Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

সুন্দরবনের ঐতিহ্য রক্ষা করুন

Closed

 
শ্যালানদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস তেল ছড়িয়ে সর্বনাশ ঘটিয়েছে সুন্দরবনের। ভারী এই তেলের কারণে নদী ও বনের প্রাণী-প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তেলের কারণে পানির ভেতর মাছের ডিম, রেনু পোনা, জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে গেছে। এর প্রভাব গিয়ে পড়বে খাদ্যচক্রে, ফলে এসবের ওপর নির্ভরশীল কুমির, ডলফিন, শুকর, হরিণসহ সুন্দরবনের গোটা জীববৈচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এমনকি কুমির ও ডলফিন এ অঞ্চল থেকে সরে যেতে পারে। ফার্নেস তেলের ক্ষতির প্রভাব সুন্দরবনের ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর শ্যালানদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রভাব সুন্দরবনে কী হতে পারে, তা নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় এমন ভয়ংকর ফল পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গবেষণার প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেন, এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদি হবে। পানির ভেতরের পরিবর্তন এবং এর ফলে বনের পশুপাখি ও গাছপালার ওপর এর প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে শ্যালা নদীর নৌ-রুটটি বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি কোনভাবেই সুন্দরবনের কোন স্থান দিয়েই তেলবাহী ও কয়লাবাহী কোন জাহাজ নেয়া যাবে না। এদিকে ফার্নেস অয়েল নিঃসরনে সংকটাপন্ন ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের অবস্থা সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে জাতিসংঘের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ দল, দলটি নদীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি, নদীর তলদেশসহ মাটি, ফার্নেস অয়েল লেগে থাকা গাছপালা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। আমরা মনে করি সুন্দরবনকে বাঁচাতে আমাদের কঠোর নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। পরিবেশ হুমকিতে পড়ে এমন কোন কাজ সেখানে করা যাবে না। সুন্দরবন ঘেঁষে কোন অবকাঠামো, বনের ভেতর দিয়ে নৌ-রুট বাতিলসহ সব রকম পরিবেশ ক্ষতির কর্মকান্ড থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।

Previous
Next