আন্তর্জাতিকওপার বাংলা

মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন মুকুল , লক্ষ্য ২১ এ বাংলা জয়  

 

ডেক্স রিপোর্ট ;

পাখির চোখ 2021। আর সে কথা মাথায় রেখেই ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ মুকুল রায়কে তুরুপের তাস করতে চলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যার ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব পেতে চলেছেন মুকুল রায়। এমনই জল্পনায় আপাতত সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল।

শীঘ্রই বড়সড় রদবদল হতে চলেছে মোদির মন্ত্রিসভায়। তাঁকে মন্ত্রী করার প্রকাশ্য ঘোষণা না হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ডাকে ইতিমধ্যেই মুকুল রায় দিল্লি পৌঁছেছেন বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, একসময়ের তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা ভোট রাজনীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ মুকুল রায়কে পূর্ণমন্ত্রী করে একুশের বিধানসভায় তার পূর্ণ ফায়দা তোলাই গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ মহলের লক্ষ্য। তৃণমূলের ‘কিক অ্যান্ড কর্নার’ জানাই শুধু নয়, একেবারে বুথ স্তরের কর্মীদের মন বুঝে নিজের দিকে টানার যে অসীম ক্ষমতা রয়েছে মুকুল রায়ের মধ্যে, তা মেনে নিয়েই মূলত তাঁর করিশ্মাকে কাজে লাগাতে মরিয়া মোদি-শাহরা। উদ্দেশ্য, যেন তেন প্রকারে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকেই ভাঙতে হবে ঘাসফুলের ঘর। আর বলা বাহুল্য, এ কাজে মুকুল রায়ের চেয়ে যোগ্যতম দ্বিতীয় বিকল্প নেই গেরুয়া শিবিরের কাছে। তাই আপাতত তাঁকে ক্যাবিনেটে এনে ছ’মাসের মধ্যে রাজ্যসভা থেকে জিতিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের।


একটু ফ্ল্যাশব্যাকে চোখ রাখা যাক। 2004-এর লোকসভা ও 2006-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক দায়িত্ব বর্তায় মুকুল রায়ের কাঁধে। আর দায়িত্ব পেয়েই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। যার ফলে 2008-এর পঞ্চায়েত ভোটে মেলে অভূতপূর্ব সাফল্য। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ 24 পরগনার দু’টি জেলা পরিষদ দখল-সহ দক্ষিণবঙ্গের বহু গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে নজর কাড়ে তৃণমূলের সাফল্য। যা আরও ত্বরান্বিত হয় 2009-এর লোকসভা নির্বাচনে। ব্যারাকপুর, তমলুক-সহ রাজ্যের সিংহভাগ লালদুর্গ তছনছ হয়ে যায় পরিবর্তনের ঝড়ে। 2010-এর পুরভোটেও ঘাসফুলের জয়জয়কার। বৃত্ত সম্পূর্ণ হয় 2011-য় বাংলা দখলের মধ্যে দিয়ে। দলে মমতার পরই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন কাঁচরাপাড়া ঘটক রোডের রায় পরিবারের গৃহকর্তা। এরপর 2013-র পঞ্চায়েত নির্বাচনেও চোখধাঁধানো নিরঙ্কুশ সাফল্য পায় তৃণমূল। ইতিমধ্যেই মুকুল রায়ের কলকাঠিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘাস ফুল শিবিরে ভিড়তে থাকেন একের পর এক বাম বিধায়ক, কাউন্সিলররা। ফলে একের পর এক পুরসভার দখল যেতে থাকে তৃণমূলের হাতে। কিন্তু তাল কাটে 2014-র লোকসভা নির্বাচনের আগে। অভিমানে কিছুদিন দূরে সরে থাকলেও ‘দিদির ডাকে’ 2016-র ভোট বৈতরণী পার করতে মাঠে নামেন মুকুল। সারদা-নারদার মতো বিতর্কের মাঝেও আসে সাফল্য। কিন্তু ফের দলনেত্রীর সঙ্গে তৈরি হয় দূরত্ব। যার চূড়ান্ত পরিণতি, 2017 সালে মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদান। মুকুল রায়ের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে 2018-র পঞ্চায়েত ভোটে বাংলায় আশাতীত ফল করে বিজেপি। আর এরপরই মুকুল রায়ের হাত ধরে মোদির উন্নয়নের অনুপ্রেরণায় ঘাসফুল শিবিরের একের পর এক বিধায়ক, সাংসদরা নাম লেখাতে শুরু করেন বিজেপিতে। 2019-এর লোকসভা নির্বাচনে মুকুল রায়ের সাংগঠনিক দক্ষতায় ভর করেই দুই থেকে আঠারোয় পৌঁছে যায় বিজেপি। বলা বাহুল্য বিজেপির টিকিটে জিতে সাংসদ হন তৃণমূল ছেড়ে আসা সৌমিত্র খাঁ, নিশীথ প্রামাণিক, খগেন মুর্মুরা। মতুয়া সম্প্রদায়ের মন কাড়তে বনগাঁয় লোকসভার প্রার্থী পদে শান্তনু ঠাকুরকে বেছেও বাজিমাত করেন মুকুলই। তৃণমূল ভেঙে পুরপ্রধান, কাউন্সিলর, বিধায়কদের ঢল নামে বিজেপিতে। আর এই দলবদলের কারিগর সেই মুকুল রায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, অনেকেই মনে করেছিলেন, শাসকদ

