জাতীয়তথ্য ও প্রযুক্তি

বাড়ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মামলা, ধরাশায়ী শিক্ষিত সমাজ-

প্রতিবেদকঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় ক্রমেই বাড়ছে। মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাংবাদিকরাই এ আইনে বেশি ধরাশায়ী হচ্ছেন। রক্ষা পাচ্ছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাউল শিল্পী, কার্টুনিস্ট, পোশাক শ্রমিক, এমনটি চিকিৎসকরাও।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুন মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যত মামলা হয়েছে তার ২৫ ভাগ আসামি হলেন সাংবাদিকরা। এসব মামলায় ৫০ জনেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জনের অধিক সাংবাদিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আইন বিশ্লেষকরা বলছেন,করনা মোকাবিলায় সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিক ও নাগরিকদের মুখ বন্ধ করতেই আইনটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে এ আইনে মামলার সংখ্যা ছিল ৩৪টি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩টি এবং ২০২০ সালের ছয় মাসে অর্থাৎ বছরের অর্ধেক সময় মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১১১টিতে। চলতি বছরে মোট ২০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এর মধ্যে ৫৩ জনই সাংবাদিক। এছাড়া ২০ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী,পাঁচ শিক্ষক ও আট শিক্ষার্থীও রয়েছেন। বাউল শিল্পী, কার্টুনিস্ট, পোশাক শ্রমিক, এমনকি চিকিৎসকও বাদ যাননি মামলা থেকে।

আইনের এ ধারায় অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে- রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করা, বিভ্রান্তি ছড়ানো, জেনেশুনে মিথ্যা বলা, সম্পূর্ণ বা আংশিক তথ্য বিকৃত করাও এ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। মানহানি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর শঙ্কা থেকেও মামলা করার সুযোগ আছে। অন্য কারও তথ্য সংগ্রহ, বিক্রি, দখল, সরবরাহ ও ব্যবহারের অভিযোগেও মামলা করা যায়। আইনের ২৬ ধারায় এগুলো ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দায়ের করা অর্ধশত মামলা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাতির পিতা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘কটূক্তি’র অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকার তারাগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইমনকে। বাদী হানিফ মোহাম্মদ নিপুণ। মামলায় ‘ইমন’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন ভাষায় কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। সেখানে ইমনের বয়স উল্লেখ ছিল ২৬ বছর। গ্রেফতারের পর পুলিশ জানতে পারে যে, তার প্রকৃত বয়স ১৫ বছর। আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের পর শিক্ষার্থী মো. ইমনকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close