Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

শক্ত প্রতিপক্ষ নেই …………… জেনারেল (অব.) মাসুদ শেখ আবদুল্লাহ ফুরফুরে মেজাজে রায়পুরে আমজনতা খুশি পাপুলের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায়

শক্ত প্রতিপক্ষ নেই …………… জেনারেল (অব.) মাসুদ শেখ আবদুল্লাহ ফুরফুরে মেজাজে রায়পুরে আমজনতা খুশি পাপুলের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায়

Closed

প্রতিবেদক
মনোনয়ন যাচাই-বাচাইয়ের দিন গতকাল ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর আহাম্মদ মজুমদার স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বশর চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর। ফেনী-৩ আসনে বিএনপির আবদুল লতিফ জনি, স্বতন্ত্র রিন্টু আনোয়ার ও হাসান আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ দু’সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক সচেতন মহলের উৎসুক দৃষ্টি রয়েছে। ফেনী-১ আসন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার। গত সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাসদ ইনুর সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মিরা দীর্ঘদিন যাবত অভিযোগ করে আসছিলেন, জাসদ নেত্রী শিরিন আকতার তাদের মূল্যায়ন করতেন না। ক্ষেত্রবিশেষ পাত্তাও দিতেন না। যার প্রেক্ষিতে এ আসনে আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিরা নিজেদের দলীয় প্রার্থী দাবি করে আসছিল। দলীয় মনোনয়ন লাভে দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিম। কিন্তু মহাজোটের রাজনীতির সমীকরণে শিরিন আখতার এ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন লাভ করলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ, ঝাড়– মিছিলসহ নানাবিদ কর্মসূচি পালন করে। নেতাকর্মিদের চাপের মুখে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির সভাপতি শেখ আবদুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ নির্বাচনী এলাকার সব নেতাকর্মিই মহাজোট প্রার্থী শিরিনের বিপরীতে শেখ আবদুল্লাহর পিছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপি সভাপতি নূর আহমেদ মজুমদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় খোশমেজাজে রয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ঢাকার ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম মজনু। মজনু কেন্দ্রীয় নেতা হলেও এলাকায় তার প্রভাব ও অবস্থান অপেক্ষাকৃত কম। যার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করে নির্বাচনে মূল লড়াই হবে শেখ আবদুল্লার সাথে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও দল এবং এলাকার মানুষের জন্য কয়েক দশক ধরে সুখ দুঃখে নিবেদিত থাকায় শেখ আবদুল্লাহ নির্বাচনী এলাকাবাসীর গুডবুকে রয়েছে।
এদিকে ফেনী-৩ আসনের মহাজোট প্রার্থী লেঃ জেনারেল (অবঃ) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রাজনীতিতে পদার্পণের শুরুটাই যেন সফলতার হাতছানি দিয়ে ডাকছে। রাজনীতিতে যোগদানের সাথে সাথেই লাভ করলেন দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বারের পদ এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লাভ করলেন মহাজোটের দলীয় মনোনয়ন। রাজনীতিতে অল্পসময়ে এতবড় প্রাপ্তি অনেককের ভাগ্যে জুটে কম। সেনাজীবনে সৎ এবং কর্মঠ অফিসার হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন মাসুদ চৌধুরী। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মহাজোটের প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে নির্বাচনী রণক্ষেত্র থেকে সরে গেলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা দেশের ব্যবসায়ীদের প্রিয়পাত্র এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তার পরিবর্তে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয় এলাকায় কম পরিচিতমুখ আবদুল লতিফ জনিকে। গতকাল মনোনয়নপত্র বাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এ আসনে গতবারের মহাজোটের পরাজিত প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। ফলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও তারা অনেকটা দুর্বল প্রার্থী। বিশেষ করে বিএনপির জনি এবং জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগী রিন্টু আনোয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে জেনারেল মাসুদ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুয়েত আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক দানবীর কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়া এ নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতাকর্মিসহ আমজনতার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ড ইউনিয়ন এবং তৃণমূলের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মিসহ সাধারণ জনগণ এ প্রতিবেদকে জানান, ‘দল যার যার, পাপুল জনতার’ আমরা জোট বা দল বুঝি না। এ এলাকার মানুষ পাপুলকে চাই। পাপুল এলাকার গবীর দুঃখীর প্রকৃত বন্ধু। আওয়ামীলীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মিরা জানান, বিএনপি প্রার্থী আবুল খায়ের ভূইয়াকে পরাজিত করে একমাত্র শেখ হাসিনাকে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলই আসনটি উপহার দিতে পারে। স্থানীয়দের মতে এ আসনে মহাজোট থেকে প্রার্থী হিসেবে যাকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে সরাসরি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে সে দাঁড়াতেই পারবেনা। ব্যাপকভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমজনতার কাতারে শরীক হওয়ায় কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। নির্বাচনী এলাকাবাসী মনে করে পাপুলই হতে পারে এ এলাকার নৌকার একমাত্র কাণ্ডারী।

Previous
Next