টি ফেরি চালু রয়েছে। একটি সকাল ৬টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় ছেড়ে যায়। অপরটি সকাল সাড়ে ১০টায় ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে। তাও আবার জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ এ নৌ রুটে মাত্র দু’টি ফেরি থাকায় প্রতিদিন শত শত পরিবহন ও ট্রাক যাতায়াতের জন্য দুই পাড়ে অপেক্ষা করতে হয়। এ পাড় থেকে ওপাড়ে যেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা ও অপেক্ষা করতে হয় অনেক সময়। এতে ট্রাকে বহন করা কাঁচামালে পচন ধরে। ভোগান্তিতে পড়ে বাস যাত্রীরা।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যনত্ম তিনটি সি-ট্রাক ও একটি জাহাজ ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে।

জাহাজ-কুতুবদিয়া সকাল পৌনে ১১টায়, সি-ট্রাক এসটি খিজির-৮ সকাল সাড়ে ১১টায, দুপুর ১২টায় খিজির-৭ ও দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে এমভি ফারিজাত লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট থেকে ভোলায় যায়।

প্রতিদিন ভোলা থেকে শেষ সি-ট্রাকটি ছেড়ে আসে বেলা সাড়ে ১১টায়। লক্ষ্মীপুর থেকে শেষ সি-ট্রাকটি যায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে। এরপর থেকে প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘন্টা ভোলার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ নৌ রুট ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কেউ কেউ অতিপ্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারা পার হয়ে থাকেন।

ভোলার বাসিন্দা মো. ইউসুফ বলেন, দুপুর ১২টায় ঢাকা থেকে মজুচৌধুরীর হাটে ঘাটে এসে পৌঁছেছি। বিকেল ৫টা পর্যনত্ম অপেক্ষা করেও ভোলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারেননি। সি-ট্রাক পরদিন সকাল পৌনে ১১টায়। এখন ফেরির অপেক্ষা করছি। ফেরিরও নিশ্চিয়তা নেই, ফেরি না এলে রাতটি ঘাটেই কাটাতে হবে।

অপর যাত্রী কাশেম মিয়া বলেন, ভোলার ইলিশা ঘাট ভেঙে গেছে। ঘাটটি বর্তমানে অচল। বেদুরিয়া ঘাট হয়ে ফেরি ও সি-ট্রাক চলাচল করে। এতে ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর যাতায়াতে আরো তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা বেশি সময় লাগে। এখন চার ঘন্টার সফর অন্তত সাত ঘন্টা লাগে।

আপেক্ষামান বাস যাত্রীরা বলেন, পাঁচ ঘন্টা ধরে ফেরি জন্য অপেক্ষা করছি। ফেরি না এলে রাতটা বাসেই কাটাতে হবে। ফেরির অপেক্ষায় বাসে থাকা নারী ও শিশুদের খুবই কষ্ট হয়। দ্রুত ইলিশা ঘাট সংস্কার করে চালু করলে এবং সি-ট্রাক ও ফেরির সংখ্য বাড়ালে দুর্ভোগ অনেকটা কমবে।

ট্রাকচালক সফিক বলেন, প্রতিদিন কাঁচামাল নিয়ে বরিশাল যেতে হয়। এভাবে ফেরির অপেক্ষায় থাকতে হয় আমাদের, এতে ট্রাকে থাকা কাঁচামালে পচন ধরে নষ্ট হয়।

বিআইডব্লিউটিএর মজুচৌধুরীর হাট ঘাটে কর্মকর্তা লস্কর মো. কামরুল জানান, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে মাত্র দু’টি ফেরি চালু রয়েছে। এছাড়া জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলে ফেরি। যানবাহনের তুলনায় ফেরি কম হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়

Previous
Next