জাতীয়লক্ষ্মীপুর

পাপুল এমপির বিরুদ্ধে কুয়েতি ষড়যন্ত্র

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করেও শুধুমাত্র সমাজসেবা ও মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বর্তমান সংসদের সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই তাক লাগানো জনপ্রিয় সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র নতুন কোন বিষয় নয়। সামাজিক কর্মকাণ্ড শুরুর সময় থেকে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল তা আজও বিদ্যমান। বরং দিনে দিনে এই ষড়যন্ত্র নতুন নতুন রূপ ধারণ করেছে। কুয়েতকেন্দ্রিক একটি মহল এবং বাংলাদেশের একটি মহল যৌথভাবে পাপুল বিরোধী অপপ্রচারে নেমেছে। পাপুল প্রতিষ্ঠিত কুয়েতের বিখ্যাত কোম্পানী মারাফিয়া কুয়েতিয়া গ্রুপ অফ কোম্পানীজ কুয়েতের সবচেয়ে বড় কোম্পানীর একটি। মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ২১ হাজার কর্মচারী মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে কর্মরত রয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ২ দশকের বেশি সময়কালে সাফল্যের সাথে প্রকল্পগুলো সম্পাদন করে।
মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ এই পর্যন্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট সম্পন্ন করে। এই কোম্পানির ম্যানেজমেন্টে কাজ করছে কুয়েতি, বাংলাদেশী, আমেরিকান, ব্রিটিশ, কানাডিয়ান, ইন্ডিয়ান, টার্কিশ, মিসরীসহ অনেক দেশের নাগরিক। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি কাজ করছে কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, তেল, গ্যাস, রিফাইনারী, হাইড্র অপারেশন, পাইপ লাইন, মিলিটারি লজিস্টিকস, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, আইটি, সিকিউরিটি সশস্ত্র ও অসশস্ত্র।
সূত্র জানায়, বছরের পর বছর কাজী পাপুলের ব্যবসায়ী পলিসির সাথে প্রতিযোগিতায় না টিকে তারা ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে। কুয়েতের এই মহলটি বাংলাদেশের রায়পুর লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীক পাপুল বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে যৌথ অপপ্রচারে নামে। গত দুইদিন অখ্যাত নামসর্বস্ত্র বিভিন্ন অনলাইন পাপুল বিরোধী প্রচারণায় নেমেছে কোমর বেঁধে। তাদের প্রকাশিত সংবাদ মতে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল এমপি মানব পাচারের মাধ্যমে ১৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এইসব অখ্যাত নামসর্বস্ত্র অনলাইন সংবাদকে পুঁজি করে বাংলাদেশের একটি দৈনিক “মানবপাচারে ১৪০০ কোটি টাকার কারবার কুয়েত থেকে লাপাত্তা বাংলাদেশের এমপি” শিরোনামের শীর্ষ সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদে মনগড়া কল্প-কাহিনীর পাশাপাশি পত্রিকাটি কুয়েতস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান মোঃ আনিসুজ্জামানের বরাতে উল্লেখ করে, এমপিকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর কুয়েত সিআইডি-তে তারা তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করেছেন। সিআইডি-তে থেকে মারাতিয়া কুয়েতি গ্রুপ অফ সত্বাধিকারী কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পত্রিকাটি তাদের সংবাদের শুরুতেই উল্লেখ করেছে “কুয়েতে মানব পাঁচারের হাজার কোটি টাকার কারবারে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের নাম এসেছে। কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডির অভিযানে মুখে বাংলাদেশের এই এমপি কুয়েত ছেড়েছেন”। পত্রিকার প্রকাশিত এই সংবাদকে হিংসাপূর্ণ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ মিশনের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলাদেশ দূতাবাসের সে কর্মকর্তা জানান, পত্রিকাটি আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন এমপির নাম এসেছে বলে উল্লেখ করলে আমরা তাদেরকে জানাই এখানকার প্রতিবেদনে বা পত্র-পত্রিকার কোন এমপির নাম উল্লেখ করা হয়নি। কথা প্রসঙ্গে পত্রিকাটি কুয়েতে একজন এমপি ব্যবসায় করেছেন উল্লেখ করলে আমরা তাদের বলি যে, এখানে একজন মাননীয় সংসদ সদস্য সুনামের সাথে বড় ধরনের ব্যবসায় জড়িত আছেন। যদি এই পত্রিকাটি তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে (এমপিকে) নির্দেশ করে থাকে তাহলে আমরা মনে করি এটি ব্যবসায়ের প্রতি হিংসান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপেরই অংশ।
ওই কর্মকতা আরো উল্লেখ করেন, পত্রিকাটির এক সাংবাদিক মোবাইল ফোনে আমাদের কাছে আল কাবাস পত্রিকার রেফারেন্স উল্লেখ করে মানব পাচার সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা তাকে জানাই যে, কুয়েতে সব কোম্পানী তাদের বিভিন্ন কন্ট্রাকের জন্য যেসব শ্রমিক আনয়ন করেছে তাকেই আল কাবাস পত্রিকাটি মানব পাচার হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি আরো জানান, পত্রিকাটি সিআইডি নিশ্চিত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বানোয়াট। আমার কখনো সিআইডি রেফারেন্স উল্লেখ করিনি।
কুয়েত দূতাবাসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কুয়েত দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট উল্লেখ করায় সংবাদটি গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা গিয়েছে। সূত্রমতে, কুয়েতে পাপুল এমপি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সেখানকার স্থানীয় কিছু পত্র-পত্রিকায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া অনুমান নির্ভর মানবপাচার মানি লন্ডারিং-এর সংবাদ প্রকাশ করেন। এসব সংবাদগুলোতে কাজী পাপুল এমপির নাম কিংবা তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা না হলেও বাংলাদেশের সংবাদপত্রটি পাপুল বিরোধীদের প্ররোচণায় পাপুল এমপির নাম উল্লেখ করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। যা অনেকটা বাংলাদেশের সংসদ, সংসদ সদস্য সর্বোপরি দেশকে খাটো করার