অন্যান্য

সেনবাগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারনের ঘটনায় গ্রেফতার – ৩

সেনবাগ প্রতিনিধি – নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পুর্ব ছাতারপাইয়া গ্রামে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৮আসামীর মধ্যে তিন আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ছাতাপাইয়া বদর বাড়ীর আলমগীরের পুত্র হাসান, আবদুল কাউয়ুমের পুত্র শুভ ও আবদুল হকের পুত্র রকি। মামলার মুল আসামী ধর্ষক পারভেজ ঘটনার পরদিন থেকে পলাতক রয়েছে। এরা সবাই কিশোর গ্যাংএর সদস্য, পারভেজের নেতৃত্বে এদের ১৯জনের একটা কিশোর গ্যাং রয়েছে বলে জানা যায়।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর কোলে দুই বছরের একটি পুত্র সন্তান ও গর্বে একটি সন্তান রয়েছে। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার অপবাদ তার স্বামী নাছির উদ্দিন বাবু তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। ভেঙ্গে গেছে তার সাজানো সোনার সংসার। এমন পরিস্থিতিতে একুল ঐকুল দুইকুল হারিয়ে এখন সে দিশেহারা।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া পুর্ব পাড়া মাইক্রোবাস চালক নাছির উদ্দিন বাবু স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে গত ৯অক্টোবর শুক্রবার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম যান, আর এ সুযোগে মাইক্রো চালক শিমুলের ছোট ভাই পারভেজ সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মাইক্রো চালক নাছির উদ্দিন বাবু ঘরে ডুকে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং পারভেজের সহযোগীরা বাহির থেকে জানালার ফাঁক দিয়ে ধর্ষনের চিত্র মোবাইলে ভিডিও ধারন করে। পারভেজ ধর্ষণ কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর পরই হাসান, শুভ,রকিসহ ৮/১০জন ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূ কে ভিডিও চিত্র দেখিয়ে কু প্রস্তাব দেয় এবং গৃহবধূর নিটক ৩০ হাজার টাকা দাবী করে । একপর্যায়ে ধারন করা ভিডিও তার স্বামী ও আতœীয় স্বজনের ম্যাজেঞ্জারে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। গৃহবধূ এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়া কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা তার স্বামীর ফেসবুক ম্যাজেঞ্জারে ভিডিও ফুটেজটি পাটিয়ে দেয়।
তার স্বামী বাবু ফেসবুকের ম্যাজেঞ্জারে ভিডিও ফুটেজটি পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে রাত ১১টায় বায়েরাভাই রুবেলকে মোবাইল ফোনে কল করে ঘটনাটি জানায় এবং সকালে তার শাশুড়িকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসতে বলেন।
রাত দুইটা সে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসে,সকালে তার বায়েরাভাই রুবেল ও তার শাশুড়িকে ডেকে এনে এই বৌ রাখবে না মর্মে ধর্ষিতা গৃহবধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর বিষয়টি আতœীয় স্বজনের মাধ্যমে মিমাংশা চেষ্টা করে ১০দিন সময় পার করে মিমাংশায় ব্যার্থ হয়। এরপর ২০ অক্টোবর স্থানীয় চেয়ারম্যান কে বিষয়টি জানিয়ে বিচার চায়। চেয়ারম্যান বিচার করে দিবে বলে তাদেরকে বাড়িতে পাটিয়ে দেয়। এরপর তারা স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল হক মজুমদারকে বিষয়টি জানালে তিনি ভিকটিম সহ তাদেরকে থানায় পাঠিয়ে দেন।
পরে বিকেলে তারা সেনবাগ পৌর শহরে সাংবাদিক হারুনের বাসায় এসে বিস্তারিত ঘটনা বলেন।
সাংবাদিক হারুন ঘটনা পুরো জানার পর ভিকটিম সহ তাদেরকে নিয়ে সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধার নিকট নিয়ে বিস্তারিত জানালে তিনি এবং তদন্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ব্যাপক জিঙ্গাসাবাদের পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ৮জনের নাম ও অজ্ঞাত ৫/৬জনকে আসমী করে মামলা রুজু করেন। যার সেনবাগ থানা মামলা নং ২০,তাং ২১/১০/২০২০ইং। মামলা দায়েরের পর এসআই তারেকের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেফতার করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close