Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

হুন্ডি কমাতে সহায়তা করছে এজেন্ট ব্যাংকিং

Closed

রেজাউল হক কৌশিক

অবৈধ উপায়ে দেশে অর্থ পাঠাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল ব্যাংকং সেবা পৌঁছে যাওয়ায় খুব সহজে গ্রাহককে তারা আকৃষ্ট করছে। এ অবস্থার কারণে প্রতিমাসেই কমে যাচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) রেমিট্যান্স আসা কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। এ ডিজিটাল হুন্ডি কমাতে প্রবাসীদেরকে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবহার করে রেমিট্যান্স পাঠাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে অবৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর হার কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ৮৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া ৩৫৯ কোটি ২১ লাখ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৫০ কোটি এবং আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক ১৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করেছে। আর গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে ৩১৭ কোটি ৭২ লাখ টাকার রেমিট্যান্স, যা এর আগের প্রান্তিকে ছিল ২৬২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সে হিসেবে গত প্রান্তিকে বিতরণ বেড়েছে ৫৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার রেমিট্যান্স। প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হওয়ায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবৈধ উপায়ে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে।

দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে বৈদেশিক লেনদেনে নিয়োজিত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বৈঠকে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর হুন্ডির তত্পরতা বেড়েছে। এজন্য গ্রাহকের উপযোগী করে ব্যাংকগুলোকে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রেমিট্যান্স বিতরণে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক। ফলে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার আউটলেটের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় গ্রামাঞ্চল কিংবা যেখানে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা দেওয়া লাভজনক নয়, সেসব অঞ্চল ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হয়। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে ব্যাংকিং প্রদানের লক্ষ্যেই এর কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম ব্যাংক এশিয়াকে এজেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্স দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও ১৬টি তফসিলি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১২টি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২২৪টি। আর এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪৭টি। এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমা পড়েছে ৬৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫টি হিসাব খোলা হয়েছে। যা গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৬টি। সে হিসেবে ছয় মাসের ব্যবধানে হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৩২৯টি।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এসব আউটলেটের মধ্যে অনেকগুলো যুক্ত হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) সঙ্গে। ইউডিসির সঙ্গে যুক্ত হওয়া আউটলেটের সংখ্যা এখন এক হাজার ৩১৪টি। যার মধ্যে ব্যাংক এশিয়ার এক হাজার ২২টি, মধুমতি ব্যাংকের ১০০টি এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১৯২টি আউটলেট রয়েছে।

ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী ইত্তেফাক’কে বলেন, পল্লী এলাকার মানুষের ব্যাংকের আওতায় আনতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

এজন্য প্রথমে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়াকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প করে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো সেসময় এগিয়ে না আসায় ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের আর্থিক জ্ঞান (ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি) হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীন অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ভাল করছে ডাচ?-বাংলা ব্যাংক। এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং করার ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যেসব ভুল ছিল সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং করছি। এ ব্যাংকিং চ্যালেঞ্জ কী সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমাদের প্রায় দেড় হাজার আউটলেট আছে। এর মধ্যে ১০০ আউটলেট লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। বাকীগুলোকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে আসায় আমাদের লক্ষ্য।

রেমিট্যান্স উত্তোলন ছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভিতর), বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন প্রকার ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সকল প্রকার ভুর্তকি গ্রহণ করা যায়। এজেন্টরা কোন চেক বই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারেন না। এজেন্টরা বিদেশী সংক্রান্ত কোন লেনদেনও করতে পারেন না। এছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোন চেকও ভাঙানো যায় না। এজেন্টরা মোট লেনদেনের ওপর কমিশন পেয়ে থাকেন।

Previous
Next