নোয়াখালীনোয়াখালীর খবর

সড়কমন্ত্রীর এলাকায়ই সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

বিশেষ প্র্রতিবেদক : নোয়াখালীর সেনবাগ-সোনাইমুড়ি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তার পাশের কৃষকদের জমি থেকে মাটি কেটে তা রোলিং মেশিনের ম্যধ্যমে প্লেইং না করে একাধারে মাটি ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। রোলার মেশিন ও কোন সয়েল কমপ্রেক্টর মেশিন ব্যবহার না করেই যত্রতত্রভাবে এ মাটি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে বলে আমাদের এ প্রতিবেদক সরজমিন পরিদর্শনে দেখতে পান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নোয়াখালীর কৃতি সন্তান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যেখানে সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন সেখানে কিভাবে তার এলাকায়ই এভাবে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ হচ্ছে? তারা এ ব্যাপারে দ্রুত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশ থেকেই মাটি উত্তোলনে কৃষিজমির মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি যেনতেনভাবে সড়ক নির্মাণে সড়কটি টেকসই হচ্ছে না, ফলে সড়কটির নির্মাণের কয়েক মাসের মাথায় নির্মাণাধীন সড়কের বর্ধিতকরণ অংশ ধ্বসে গিয়ে জন দুর্ভোগের আংশকা দেখা দেবে।
নোয়াখালীর সেনবাগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেনবাগ-সোনাইমুড়ি প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে ঠিকাদারী সংস্থার বিরুদ্ধে কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। যদিও প্রশস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ঠিকাদার নিজেই ব্যবস্থা করার কথা। এ নিয়ে সড়কের দুই পাশের কৃষি জমির মালিকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সেনবাগ রাস্তার মাথা থেকে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়কের মাথা পর্যন্ত সেনবাগ-সোনাইমুড়ি সড়কের প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কটিকে পূর্বের ১৮ ফুট প্রশস্ত থেকে ২৪ ফুট প্রশস্তে উন্নীত করা হচ্ছে। এজন্য সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে ছয় ফুট নতুন করে মাটি ভরাট করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশ প্রসস্ত করার জন্য মাটি ভরাট করতে গিয়ে সড়কের পাশের কৃষি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাটি কাটার যন্ত্র। কোনো কোনো স্থানে মাটি কাটতে গিয়ে কৃষি জমিতে গভীর গর্ত করা হচ্ছে কিংবা খালের মত করে মাটি কেটে রাস্তা বাঁধানো হচ্ছে। এতে কৃষি জমিগুলোর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন আবাদি পড়ে থাকার আশংকা তৈরী হচ্ছে।
উপজেলার হোমনাবাদ-শ্রীপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেন ও মো. মিলনসহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে ঠিকাদারের লোকজন মাটি কাটার যন্ত্র নিয়ে হঠাৎ তাঁদের জমি থেকে মাটি কাটা শুরু করেন। তাঁরা তখন এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। ঠিকাদারের লোকজন তা দেখাতে পারেননি। পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন ঠিকাদার নিজ দায়িত্বে মাটি কিনে সড়ক প্রসস্ত করার কথা। তারা তা না করে প্রভাব খাটিয়ে কৃষকের জমি কেটে নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সড়ক ঘেঁষেই তাদের বসতঘর। ঘরের ভিটিটি পৈত্রিকভাবে মালিকানা সম্পত্তি। এখন সড়ক তিন ফুট প্রসস্ত করা হলে বসতঘর তুলে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু অন্য কোথায়ও যে ঘর করবেন, সে জায়গাও নেই। এ অবস্থায় জমির ক্ষতিপুরণ না পেয়ে পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সওজ’র সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করাসহ আনুসাঙ্গিক কাজে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। কাজের ঠিকাদারী পায় ঢাকার মেসার্স কামাল অ্যাসোসিয়েট নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
ভুক্তভোগীরা বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজের আখের গোঁচাতে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাই টুকু কেড়ে নিতে চাই, এভাবে মাটি কেটে নিম্নমানের সড়ক তৈরীর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, চলমান অন্যায় আমরা মেনে নিবো না, আমরা আমাদের ক্ষতিপূরণ চাই এবং টেকসই উন্নয়ন চাই, আমরা আমাদের নায্য পাওনা পেতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ ব্যাপারে সওজ নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল জানান, সড়কের পাশে সরকারি জমি কিংবা খাল থাকলে সেখান থেকে ঠিকাদার মাটি সংগ্রহ করবেন। আর না থাকলে ঠিকাদার মাটির ব্যবস্থা করবেন। সেক্ষেত্রে ঠিকাদার জমির মালিকদের বুঝিয়ে মাটি নিতে না পারলে কিনে নিবেন। জমির মালিক মাটি না দিলে তাকে বাহির থেকে কিনে নিতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close