Designed by shamsuddin noman

Skip to Content

২টি গ্যাস কূপে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস থাকা স্বত্ত্বেও নোয়াখালীতে গ্রাহকরা গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেনা চালু করা যাচ্ছেনা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান

২টি গ্যাস কূপে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস থাকা স্বত্ত্বেও নোয়াখালীতে গ্রাহকরা গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেনা চালু করা যাচ্ছেনা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান

Closed

DSC01426
প্রতিবেদক : সোনাইমুড়ীর ১০ হাজার গ্রাহক সহ জেলার কয়েক হাজার গ্রাহক সরকারী নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও নতুন গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নোয়াখালীতে দু’টি গ্যাস কূপ হতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন স্বত্ত্বেও সোনাইমুড়ী উপজেলার গ্রাহকেরা গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নোয়াখালীতে সোনাইমুড়ী-বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপ থেকে নতুন করে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে ফেনী-নোয়াখালী লেটারাল লাইনের সাথে সংযোগ করা হয়। । গ্রাহকদের চাহিদাকৃত লোড হল ১ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন সংযোগ না হওয়ায় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছেন। ২টি নতুন গ্যাস কূপ হলো জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সুন্দলপুর গ্যাস কূপ ও সোনাইমুড়ী-বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপ। এ ছাড়াও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের হাবিবপুর গ্রামে ও সোনাইমুড়ী অম্বরনগর গ্রামের আরও ২টি নতুন গ্যাস কূপের কাজ চলছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিজিডিসিএল এর নির্মাণ বিভাগে ২০০৭ সালে সোনাইমুড়ী উপজেলায় ৩৪ কিলোমিটার ৯টি ফাইলের মাধ্যমে রাস্তাকাটা, রেলওয়ে, সড়ক বিভাগ, পৌরসভা, এলজিইডি সহ সকল অনুমতি দেওয়ার পরই সম্প্রসারণ লাইনের চাহিদাপত্রের বাবদ ৪০ লক্ষ ৭০ হাজার ৩শত ৬৫ টাকা জমা দিয়েছেন গ্রাহকেরা। দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও অদ্যাবধি পর্যন্ত কোন পাইপ লাইন স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ। নতুন সংযোগের জন্য ২০০৭ সাল থেকে ১৩ই জুলাই ২০১০ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার গ্রাহক সরকারী নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও অদ্যাবধি পর্যন্ত সংযোগ পায়নি তারা। সম্প্রসারণ লাইন, একক লাইন, চাহিদাপত্র/ডিমান্ড নোট সহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ। এতে উপজেলার ১০ হাজার গ্রাহক নতুন গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সোনাইমুড়ীতে গ্যাসের অভাবে শিল্প বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের মুখে। অন্য দিকে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভুক্তভোগী উপজেলার ৮নং সোনাপুর ইউ’পির বারাহিপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিন জানান, ২০০৭ সালে সম্প্রসারণ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন করি। বিজিডিসিএল এর বিক্রয় বিভাগ নোয়াখালী অফিসে প্রতিনিয়তই গুরাগুরির পর কবে কখন গ্যাস সংযোগ হবে তা কর্তৃপক্ষ কিছুই বলতে পারছেন না। সরকারের কাছে দাবী নতুন গ্যাস সংযোগ দিয়ে জ্বালানী সংকোট হতে আমাদের রক্ষা করুন। আর কত বছর হলে আমরা গ্যাস সংযোগ পাবো। উপজেলার ২নং নদনা ইউ’পির দেবপুর গ্রামের বাহার জানান, ২০০৮ সালে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করি এখন পর্যন্ত সংযোগের আশাই মিলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপে নামক স্থানে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে উদ্ভোধন করেন। উদ্ভোধনের পর খনন