জাতীয়নোয়াখালীর খবরবিশেষ সংবাদলক্ষ্মীপুর

পাপুল বিরোধী অপপ্রচার; কুয়েত দূতাবাসের বক্তব্যে বেরিয়ে আসলো থলের বিড়াল

বিশেষ প্রতিবেদক : ‘নিজেরা পারেনা তাই অন্যকেও করতে দিবেনা’ এই বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচারে নেমেছে তা কুয়েত দূতাবাসের লিখিত বক্তব্যে পরিস্কার হয়ে গেল। স্মারক নং-কুয়েত/প্রশাসন/বিবিধ-১/২০২০, তাং-১৯.০২.২০ইং-এর আলোকে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এস.এম আবুল কালাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলমকে যে পত্র লিখেছেন তাতেই থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। প্রতিমন্ত্রীকে লিখিত পত্রে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস পত্রিকায় সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। প্রকাশিত সংবাদের কোন তথ্যাদি বা প্রমাণ পত্রিকাটির হাতে নেই। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার দূতাবাস কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কোন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। আল কাবাসের রিপোর্টার দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন, লোকজনের কাছে শুনে তিনি সংবাদটি করেছেন। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে এই লোকজনগুলো কারা?
কেনইবা কুয়েতের ২য় শ্রেণীর দৈনিকের রিপোর্টার হঠাৎ করে সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গেলেন? বাংলাদেশের অন্তত অর্ধডজন সংসদ সদস্য কুয়েত কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকেন। কারো বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ না করে দেশের মানবিক, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে রহস্য রয়ে গেছে। আল কাবাসের ভূয়া এই সংবাদকে পুঁজি করে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর গণমাধ্যম যেভাবে তিলকে তাল করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন তা রীতিমতো অভাব হওয়ার বিষয়। পাপুল বিরোধী অপপ্রচারটি পুরোই যে ষড়যন্ত্র দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন তা বরাবরই বলে আসছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘পাপুল এমপির বিরুদ্ধে কুয়েতী ষড়যন্ত্র’, ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘দূতাবাসের ধারণা সংবাদটি ষড়যন্ত্রমূলক’, ২০ ফেব্রুয়ারি ‘পাপুল বিরোধী অপপ্রচারে বিদেশে ভূলণ্ঠিত হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি’ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘কর্মস্থলের সিংহ পুরুষ পাপুল এমপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কোটি টাকার মিশন ব্যর্থ’, শিরোনামে শীর্ষ সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন।
দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদসমূহে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল দূতাবাসের বক্তব্যে তার সত্যতা বেরিয়ে আসলো। দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদসমূহে উল্লেখ করা হয়েছিল কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। পাপুলের প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতার কাছে কুয়েতের স্থানীয় বাঙালী, নন বাঙালী অনেক শীর্ষ ব্যবসায়ী কুপোকাত হচ্ছিল বার বার। এদিকে লক্ষ্মীপুরে কাজী পাপুলের মানবিক রাজনীতির কাছে টিকে উঠছিল না কমিশন ও লুটপাট কেন্দ্রীক কতিপয় রাজনীতিবিদ। কুয়েতের পরাজিত ব্যবসায়ী এবং লক্ষ্মীপুরের ডুবন্ত রাজনীতিবিদদের যৌথ মিশনেই যে পাপুল বিরোধী অপপ্রচার করা হয়েছে তা কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে লিখিত পত্রে কুয়েত দূতাবাস উল্লেখ করেন, ‘অবৈধভাবে এক দেশ হতে অন্য দেশে লোক নিয়ে গেলে সেটাকে মানবপাচার বলে। কুয়েতে বাংলাদেশ থেকে এভাবে কোন লোক এসেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে সে বলে (আল কাবাসের সাংবাদিক) কোম্পানীগুলিতে হাজার হাজার লোক বাংলাদেশ থেকে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে লোক কুয়েত আনতে সরকারের লামানা (এনওসি) এবং ভিসার প্রয়োজন হয়। কোম্পানীগুলি এনওসি ও ভিসার মাধ্যমে বৈধভাবে লোক আনয়ন করছে। ইহা মানবপাচার হয় কি করে? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর সে (আল কাবাসের সাংবাদিক) দিতে পারেনি। তার কথা থেকে অনুমান হয় যে, প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন এবং সংবাদটি কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে কাদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এই মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ? এবং কারা এই কোটি কোটি টাকার মিশন নিয়ে পাপুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছিলেন? বাংলাদেশের কতিপয় গণমাধ্যম পাপুল এমপি কুয়েত থেকে লাপাত্তা এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এই সংবাদপত্রগুলি কারো দ্বারা প্ররোচিত কিনা তা তারাই জানেন। তবে এ প্রসঙ্গে কুয়েত দূতাবাসের বক্তব্য হল, ‘কুয়েতে কোন প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা হলে কুয়েত সরকার তার দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আবার বাইরে থেকে কুয়েতে প্রবেশ করার সময় তাকে গ্রেফতার করে। মাননীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে কুয়েত প্রবেশকালে এ ধরনের কোন অবস্থার সম্মুক্ষীন হননি, তিনি কুয়েতে অবস্থান করছেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন ও তার ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে কুয়েতের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল এভিডেন্স থেকে শহিদুল ইসলাম এমপিকে ‘গুড কনডাক্ট’ সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। কুয়েতের মিনিষ্ট্রি অব ইন্টেরিয়রের ক্রিমিনাল এভিডেন্স ডিপার্টমেন্ট হতে ‘ঘড়ঃ ঈড়হারপঃবফ’ মর্মেও প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেছে সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলকে।
কুয়েত দূতাবাস পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিতপত্রে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, দৈনিক আল কাবাস এবং আল কাবাসের সূত্র ধরে অন্যান্য পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসমূহ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট এবং বিজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে একজন সমাজসেবক, পরোপরকারী, লুটপাট এবং কমিশনভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তে আপাময় জনসাধারণকে নিয়ে মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যেখানে সমাজে শ্রেণী-বৈষম্য দূর করতে চাচ্ছেন, সেখানে তার বিরুদ্ধে এসব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিচার কি হতে পারে? রায়পুরবাসী সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে আছেন তা গত কিছুদিন ধরে পাপুল বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের বিচারের দাবিতে রায়পুরের সর্বস্তরের মানুষের মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভেই তা প্রমাণিত হয়েছে। এখনও প্রতিদিন কোন না কোন ব্যানারে রায়পুরের হাজার হাজার জনতা ষড়যন্ত্রকারীদের ধিক্কার জানাচ্ছে রাজপথে দাড়িয়ে। সচেতন মহল আশা করে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে কাজী শহিদ ইসলাম হতে পারেন অন্যতম যোদ্ধা। যার যুদ্ধ শুরু হবে মানবতার কল্যাণে। আর ষড়যন্ত্রকারীদের পতন ঘটবে এখানেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close