Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ‘ঢ্যাপ’

হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ‘ঢ্যাপ’

Closed

এক সময় খাল বিলে অজস্র শাপলা ফুল দেখা যেত। লাল কিংবা সাদা শাপলা ফুল দেখে মুগ্ধ হন না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল। আর তার সাথে সাথে বিপন্নের পথে জলাভূমির ফল ‘ঢ্যাপ’। শাপলার ফলকেই ‘ঢ্যাপ’ বলা হয়। কিছু কিছু আঞ্চলিক নাম ‘ভেট’ বলা হয়। এক সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ শাপলা ফুলের ডাঁটা তরকারি হিসেবে খেতেন। শুধু তাই নয়, এই ‘ঢ্যাপ’ আমাশয়, বদহজম এবং রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য বেশ কার্যকরী বলেও প্রচলিত রয়েছে গ্রামে। কিন্তু ‘শাপলা ফল’ বা ‘ঢ্যাপ’ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এখন। মাঝে-মধ্যে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামের বাজারগুলোতে ‘ঢ্যাপ’ বিক্রি করতে দেখা যায়। হাতীবান্ধার উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের বাজারে খণ্ডকালীন ঢ্যাপ বিক্রেতাদের একজন মনসুর আলী।নি উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি জানান,সানিনাজান ইউনিয়নে কিছু বিলে এখন স্বল্প পরিসরে শাপলা হয়। সেখান থেকেই তিনি শাপলার ফলি ও ঢ্যাপ সংগ্রহ করনে। এক হালি বা ৪টি ঢ্যাপের মূল্য ১০-১৪ টাকা দাম। প্রতিবছর তিনি এই সময়ে এই ফল বিক্রি করেন। জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলায় এক সময় অসংখ্য খাল-বিল ছিল। এর মধ্যে সানিয়াজান ইউনিয়নে ও হাতীবান্ধার কিছু সতি তে এসব ফুল পাওয়া যেতো বেশি । এসব খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল ফুটত। এতে পাওয়া যেত প্রচুর পরিমাণে ঢ্যাপ। কিন্তু আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বিল। তার সাথে সাথেও হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ। শাপলার ফল বা ঢ্যাপ দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খই ভাজা হয়। যেটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে ‘ঢ্যাপের খই’ নামে পরিচিত। এই ঢ্যাপের মধ্যে অসংখ্য বীজদানা থাকে। এসব বীজদানা রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ঢ্যাপের পুষ্টিকর চাল থেকে তৈরি করা খই ও নাড়ু অত্যন্ত সুস্বাদু। খাল-বিল ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো ধ্বংসই এ সুস্বাদু ঢ্যাপ বিলুপ্তি হচ্ছে বলে উপজেলার অনেকেই মনে করেন। উপজেলা কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, যখন অভাব দেখা দিত তখন আমরা শাপলার ভেট দিয়ে ভাত ও খই বানিয়ে খেতাম। কিন্তু এখন তো এইগুলো দেখাই যায় না।

Previous
Next