Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

শিক্ষক সমিতির সাথে প্রকাশনীর যোগসাজোশ কোম্পানীগঞ্জে সরকার নিষিদ্ধ বই বিক্রি ॥ কোটি টাকার বানিজ্য

শিক্ষক সমিতির সাথে প্রকাশনীর যোগসাজোশ কোম্পানীগঞ্জে সরকার নিষিদ্ধ বই বিক্রি ॥ কোটি টাকার বানিজ্য

Closed

কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুথিপত্র প্রকাশনী ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের যোগসাজোশে সরকার নিষিদ্ধ বই বিক্রি করে প্রায় কোটি টাকার বানিজ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের কাছ থেকে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই সরকারের বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে SAMSUNG CAMERA PICTURES পাশাপাশি পাঠ্যসূচীতে সংযুক্ত করা হয়েছে বোর্ড অনুমোদনহীন ব্যকারণ ও গ্রামার বই। সরকার সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালু করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে তা ভেস্তে যাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলা শিক্ষক সমিতি ও পুঁথিপত্র প্রকাশনী। এ জন্য শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রকাশনী থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে সরকারীভাবে সকল বই বিতরণ করা হলেও পুথিপত্র প্রকাশনীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে(শিক্ষক নেতাদের মতে প্রনোদনা/সম্মাননা) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতি উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ঐ প্রকাশনীর ব্যাকরণ ও গ্রামার বই নির্ধারণ করে দেয়। যা শিক্ষা বোর্ডের বোর্ডের কোন অনুমোদন নেই। কিন্তু শিক্ষক সমিতির সিদ্ধন্ত থাকায় কোম্পানীগঞ্জের ৩২টি বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাধ্য হয়ে পুথিপত্র প্রকাশনীর বই ছাত্রছাত্রীদেরকে কিনতে বাধ্য করছে। এ জন্য প্রত্যেকটি বিদ্যালয় প্রকাশনী থেকে পাচ্ছে গড়ে ৩০-৪০ হাজার টাকা করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশনী থেকে প্রাপ্ত টাকার ২০ শতাংশ আবার দিতে হচ্ছে শিক্ষক সমিতিকে। এ সুযোগে প্রকাশনীটি উপজেলার ৩২টি বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে ধরিয়ে দিচ্ছে নি¤œমানে ব্যাকরণ, গ্রামার ও গাইড বই। ব্যাকরণ ও গ্রামার বইয়ের প্রকাশনী মূল্য সাড়ে ৭শ-৮শ টাকা। এ হিসেবে চলতি বছর কোম্পানীগঞ্জে পুথিপত্র প্রকাশনী প্রায় ১কোটি বিশ লক্ষ টাকার বই বিক্রি করেছে। ৭-৮শ টাকায় বই কিনতে না পেরে গ্রামের গরীব অনেক ছাত্রছাত্রী নিয়মিত পড়া শিখতে পারছেনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষক সমিতির এক নেতা জানান, শুধু পুথিপত্র প্রকাশনীর বই নির্ধারণ করায় শিক্ষক সমিতিকে প্রকাশনীর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা। কিন্তু নির্ধারণ করতে নেতাদেরকে কত টাকা দেয়া হয়েছে তা শুধু সভাপতি ও সম্পাদকই জানেন।
বিদ্যালয় গুলোকে প্রকাশনী কোন টাকা দিয়েছে কিনা জানতে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় প্রধানের সাথে আলাপ করলে তারা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষক সমিতি আমাদেরকে বই নির্ধারণ করে দেয়। আমরা সে মোতাবেক ছাত্রছাত্রীদেরকে বই কিনতে বলি। এ জন্য প্রকাশনী তাদেরকে অনুদানও দেয় বলে জানান।
শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হল, সরকারী ভাবে বিদ্যালয় ও ছাত্রছাত্রীরা সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে শিক্ষক সমিতি পুথিপত্র প্রকাশনীর কাছে নিজেদের বিক্রি করে দেয়ায় তাদের দেয়া সিলেবাসে পড়াতে হচ্ছে এমনকি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষায় পুথিপত্রের দেয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এ জন্য বিদ্যালয়গুলো পুথিপত্র প্রকাশনীকে দিতে হচ্ছে টাকা। আবার এ টাকা থেকে সমিতির নেতৃবৃন্দ পাচ্ছেন কমিশন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুলতান আহমেদের সাথে আলাপ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোন বিদ্যালয়কে বই নির্ধারণ করে দিইনা। সিলেবাস ও প্রশ্নপত্র পুথিপত্র প্রকাশনী তৈরী করে দেয়না বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে পুথিপত্র প্রকাশনীর কুমিল্লা অফিসে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে অফিস একাউন্ট মনির জানান, তাদের প্রকাশনীর বই কোম্পানীগঞ্জের সকল বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে সত্য। কিন্তু এ জন্য তারা কাউকে কোন টাকা পয়সা দেননি। সরকারীভাবে সকল বই দেয়ার পরও এ সকল নি¤œমানের বই বিদ্যালয় গুলোতে পাঠ্যসূচীতে অর্ন্তভূক্ত করা যুক্তিযুক্ত কিনা জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত রায় জানান, সরকার অনুমোদিত বইয়ের বাইরে বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে অন্যকোন বই নির্ধারণ করে পড়ানো যাবেনা। পুথিপত্র প্রকাশনীর বই বিদ্যালয় গুলোতে পড়াচ্ছে কিনা বা ছাত্রছাত্রীদেরকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে কিনা তা তিনি জানেননা বলে জানান।

Previous
Next