লের ভাঙন কেবলই সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু তখনই হোঁচট। মুকুলের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকায় ততদিনে দলের মধ্যেই অনেকে তাঁর বিরোধিতা শুরু করেন বলে শোনা যায়। এরই মধ্যে লাভপুরের বিতর্কিত তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামও মুকুল রায়ের হাত ধরে গায়ে গেরুয়া চাদর চাপাতেই দলের মধ্যে স্পষ্ট হয় মুকুল বিরোধিতা। চাপে পড়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যান মুকুল। যার খেসারত বিজেপিকে দিতে হয় তিনটি বিধানসভার উপনির্বাচনে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে তৃণমূল। আর এরপরই বিজেপিতে ফের গুরুত্ব বাড়ে মুকুল রায়ের। অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা বুঝতে পরেন বঙ্গ রাজনীতিতে জয় হাসিল করতে হলে মুকুল রায়কে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ খেলতে দিতে হবে। যার প্রতিফলন চোখে পড়ে সাম্প্রতিক বিজেপির রাজ্য কমিটিতে। স্বাধীনভাবে কাজ করা যাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয় মুকুল অনুগামীদের। যুব মোর্চায় সৌমিত্র খাঁ, এসটি মোর্চায় খগেন মুর্মু, এসসি মোর্চার মাথায় বসানো হয় দুলাল বরকে। গুরুত্বপূর্ণ পদে তুলে আনা হয় মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়ক তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তকেও। মুকুলের গুরুত্ব যে দলে বাড়ছে, তার প্রমাণ মেলে গত সোমবার অমিত শাহের ভার্চুয়াল সভাতেও। সেখানে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বক্তব্য রাখার সুযোগ না পেলেও বক্তব্য রাখেন মুকুল রায়। এমনকী, তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁকে ওইদিন বক্তব্য রাখতে দেখা যায় দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের আগে। যা ঘিরেও জল্পনা ছড়িয়েছে।

আর এবার সরাসরি মুকুল রায়কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নিয়ে এসে মোদি-শাহরা তাঁকে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে বলীয়ান করে বাংলা জয়ের পথ সুগম করতে চাইছেন বলেই গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে।
বরাবরই মুকুল ধীরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী। ঘনিষ্ঠ মহলে বারবার তাঁকে বলতে শোনা গেছে, পিচে পড়ে থাকলে রান আসবেই। আরও একবার সঠিক প্রমাণ হতে চলেছে তাঁর সেই দর্শন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দলবদলের পর মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় 50টির কাছে মামলা দায়ের হয়েছে বিভিন্ন থানায়। ফলে রাজ্যে মুকুল রায়ের অবাধ গতিবিধিতে রাশ পড়েছে বহু ক্ষেত্রেই। তাই এবার মন্ত্রিত্ব দিয়ে গেরুয়া শিবির তাঁকে বাড়তি রক্ষাকবচ দিতে চলেছে বলেও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
সূত্রের খবর, কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন বীজপুরের ভূমিপুত্র এই প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁর অনুগামী নিশীথ প্রামাণিকও রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার এই জল্পনা কতটা সত্যি হয়।

সংবাদ সুত্র … এইকাল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close