নোয়াখালীনোয়াখালীর খবরবিশেষ সংবাদ

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বাহাসে ওবায়দুল কাদেরের গাঙচিল আজ রক্তাক্ত

মো. রফিকুল আনোয়ার : গাংচিল। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্ব দক্ষিণের চর এলাহী ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড। সমুদ্রের পাশ ঘিরে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি গাংচিল মন কেড়ে নেয় যে কোনো বয়সী পর্যটক, নর-নারী কিংবা যুবক-যুবতীর। এই গাংচিলকে নিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার মেধাবী রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সাংবাদিক ওবায়দুল কাদের লিখেছিলেন গাঙচিল উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধকারী উপন্যাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র গাংচিল প্রায় শেষ পর্যায়ে। কবি, সাহিত্যিক যেখানে গাংচিলের অপরূপ সৌন্দর্য খুঁজে পায় সেই ওবায়দুল কাদেরের গাঙচিল আজ রক্তাক্ত। আজ বললে ভুল হবে, গত এক দশক ধরে এই গাংচিলে ঝরেছে অনেক রক্ত। অনেক যুবতী হারিয়েছে তার সম্ভ্রম, ধর্ষিত হয়েছে অসংখ্য নারী ও গৃহবধূ যার হিসেব নেই। অপেক্ষাকৃত গরিব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত গাংচিলের ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীরা লোক-লজ্জার ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। হামলা মামলা ও অগ্নিসংযোগ যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে গাংচিলে। বিভিন্ন সূত্র, সরজমিন পর্যালোচনা এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট গাংচিল বিবেচিত হয় বিভিন্ন মাদক পরিবহনের অন্যতম রুট হিসেবে। মায়ানমার কেন্দ্রিক চট্টগ্রাম ও সন্দীপ-এর একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অবৈধ কারবারের আস্তানা বা ঘাটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে গাংচিল। যার দখল নিয়ে মূলত লড়াই। দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার দখল নিতে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের একটি অংশ গাঙচিল দখলের আধিপত্যের লড়াইয়ে জড়িত হচ্ছে বারংবার। এই আধিপত্যবাদের সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয় রাশেদ নামের এক যুবক। নিহত রাশেদ এলাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অবৈধ কারবারে জড়িত থাকার নানা অভিযোগ। গত ৯ মে রাতে তাকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে তার স্ত্রী। এদিকে অনেকেই আবার বলাবলি করছে রাশেদ নিহত হয়েছে স্থানীয় গণপিটুনিতে। রাসেল হত্যার অভিযোগে মামলা অভিযুক্ত প্রধান আসামি মোজাম্মেল মেম্বার বিগত দিনগুলোতে ছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের তোপের মুখে। এক সময়ের আওয়ামী বিদ্বেষী আব্দুর রাজ্জাক অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে চর এলাহী ইউনিয়নের চেয়াররম্যান নির্বাচিত হন অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিতে। কথিত আছে স্থানীয় রাজনীতি ও ক্ষমতার অগ্রভাগে থাকা কিছু মহলবিশেষের ক্রীড়ানক হিসেবে আবির্ভূত হন আব্দুর রাজ্জাক। রাজ্জাক-মোজাম্মেল বিরোধে তখন অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এর কোনো চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি। উপজেলা কেন্দ্রিক ক্ষমতার পালাবদলে রাজ্জাকের ক্ষমতা হ্রাস পেলেও বহাল থাকে মোজাম্মেলের ক্ষমতা। বিভিন্ন সূত্র মতে রাজ্জাকের ক্ষমতা হ্রাসের সুযোগে রাশেদের মত কিছু লোকদের সংঘবদ্ধ সম্মিলন ঘটে চরএলাহীতে। পুলিশ বলছে নিহত এবং অভিযুক্তরা সকলেই খারাপ প্রকৃতির লোক। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, খারাপ প্রকৃতির লোকেরা কিভাবে দিনের পর দিন এলাকায় দাঁবড়িয়ে চলে। রাশেদ হত্যাকে কেন্দ্র করে একটি মহল অভিযুক্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা মামলা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার নতুন অভিযোগ উঠেছে অনেককেই মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ চাওয়া হচ্ছে।
রাজনীতিবিদদের বাহাসে ওবায়দুল কাদেরের গাঙচিল আজ রক্তাক্ত। কথায় কথায় রক্ত ঝরা আজ গাঙচিলের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন অতীতে বারবার ব্যর্থ হলেও কিছু সফলতার আশায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পুলিশ ফাঁড়ি আবার গাংচিলবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় কিনা তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close