জাতীয়

নুসরাত হত্যা মামলার আসামী অন্ত:সত্ত্বা মনিকে আদালতে হাজির

মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ উপেক্ষা করে নুসরাত হত্যা মামলার আসামী নয় মাসের অন্ত:সত্ত্বা কামরুন নাহার মনিকে আজও আদালতে হাজির করা হয়েছে। শুক্রবার(৭ সেপ্টেবর) তিন সদস্যদের মেডিকেল বোর্ড ডেলিভারী না হওয়া পর্যন্ত মনিকে পুর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও তাকে মামলার বিচার কাজে অংশ নিতে আদালতে হাজির করা হয়। মনির আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল জানান, অসুস্থ্যতার বিষয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে আদালতে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আদেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। এমন আদেশের পর কারা কর্তৃপক্ষ এ্যাম্বুলেন্স যোগে আসামীকে আনা নেওয়ার সক্ষমতা নেই বলে আদালতকে অবহিত করেন।
জানা গেছে, স্মারক নং-সিএসএফ মেডিকেল বোর্ড/১৯/তারিখ-০৪/০৯/১৯ ইং মোতাবেক শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টার দিকে ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবু তাহের,জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনি) ডাক্তার রোকশানা বেগম, ডাক্তার মো: ছায়েদুর রহমানের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ফেনী কারাগারে গিয়ে হাজতী নং-১০৬৯/১৯ কামরুন নাহার মনির শারীরিক পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন। তারপর তারা মনির শারীরিক আবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেন, কামরুন নাহার মনি, বয়ষ-১৯। সে ৩৭ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বা । আগামী ২৪ সেপ্টেম্বের তার সন্তানের প্রসবের সম্ভবনা রয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষন করে মেডিকেল বোর্ড সিন্ধান্ত নেন যে কোন চলাফেরা মনি ও তার সন্তানের জন্য ঝুকিপূর্ন ।তারা ডেলিভারী সময় পর্যন্ত তাকে পুর্নাঙ্গ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।
ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবু তাহের জানান, মনির শারীরিক যে অবস্থা তাতে যে কোন ধরনের চলাফেরা মনি ও তার অনাগত সন্তানের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ন, চলাফেরা করলে মা ও সন্তানের মৃত্যুর কারন হতে পারে।
মনির আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল বলেন, এ অবস্থায় তাকে আদালতে আনা নেওয়ার কারনে যে কোন দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মামলার অভিযোগ গঠনের পর থেকে প্রতি কার্য দিবসে তাকে আদালতে আনা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আদালতকে বার বার অবহিত করা হয়েছে। প্রসবের সময় পর্যন্ত একাধিকবার তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত না মঞ্জুর করেন। এমনকি তাকে ব্যাক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যহতি দিয়ে মামলার বিচার কাজ পরিচালনার আবেদন করা হলে আদালত সেটাও না মঞ্জুর করেন।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি হাফেজ আহাম্মদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ ব্যাপার কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে ফেনী জেলা কারাগারের সুপার রফিকুল কাদেরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি,এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর দেননি।

পিবিআই প্রধানকে তলবের আবেদন না মঞ্জুর

নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষী হিসেবে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারকে আদালতে তলবের জন্য আসামী পক্ষের আইনজীবীর আবেদন না মঞ্জুর করেছেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনানের বিচারক মামুনুর রশিদ। রোববার আদালতের কার্যক্রম চলাকালে আসামী পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু আগের আবেদনের শুনানী করেন। তিনি আদালতে দাবী করেন গত ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বলেন আসামীরা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি যখন বক্তব্যটি দেন তখন আসামীরা পিবিআই হেফাজতে ছিলেন,তারা তখন জবানবন্দি দেয়নি। তার বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরদিন আসামী শামিম ও নুর উদ্দিকে নির্যাতন করে জবানবন্দি আদায় করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি হাফেজ আহমদ ও বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহাজাহান সাজু আসামী পক্ষের আবেদনের তীব্র বিরোধীতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানী শেষে বিচারক মামলায় তার সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা নেই জানিয়ে আবেদন না মঞ্জুর করেন।
এদিন সকালে ১৬ আসামীর উপস্থিতিতে নুসরাতের দুই সহপাঠী নাসরিত সুলতানা ফুর্তি ও নিশাত সুলতানার ফের জেরা সমাপ্ত করেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা। একই সময়ে আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু আসামী হফেজ আব্দুল কাদেরের পক্ষে মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমকে ফের জেরা করার আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সোমবার তাদের জেরার দিন ধার্য করে বিচার কাজ মুলতবি করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close