লক্ষ্মীপুর

রায়পুরে ইউএনও-পিআইওর দ্বন্দ্বে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকান্ড

 

প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইউএনও-পিআইওর দ্বন্দ্বে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি রায়পুর উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের ১৬০ টন গম ফেরত দেয়া হয়েছে। ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের এ বরাদ্দ হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
গত বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বরাদ্দ ফেরত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ অবস্থায় বাতিল হওয়া প্রকল্পের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের (ইউপি) মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এদিকে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের নেতারা বলছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্য প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত দেয়ার মাধ্যমে রায়পুরবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হল। দ্বন্দ্ব নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বরাদ্দে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯৬ টন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের একটি প্রকল্পের ৯ টন ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৫ টন গম বরাদ্দ হয়। রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এসব বরাদ্দ হয়। তবে পিআইওর ভাষ্যমতে, ইউএনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৩০ জুন বরাদ্দগুলো ফেরত পাঠিয়েছেন। রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জাল হোসেন বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়া রায়পুরের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। চলমান সংকটগুলো নিয়ে আমরা ডিসির সঙ্গে বৈঠক করব। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনে এত অলস ইউএনও দেখিনি। তিনি ২৮ জুন রাতেও আমাদের বাসায় ডেকে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের ১৬০ টন বরাদ্দকৃত গম ছাড় দেয়ার কথা বলেছিলেন। পরে তার একগুয়েমির কারণে বরাদ্দগুলো ফেরত যায়।’ এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার ঘটনায় আমার কোনো গাফিলতি ছিল না। এ বিষয়ে পিআইওর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি আমি অবগত না। তবে ইউএনও-পিআইওর মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা আমি শুনেছি। তাদের দ্বন্দ্ব নিরসনে আমি কথা বলব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close