কাজটি পায় রাশিয়ার তৈল অনুসন্ধান কোম্পানী। ঐ সময় থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। স্থানীদের মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচী অব্যাহত থাকার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। ২০১৩ সাল থেকে পরিত্যাক্ত ১নং কূপটি থেকে ২শ ফুট দূরত্বে বর্তমানে ৩নং কূপটি সার্বে করার পর ২০১৪ সালে খনন কাজটি সম্পূর্ণ করা হয়। ৩ই মার্চ ২০১৫ সালে পরিক্ষা মূলক ভাবে ৬ মিলিয়ন ঘণফুট গ্যাস ফেনী-নোয়াখালীর লেটারাল লাইনে সেতু ভাঙ্গা নামকস্থানে হুকাপের মাধ্যমে সংযোগ প্রদান করে। বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপে বর্তমান পেশার ২৮৩০ পিএসআইজির থেকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ কে ১৪০ পিএসআইজি দেওয়া হচ্ছে। বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপ থেকে গ্যাসের পাশাপাশি অংশিক পেট্রোল ও অকটেন জাতীয় পদার্থ পাওয়া যাচ্ছে। এতে নোয়াখালী জেলাসহ আরও ২/৩ টি জেলায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিলেও গ্যাস সংকোট দেখা দিবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। নতুন আরও ২টি অনুসন্ধান গ্যাস কূপে সিসমিক সার্বে চলছে এবং ১/২ বছরের মধ্যে আরও দু’টি গ্যাস কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছেন। নতুন গ্যাসকূপটি অনুসন্ধানের স্থান সোনাইমুড়ী উপজেলার ৫নং ইউ’পির অম্বরনগর আজিজিয়া মাদরাসার সংলগ্নে ও নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ হাবিবপুর গ্রামে। এ বিষয়ে নোয়াখালীর বাখরাবাদ গ্যাসের বিক্রয় বিভাগ ডিজিএম মো: ইউসুফ আলী বলেন, ৩ই মার্চ থেকে আমরা ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে পরীক্ষা মূলক ভাবে ফেনী-নোয়াখালী লেটারাল লাইনের সাথে সংযোগ করেছি। নতুন সংযোগের বিষয়ে জানান, কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে নতুন সংযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়াও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের হাবিবপুর গ্রামে ও সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর গ্রামের ২টি নতুন গ্যাস কূপের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপ বাফেক্স উপ-ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী মো: বাইজিদ হোসেন জানান, বর্তমানে ৩নং কূপ ২০১৪ সালে খনন কাজে সম্পণ হয়। প্রকল্পের ব্যায় খনন কাজে মোট খরচ ২১০ কোটি টাকা, । প্রসেস প্ল্যান্ট মোট খরচ হয় ৪০ কোটি টাকা। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ গ্যাসকূপের প্রকল্পের মোট ব্যায় আড়াই শত কোটি টাকা। ৩ই মার্চ ২০১৫ সালে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট পরীক্ষা মূলক ভাবে সেতুভাঙ্গাতে সংযোগ করা হয়। বেগমগঞ্জ গ্যাস কূপ থেকে মোট সর্বোচ্চ উত্তোলন করা যাবে ২০ মিলিয়ন পিএসআইজি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ জানান, দীর্ঘদিন থেকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের মুখে। শিল্প সংযোগের জন্য জেলা পরিষদের প্রশাষক ডা: জাফর উল্লাহ ভাই ও ইন্ট্রামেক্স গ্রুপের বিশিষ্ট শিল্পপতি এটিএম এনায়েত উল্লাহর আবেদন ও রয়েছেন। আরও বলেন, সেনবাগ-সোনাইমুড়ী (আংশিক)-২ সংসদ সদস্য ও বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম অম্বরনগরে বিশাল এক শিল্পকারখানা স্থাপন করে আছেন যা নতুন গ্যাস সংযোগের কারণে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। নোয়াখালীতে ব্যবসা করতে হলে সন্ত্রাসীদের কোনো চাঁদা দিতে হয় না । তাই এখানে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শিল্প কারখানা গড়ে উঠাই। বাংলাদেশের শিল্প নগরী হিসাবে নোয়াখালীর নামও রয়েছে ।এ বিষয়ে জ্বালানী সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস থাকায় এ মাসের মধ্যেই আমরা মিটিং করে সংযোগের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিব।

Previous
Next