নোয়াখালীনোয়াখালীর খবরলক্ষ্মীপুর

পাপুল এমপির বিরুদ্ধে মানবপাচারের রিপোর্টকে ফেক নিউজ বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দূতাবাস মনে করে সংবাদটি হিংস্বাত্তক ও ষড়যন্ত্রমূলক।

বিশেষ প্রতিবেদক : কুয়েতে মানব পাচারে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়ে সেদেশের গণমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, যে সংসদ সদস্যের কথা বললেন, আমরা শুনেছি যে এটা ফেইক নিউজ।সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। আমাদের মিশন এখনো খবর দেয়নি, আমরা এখনো জানি না। তবে এটা বোধহয় কোনো একটা পত্রিকাতে বের হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ওই পত্রিকাই বোধহয় বলেছে যে, এটার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ আছে। গত ২/৩ দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মানবপাচারের জড়িত রয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এসব সংবাদ বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহনীয়তা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একজন সাংবাদিক মানবপাচারের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি উল্লেখিত কথাগুলো বলেন। কুয়েতস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান মোঃ আনিসুজ্জামানের বরাতে উল্লেখ করে লিখে এমপিকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর কুয়েত সিআইডি-তে তারা তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করেছেন। সিআইডি-তে থেকে মারাতিয়া কুয়েতি গ্রুপ অফ সত্বাধিকারী কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কুয়েত দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, পত্রিকাটি সিআইডি নিশ্চিত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বানোয়াট। আমার কখনো সিআইডি রেফারেন্স উল্লেখ করিনি।
পত্রিকাটি তাদের উল্লেখ করেছে “কুয়েতে মানব পাঁচারের হাজার কোটি টাকার কারবারে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের নাম এসেছে। কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডির অভিযানে মুখে বাংলাদেশের এই এমপি কুয়েত ছেড়েছেন”। পত্রিকার প্রকাশিত এই সংবাদকে হিংসাপূর্ণ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, পত্রিকাটি আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন এমপির নাম এসেছে বলে উল্লেখ করলে আমরা তাদেরকে জানাই এখানকার প্রতিবেদনে বা পত্র-পত্রিকার কোন এমপির নাম উল্লেখ করা হয়নি। কথা প্রসঙ্গে পত্রিকাটি কুয়েতে একজন এমপি ব্যবসায় করেছেন উল্লেখ করলে আমরা তাদের বলি যে, এখানে একজন মাননীয় সংসদ সদস্য সুনামের সাথে বড় ধরনের ব্যবসায় জড়িত আছেন। যদি এই পত্রিকাটি তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে (এমপিকে) নির্দেশ করে থাকে তাহলে আমরা মনে করি এটি ব্যবসায়ের প্রতি হিংসান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপেরই অংশ।
সূত্রমতে, কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এলাকার জনগনকে অকাতরে দান করেন। শুধু এলাকা নয় এলাকার বাহিরেও দুস্থদের পাশে তার পরিবার যে কোন দূর্যোগে অতি আপনজনের মতো পাশে গিয়ে দাড়ান। যার একটি প্রমাণ গত বছর বন্যার সময় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দূর্গতদের মাঝে লক্ষ লক্ষ টাকার ত্রাণ বিতরন করেন। অসহায়, দুস্থ, নিরন্ন, বস্ত্রহীন সে বাংলাদেশের যে অঞ্চলেরই হোকনা কেন সহায়তা পেয়ে থাকেন। লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষও পাপুলের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়নি। সাধারণ জনগনের মাঝে মিশে যাওয়া এবং তাদের সুখ দুঃখের সাথী হওয়ার কারনে তার নির্বাচনি এলাকা সহ পুরো লক্ষ্মীপুরে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