সামিল। সূত্র জানায় সংসদ সদস্য কাজী পাপুলের কোন ম্যানপাওয়ার বা জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসায় দেশে বা বিদেশে নেই। তাহলে তিনি কিভাবে অবৈধভাবে মানবপাচার করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদপত্রটিতে প্রকাশিত সংবাদ নামের বিশাল গল্পটি পড়লে রায়পুর, লক্ষ্মীপুরের পাপুল বিরোধীদের সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার গন্ধ পাওয়া যায়। প্রকাশিত সংবাদের এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। সেখানে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোঃ নোমান। প্রকাশিত সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয় কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল এমপি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মোঃ নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন।
প্রকৃতপক্ষে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের জনপ্রিয়তা দেখে এবং নিজের পরাজয় নিশ্চিত জেনে তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাড়ান।
এদিকে আগামী মাসে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল রায়পুরের এমপি হলেও পুরো লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী রাজনীতি নিয়ন্ত্রকদের একটি অংশ মনে করেছেন কাজী পাপুল এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করতে পারেন। এই ভয় থেকেও পাপুল বিরোধীরা পাপুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে স্বচেষ্ট। অতীতের যে কোন সময়ের থেকে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল লক্ষ্মীপুরের সবচাইতে জনপ্রিয় এবং জননন্দিত নেতা। যিনি চষে বেড়ান বাড়ি থেকে বাড়ি, গ্রাম থেকে গ্রাম প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শুরুর দিকে রায়পুরের বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু কাজী পাপুলের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেন স্থানীয় এবং জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ। শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের বিরোধিতা কাজে লাগেনি। রায়পুরের প্রতিটা ওয়ার্ডভিত্তিক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে সফল হন কাজী পাপুল। তিনি প্রতিটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অফিস, আসবাবপত্র এবং অফিস ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মহিলাদের মাঝে আওয়ামী লীগের সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি ইউনিয়নের ৫০ জন মহিলাকে সেলাই মেশিন দিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছেন। প্রতি ইউনিয়নের সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা বাড়াতে, যাতে কর্মীদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন তার জন্য প্রতি ইউনিয়নের সভাপতি/সম্পাদককে কাজী পাপুল মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছেন। ২/১টি জাতীয় কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোন কর্মসূচি দেখা যায় না রায়পুরে। জাতিরজনকের মৃত্যুবার্ষিকীতে গরু জবাই কি জিনিস তা রায়পুরবাসী জানত না ২০১৭ সালের পূর্বে। ২০১৭ সাল থেকে কাজী পাপুল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রায়পুরের প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে গুরু জবাই করে বঙ্গবন্ধুর নামে গরীব-মিসকিনদের খাওয়ানো শুরু করেছেন এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে। সূত্রমতে, ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষকে ভালোবাসায় প্রতিপক্ষের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। পাপুল বিরোধী এ প্রচারণা লক্ষ্মীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীপুরবাসী এসব অপপ্রচার প্রত্যাখান করে কাজী পাপুলের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ লক্ষ্মীপুর গঠনে ঐক্যবন্ধ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রমতে, কাজী পাপুল বিরোধীরা জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনকে সামনে রেখে কাজী পাপুলকে বিতর্কিত করতে কোটি টাকার মিশনে নেমেছে। প্রকাশিত সংবাদটি এই মিশনের অংশ কিনা তা জানা যায়নি। কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদককে বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমি দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত কুয়েতে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। প্রকৃতপক্ষে কুয়েতসহ দেশে-বিদেশে আমার কোন জনশক্তি রপ্তানি বা ম্যানপাওয়ারের ব্যবসা নেই।
প্রকাশিত সংবাদে কুয়েতের যেসব গণমাধ্যমের সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে কোথাও আমার নাম নেই। ওই প্রতিবেদনে একজন এমপির কথা বলা হয়েছে। কমপক্ষে বাংলাদেশের ১০ জন এমপি জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করেন। আমি জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসার সাথে কোনরূপ ভাবেই সম্পৃক্ত না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের একটি পত্রিকা কোনরকম যাচাই-বাছাই না করেই আমার নাম জড়িয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে যা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। আর এটি সংবাদপত্রের নীতিমালার মধ্যেও পড়ে না। গণমাধ্যমের এসব নেতিবাচক সংবাদ আমাদের দেশের স্বার্থ নষ্ট করবে বলেই আমার বিশ্বাস।
তিনি আরো বলেন, আমি মানুষ ও মানবতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। লক্ষ্মীপুরের মানুষ সব সময় আমার পাশে ছিল, পাশে থাকবে। লক্ষ্মীপুরের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসাই সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আমার এগিয়ে চলার পথকে সুগম করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close