আন্তর্জাতিকলক্ষ্মীপুর

দেশি-বিদেশী  ষড়যন্ত্রের শিকার সাংসদ শহীদ ইসলাম পাপুল……সেলিনা ইসলাম এম পি  

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশি-বিদেশী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার কুয়েতে আটক থাকা প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের সাংসদ শহীদ ইসলাম পাপুল। কুয়েত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে পাপুলের কোম্পানি ’মারাফি কুয়েতিয়ার’ ব্যবসায়িক চুক্তি হওয়ায় সেদেশে তার প্রতিদ্বন্ধীরা তার বিরুদ্বে একজোট হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচিত পাপুলের বিপরীতে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে বিভিন্ন শত্রুর সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম।
তিনি বলেন, পাপুলকে ডেকে নিয়ে কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক রেখেছে কুয়েত পুলিশ। প্রকৃতপক্ষে আমার স্বামী মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি খ্যাতনামা মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও। এই কোম্পানিতে কুয়েতি অংশীদারতও¡ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুয়েতের সঙ্গে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি কুয়েতের ’ক্রিমিনাল এভিডেন্স ডিপার্টমেন্ট’ থেকে ’গুড কন্ডাক্ট’ সার্টিফিকেটও পেয়েছেন পাপুল। এতে পাপুলের ব্যবসায়িক সুনাম আরও বাড়তে থাকে।
সেলিনা ইসলাম বলেন, পাপুল একজন গর্বিত রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী চলক হলো ফরেন রেমিট্যান্স। আর পাপুল সেই রেমিট্যান্সই দেশে নিয়ে আসছেন। অথচ একজন সৎ ব্যবসায়ী এবং সুস্থ ধারার রাজনীতিবীদের সফলতাকে ভূলণ্ঠিত করার হীন প্রয়াশে জোট বেধেছে দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা। যদিও তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, পাপুল আটক হওয়াতে কুয়েতে তার কোম্পানিতে কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী তাদের কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতে অন্য দেশের মতো কুয়েতেও তিন মাস ধরে লকডাউন চলছে। ফলে অনেক অভিবাসী কর্মী বেকার রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জন শ্রমিক সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। এসব বিষয় নিয়ে কুয়েতের সিআইডি সংশ্লিষ্ট প্রবাসী শ্রমিকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
এদিকে, বাঙ্গালি শ্রমিকদের ১০ লক্ষ টাকা দেয়ার লোভ দেখিয়ে পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার অপরাধে ইতোমধ্যে ১১ জন শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কুয়েত পুলিশ।
সেলিনা ইসলাম বলেন, পাপুলের হাত ধরে দেশের অনেক বেকার যুবক কুয়েতে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া, দেশের অসংখ্য গরীব মানুষের জন্য নিবৃত্তে দান করে যাচ্ছেন এই সাংসদ। নিজ এলাকার বিত্তহীন মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াসহ সব ধরণের ভরন পোষণের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন পাপুল। ধর্মীয় স্থাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরণের সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
তার নির্বাচনী এলাকা তথা লক্ষীপুরের গরীব-দুখী মানুষের আশ্রয় ও ভরসায় পরিণত হয়েছেন এই নেতা। মূলত এসব কারণে পাপুলের জনপ্রিয়তাও দিন দিন বাড়তে থাবে। অনেকেই এতে ঈর্ষাণি¦তবোধ করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। আর এই দেশ-বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার শহিদ ইসলাম পাপুল।
জানা গেছে, কুয়েত সরকারের সঙ্গে শতাধিক বড় বড় প্রকল্পের কাজ করছে মারাফি কুয়েতীয়া কোম্পানী। স্থানীয় একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন থেকেই এই বিষয়ে কোম্পানীটির ওপর নাখোশ। আর এদিকে বাংলাদেশে এই দম্পতি সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গের শত্রুতে পরিনত হন পাপুল।
মারাফি কুয়েতীয়া সমৃক্তরা মনে করেন দুই দেশের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পাপুলকে কুয়েতের ব্যবসা থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করছে। কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিক নূর হোসেন বলেন, পাপুল সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সার্টিফিকেটও তার আছে। তার কোম্পানিতে কর্মরতরা অন্য যেকোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের তুলনায় ভাল আছেন।
মারাফি কুয়েতিয়ার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমপি পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়ার শ্রমিকদের বেতন বাবদ গত তিন মাসে প্রায় ৮০ কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হয়েছে কোম্পানিকে। করোনার কারনে কিছু সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেকার হয়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক, এই বেকার শ্রমিকদের সকলকে মাসে মাসে ব্যাসিক বেতন দিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মারাফির বিভিন্ন শ্রমিক ক্যাম্পে চাল ডাল তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়া হচ্ছিলো। কিছু চলমান প্রজেক্টগুলোতে ফুল বেতনও দেয়া হয়েছে, এখনো অনেককেই বেতন দিচ্ছে কোম্পানি। যদিও কুয়েতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি।
সেলিনা ইসলাম বলেন, কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূত বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এবং কুয়েতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই বিষয়টির সুরাহা হবে।
তিনি বলেন কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোজ খবর রাখছে।
জানতে চাইলে কুয়েতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম বলেন তারা ইতোমধ্যে পাপুলকে আটকের কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তারা যোগাযোগ রাখছেন। একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে পাপুলের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
জানা গেছে, আলোচিত এই সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে নামেন। ব্যাপক জন¯্রােতের কারণে তিনি তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থনও আদায় করে নেন।
শুধু নিজে এমপি হননি সংরক্ষিত নারী আসনে স্বতন্ত্র কোটায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেশের রাজনীতিতে রাতারাতি আলোচনা ও বিস্ময় সৃষ্টি করেন এই দম্পতি।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের সিআইডির হাতে আটক হওয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী পাপুলকে কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের মানুষ তাকে খুব একটা চিনতো না। কিন্তু হঠাৎ করে দেশে এসে ব্যাপক দান অনুদানের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close