বিভিন্ন সূত্রমতে, এই আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তাই পাপুলের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়া পাপুল প্রতিষ্ঠিত কুয়েতের বিখ্যাত কোম্পানী মারাফিয়া কুয়েতিয়া গ্রুপ অফ কোম্পানীজ কুয়েতের সবচেয়ে বড় কোম্পানীর একটি। মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ তর বিখ্যাত কোম্পানী মারাফিয়া কুয়েতিয়া গ্রুপ অফ কোম্পানীজ কুয়েতের সবচেয়ে বড় কোম্পানী। কুয়েতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় বড় কাজগুলি পাপুলের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান করে থাকেন। বছরের পর বছর কাজী পাপুলের ব্যবসায়ী পলিসির সাথে প্রতিযোগিতায় না টিকে তারাও ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে। কুয়েতের এই মহলটি বাংলাদেশের রায়পুর লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীক পাপুল বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে যৌথ অপপ্রচারে নামে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পাপুল বিরোধী অপপ্রচার জোরদার করতে গত চারদিনে ঢাকার ধানমন্ডির একটি বাড়িতে অন্তত দুই দফা বৈঠকে বসেছে লক্ষ্মীপুরকেন্দ্রিক কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন মানবিক কর্মে পাপুলের গ্রহণীয়তা বৃদ্ধিতে এই মহলটি তা মেনে নিতে পারেনি। ধারনা করা হচ্ছে প্রকাশিত সংসাদ সমূহ সিন্ডিকেট সংবাদ। কেননা বিভিন্ন গনমাধ্যম ও অনলাইনে প্রকাশিত সব নিউজ এক ও অভিন্ন।
এদিকে আগামী মাসে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী রাজনীতি নিয়ন্ত্রকদের একটি অংশ মনে করেছেন কাজী পাপুল এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করতে পারেন। এই ভয় থেকেও পাপুল বিরোধীরা পাপুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে স্বচেষ্ট।
জেলা আওয়ামীলীগের একাংশে তীব্র বিরোধিতা শর্তেও কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল রায়পুরের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড ভিত্তিক দলকে সুসংগঠিত করেন। তিনি প্রতিটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অফিস, আসবাবপত্র এবং অফিস ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মহিলাদের মাঝে আওয়ামী লীগের সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক মহিলাকে সেলাই মেশিন দিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছেন। প্রতি ইউনিয়নের সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা বাড়াতে, যাতে কর্মীদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন তার জন্য প্রতি ইউনিয়নের সভাপতি/সম্পাদককে কাজী পাপুল মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছেন। ২/১টি জাতীয় কর্মসূচি ছাড়া তেমন কোন কর্মসূচি দেখা যায় না রায়পুরে। জাতিরজনকের মৃত্যুবার্ষিকীতে গরু জবাই কি জিনিস তা রায়পুরবাসী জানত না ২০১৭ সালের পূর্বে। ২০১৭ সাল থেকে কাজী পাপুল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রায়পুরের প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে গুরু জবাই করে বঙ্গবন্ধুর নামে গরীব-মিসকিনদের খাওয়ানো শুরু করেছেন এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে। এতেই স্থানীয় নেতৃত্বের একটি অংশের মাঝে হতাশা দেখা দেয়। যে নেতৃত্ব লক্ষ্মীপুরের কোন কোন উপজেলায় ১৯ বছরেও সম্মেলন সম্পাদন করতে পারেনি। তারা পাপুলের এমন সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সংকিত হয়ে পড়েন। তারা নিজেদের নেতৃত্ব পতন হতে পারে এমন আশংকা থেকে পাপুল বিরোধী প্রচারে নেমেছেন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংসদ সদস্য। তিনিও স্বামীর মতো জনসভায় নিজকে বিলিয়ে রাখেন সার্বক্ষণিক। পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলামও বাবা মায়ের মতো সময় পেলে ছুটে যান রায়পুরে। খোঁজ খবর নেন এপাড়া থেকে ওপাড়া, মহল্লা থেকে মহল্লার জনসাধারণের। মা বাবার মতো জনগনের মাঝে মিশে যাওয়ার কারনে ওয়াফাও সমভাবে রায়পুরের জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আসন্ন পৌর নির্বাচনে রায়পুর পৌরবাসী ওয়াফাকে মেয়র পদে চাচ্ছেন এমন সরব আলোচনা রায়পুরে। বিজ্ঞ মহল মনে করে বিশেষ বিশেষ পরিবারের আতœীয়তায় আবদ্দ লক্ষ্মীপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামী রাজনীতি যাতে নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে আসতে না পারে তার জন্যই পরিকল্পিতভাবে পাপুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close