অন্যান্যনোয়াখালী

সুবর্ণচরে প্রেমিকার আত্বীয় স্বজনের মারধরে স্কুল ছাত্রের বিষপানে আত্নহত্যা

পরিবারের দাবি হত্যা

নোয়াখালী সুবর্ণচরে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র এক স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে প্রেমিকার আত্বীয় স্বজনরা অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্নহত্যা করে করে ৭নং পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের পূবচরবাটা স্কুল এণ্ড কলেজের মেধাবী ছাত্র মোঃ রিয়াজ উদ্দিন (১৪)। এটা আত্নহত্যা নয়, তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন নিহত ছাত্রের পরিবার প্রতক্ষ্যদর্শী সহপাঠিরা। নিহত রিয়াজ উদ্দিন ৭নং পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চর নাঙ্গুগুলিয়া গ্রামের চাকুরীজিবী আবুল কাশেমের এক মাত্র সন্তান।

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, রিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার সহপাঠিরা সহ এলাকাবাসি শনিবার সকাল ১০ টায় বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে, পরে খবর পেয়ে চরজব্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের বাবা কাশেম অভিযোগ করে বলেন,পূর্বচরবাটা গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে পূর্বচরবাটা স্কুল এণ্ড কলেজের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী সানজিদা ইয়াসমিন নাদিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, রিয়াজ পাত্তা না দিলেও নাদিয়া রিয়াজের পিছু ছাড়তো না রিয়াজের সাথে প্রেম করার জন্য একাধিকবার, একাধিক চিঠি রিয়াজকে দিয়েছিলো নাদিয়া। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর রিয়াজ আসার পথে নাদিয়া তাকে একটি চিঠি দেয়।

ঐ চিঠি দেয়ার সময় দেখে পেলে মেয়ের আত্বীয় পূর্বচরবাটা গ্রামের বোরহান উদ্দিন ব্যাপারির ছেলে আলা উদ্দিন (১৮), বেলায়েত হোসেন মাষ্টারের ছেলে ইকবাল হোসেন শাকিব, মনতাজ মাষ্টারের ছেলে রাব্বি((১৯), ছান্দু ডুবাইওয়ালার ছেলে বাবুয়াসহ অজ্ঞাত ২/৩ জন যুবক রিয়াজকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে, রিয়াজকে মারধরের খবর পেয়ে তার সহপাঠিরা দৌঁডে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়, রিয়াজকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে সহপাঠিসহ এলাকাবাসিরা।

পরদিন শুক্রবার সকালে রিয়াজের শরীরে ব্যাথা অনুভব হলে সে শৌরচিৎকার করতে থাকে পরে বাড়ীর লোকজন প্রথমে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেলা ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যান সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এণ্ড হাসপাতাল নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজকে মৃত ঘোষনা করে, রিয়াজকে বাড়ীতে আনা হলে স্থানীয় ভূঁইয়ারহাট পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ গিয়ে লাশ চরজব্বার থানায় নিয়ে আসে। চরজব্বর থানা পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুর ২ টায় রিয়াজকে পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের পাওয়া যায়নি। চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ সাহেদ উদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় কোন অভিযোগ পায়নি অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে”। চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ ইব্রাহিম বলেন, “প্রেমিকার আত্বীয় কয়েকজন যুবক মারধর করায় রিয়াজ অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্নহত্যা করে। তবে রিয়াজের শরীরের আঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে” ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসি বলেন, অভিযুক্ত রাব্বি, শাকিব, আলাউদ্দিন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, তারা প্রায় সময় স্কুল শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং করে, কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করে এবং ভয়ভিতি দেখায় যার ফলে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা।

এব্যপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। এদিকে মেধাবী ছাত্র রিয়াজকে হারিয়ে শোকে কাতর এলাকাবাসী, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন নিহতের মা কমলা বেগম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close